আমদানির ভোগ্যপণ্য

আমদানির ভোগ্যপণ্য দ্রুত দেশে পাঠানোর নির্দেশ

তাজা খবর:

রমজান মাস সামনে রেখে আমদানিকৃত ভোগ্যপণ্য দ্রুত দেশে পাঠাতে বাংলাদেশ মিশনের বাণিজ্যিক উইংগুলোকে সহযোগিতা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে থাকা ৬১টি বাংলাদেশ মিশনে বর্তমানে ২৩টি বাণিজ্যিক উইং রয়েছে। এসব বাণিজ্যিক উইংয়ে একজন করে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর নিয়োজিত রয়েছেন।

রোজা সামনে রেখে অস্ট্রেলিয়া থেকে ছোলা, ব্রাজিল থেকে চিনি, আর্জেন্টিনা থেকে চিনি ও সয়াবিন তেল, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পামওয়েল, ভারত থেকে পেঁয়াজ, ডাল, আদা, রসুন, খেজুর ও গম, চীন থেকে আদা, রসুন, নেপাল থেকে ডাল, মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ, মাছ, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে খেজুর আমদানি হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে এসব জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এসব দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য দ্রুত দেশে পাঠাতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার জন্য নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিয়োজিত কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হন। ওই বৈঠকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী সবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং কীভাবে দেশের রপ্তানি ও আমদানি কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের পরামর্শ দেন।

এ ছাড়া রমজান মাস সামনে রেখে ব্যবসায়ীরা যাতে দ্রুত দেশে ভোগ্যপণ্য নিয়ে আসতে পারেন সে বিষয়ে তাঁদের সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, এ বছর রোজা সামনে রেখে ঋণপত্র বা এলসি খোলার পরিমাণ প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে।

এ ছাড়া এলসি নিষ্পত্তিসহ দ্রুত আমদানি প্রক্রিয়া শেষ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সহযোগিতা করেছে।

ভোগ্যপণ্য আমদানিতে সরকার শুল্ক সুবিধার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। এ অবস্থায় কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপরও তাগিদ দিয়েছেন। গার্মেন্টস পণ্যের পাশাপাশি পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া এবং কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর সরকারি প্রণোদনা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী এই তিন খাতের পণ্য উৎপাদন বাড়িয়ে তা রপ্তানি করা হবে। এক্ষেত্রে কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

জানা গেছে, রপ্তানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদেশের মিশনগুলোতে আরও চারটি বাণিজ্যিক উইং খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের মিশনগুলোতে হবে একটি করে উইং। বাকি একটি হবে আফ্রিকা অঞ্চলে। বিদেশে বর্তমানে ৬১টি মিশন রয়েছে বাংলাদেশের। আর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী মিশনগুলোর আওতায় বাণিজ্যিক উইং রয়েছে ২৩টি। তবে এমন দুটি করে উইং রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের চেহারা বদলাচ্ছে। নতুন দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনাও বাড়ছে বাংলাদেশের। ফলে বেশ কয়েক বছর ধরে নতুন বাজারের দিকে সরকার মনোযোগও বাড়াচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী ১৫টি উইং রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে। এগুলো হচ্ছে-ক্যানবেরা, সিঙ্গাপুর, জেনেভা, দিল্লি, ব্রাসেলস, অটোয়া, বার্লিন, টোকিও, সিউল, ইয়াঙ্গুন, লন্ডন, ওয়াশিংটন, প্যারিস, দুবাই ও মাদ্রিদ।

লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি বেজিং, কুয়ালালামপুর, মস্কো ও তেহরান। এ ছাড়া জেদ্দা, কুনমিং ও লস অ্যাঞ্জেলেস উইংও লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সাফল্য দেখাতে পারেনি বলে জানা গেছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, বর্তমানে পণ্যের বহুমুখীকরণের কারণে অনেক বেশি পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।

এক্ষেত্রে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন দেশে নতুনভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কমার্শিয়াল কাউন্সিলররা ভূমিকা রাখতে পারেন। অন্যদিকে বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দিয়ে আরও বলেন, বাংলাদেশ রপ্তানি বহুমুখী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাট ও চামড়া খাতকে এগিয়ে নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি হস্তশিল্পকে ২০২৪ সালের বর্ষপণ্য ঘোষণা করেছেন।

এ ছাড়া দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য ট্রেড ও রেগুলেটরি সংক্রান্ত বাধা দূর করে আমদানি ও রপ্তানি পলিসি যুগোপযোগী করা হচ্ছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) দেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং বিনিয়োগকারীদের ওয়ান স্টপ সার্ভিস দিচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের উত্তম জায়গা হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে।

অনেক দেশ সরকার নির্ধারিত ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ করছে। অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়াও শিল্প-কারখানা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *