আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলছে ভাসানচরের

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলছে ভাসানচরের

তাজা খবর:

টেকনাফ ও উখিয়ার ঘিঞ্জি ক্যাম্পগুলোর ওপর থেকে চাপ কমাতে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার মাঝখানে চারদিক নদীবেষ্টিত ভাসানচরে অন্তত এক লাখ রোহিঙ্গাকে স্থানান্তরে বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প গ্রহণ করে বাংলাদেশ। ১৩ হাজার একর আয়তনের এ চরের ৪৩২ একর জমিতে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে এরই মধ্যে সরকার গড়ে তুলেছে বিশেষ আশ্রয়ণ প্রকল্প। যেখানে রোহিঙ্গাদের জন্য রয়েছে নানা সুযোগ সুবিধা। ইতোমধ্যে ছয় দফায় সরকার ১৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে দ্বীপটিতে স্থানান্তর করেছে। জাতিসংঘসহ নানা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংগঠন এ স্থানান্তর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বিরোধিতা করেছিল।

তবে দীর্ঘ আলোচনা ও জাতিসংঘসহ নানা সংস্থার মুখপাত্রদের ভাসানচর পরিদর্শনের পর এ নিয়ে বরফ গলতে শুরু করে। অবশেষে ভাসানচর প্রকল্পের সার্বিক কর্মকা-ে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হচ্ছে জাতিসংঘ। ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় কীভাবে কাজ করবে, তা নিয়ে আগামী শনিবার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জাতিসংঘ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করবে। ইতোমধ্যে এ সমঝোতার খসড়া চূড়ান্ত করেছে বিশ্ব সংস্থাটি। এর মধ্য দিয়ে ভাসানচর প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় জাতিসংঘের যুক্ততা নিয়ে যে এমওইউ সই হবে তার খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের মধ্যে এ এমওইউ সই হবে। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেছিলেন। কয়েক দফা আলোচনার পর এমওইউ খসড়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। মূলত ভাসানচরে জাতিসংঘ কীভাবে কার্যক্রম চালাবে, সে বিষয়গুলো চার পৃষ্ঠার ওই এমওইউতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার ও ভাসানচরের পরিবেশ পরিস্থিতি যেহেতু ভিন্ন, কার্যক্রমের ধরনও হবে আলাদা। কক্সবাজারে শুরু থেকেই জাতিসংঘকে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নজর দিতে হয়েছে। সে তুলনায় ভাসানচরে কিছুটা ভালো পরিস্থিতিতে মানবিক কার্যক্রম চালাবে তারা।

এর আগে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ভাসানচর কতটা ঝুঁঁকিমুক্ত, রোহিঙ্গাদের অবাধে ভাসানচর থেকে বাংলাদেশের মূল ভূখ-ে চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত, স্বেচ্ছায় ওই দ্বীপে নেওয়া হয়েছে কিনা এসব নিয়ে জাতিসংঘের প্রশ্ন ছিল। তার পরও সরকার কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তর অব্যাহত রাখে। একপর্যায়ে সরকারের আমন্ত্রণে ভাসানচরে একটি কারিগরি দল পাঠায় জাতিসংঘ। কাছাকাছি সময়ে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা ও ঢাকায় পশ্চিমাসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের পর জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) দুই সহকারী হাইকমিশনার ভাসানচর সফর করেন। মূলত এসব সফরের পরই জাতিসংঘের কারিগরি দলসহ প্রতিনিধিরা ভাসানচর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখান।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবিকার কর্মসূচি, যাতায়াতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জাতিসংঘ ও বাংলাদেশ আলোচনা করে কাজের পরিধি ঠিক করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা কার্যক্রম মিয়ানমারের ভাষায় এবং সে দেশের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী পরিচালিত হবে। যাতে রোহিঙ্গারা তারা নিজ ভূমি রাখাইনে ফিরে গিয়ে সেখানকার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে। কাজের ক্ষেত্রেও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে মিয়ানমার, অর্থাৎ রাখাইনের পরিস্থিতি। ভাসানচরের থাকা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে জীবিকার জন্য তৈরি না করে তাদের আদি নিবাসের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর বিষয়টিকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সমঝোতার খসড়ায় স্বাস্থ্যগত বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ভাসানচর থেকে বাইরে যাওয়ার অনুমতির বিষয়টি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে তাদের আবার ভাসানচরে ফিরে আসতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *