আইটিইউ সদস্য পদ অর্জনের ৪৮তম বার্ষিকীতে ডাকটিকিট অবমুক্ত

আইটিইউ সদস্য পদ অর্জনের ৪৮তম বার্ষিকীতে ডাকটিকিট অবমুক্ত

তাজা খবর:

জাতিসংঘের টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ অর্জনের আজ (৫ সেপ্টেম্বর) ৪৮তম বার্ষিকী। ১৯৭৩ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আইটিইউ’র সদস্য পদ লাভ করে।

দিবসটি উপলক্ষে ডাক অধিদফতর স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটা কার্ড প্রকাশ করেছে।

আজ রোববার (৫ সেপ্টেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এ বিষয়ে ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট ও ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম অবমুক্ত করেন। এছাড়া ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড উদ্বোধন করা হয়।

মন্ত্রী এ সংক্রান্ত একটি সীলমোহর ব্যবহার করার পাশাপাশি এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে মোস্তাফা জব্বার বলেন, আইটিইউ-র সদস্য পদ অর্জন ছিল বঙ্গবন্ধুর দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বের ফসল। টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক স্থাপন ও নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করার জন্য বেতার তরঙ্গ নির্ধারণ, স্যাটেলাইট অরবিট বরাদ্দকরণ এবং টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়নে নিয়োজিত জাতিসংঘের এই বিশেষায়িত সংস্থার মূল কাজ।

তিনি বলেন, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়েও বঙ্গবন্ধু এই প্রতিষ্ঠানটির সদস্য পদ অর্জনের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের বীজ বপন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্বের সাথে আধুনিক টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে বেতবুনিয়ায় উপগ্রহ ভূকেন্দ্র স্থাপন, টিএন্ডটি বোর্ড প্রতিষ্ঠা এবং ইউপিইউ-এর সদস্যপদ অর্জনের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশের বীজটিকে অঙ্কুরিত করেন।

মোস্তাফা জব্বার জানান, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার পর দীর্ঘ ২১ বছরের স্থবিরতা অতিক্রম করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়ে অঙ্কুরিত বীজটিকে চারা গাছে রূপান্তর করেন। এ সময়ের মধ্যে মোবাইল ফোন এবং কম্পিউটার প্রযুক্তি সাধারণের নাগালে পৌঁছে দেওয়াসহ ডিজিটাল প্রযুক্তি বিকাশে যুগান্তকারী বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপিত হয়।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে তৎকালীন সরকার বিনা টাকায় সাবমেরিন সংযুক্তি থেকে বাংলাদেশকে বঞ্চিত করে ডিজিটাল প্রযুক্তি দুনিয়া থেকে বাংলাদেশকে ১৪ বছর পিছিয়ে দেয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতৃত্বে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি গত ১২ বছরে বাংলাদেশকে অগ্রগতির পথে ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০১০ সালে এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ আইটিও-র কাউন্সিল সদস্য পদে নির্বাচিত হয় বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্প এবং ২০১৮ সালে সেন্ট্রাল বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন মনিটরিং প্লাটফর্ম (সিবিভিএমপি) সল্যুশনটি আইটিইউ টেলিকম অ্যাওয়ার্ড লাভ করে।

স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও ডাটাকার্ড আজ থেকে ঢাকা জিপিও’র ফিলাটেলিক ব্যুরো এবং পরে দেশের অন্যান্য জিপিও এবং প্রধান ডাকঘর থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *