আমিষ উৎপাদনে সরকারের ২২০ কোটি টাকার প্রকল্প

আমিষ উৎপাদনে সরকারের ২২০ কোটি টাকার প্রকল্প

তাজা খবর:

মানবদেহের অতি প্রয়োজনীয় উপাদান আমিষ। এক সময় এই অঞ্চলের মানুষের দিকে তাকালে আমিষের ঘাটতি তথা অপুষ্টিতে ভোগা মানুষকেই শুধু দেখা যেত। প্রতিদিন একজন মানুষের দেহের প্রতি কেজি ওজনের তুলনায় প্রায় এক গ্রাম (০.৮৩ গ্রাম) আমিষ গ্রহণ করা দরকার। আমিষের উৎস দানাশস্য, ডাল, মাছ, মাংস, ডিম ও দুধ। এগুলো খুবই দামি হওয়ায় দরিদ্র জনগোষ্ঠী খুব কমই আমিষ গ্রহণের সুযোগ পেত।

এখন গ্রাম এলাকায় অপুষ্টিজনিত রোগীর সংখ্যা কমলেও আমিষের চাহিদা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। এক জরীপে দেখা গেছে এখনো শতকরা ১০ ভাগ মানুষ ৪০ গ্রামের কম আমিষ খেতে পায়। উল্লিখিত ডাটা মাথায় রেখে জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের আমিষের ঘাটতির দিকে বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছেন। তারই ফলশ্রুতিতে আমিষ উৎপাদনে ২২০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পের আওতায় খাদ্য নিরাপত্তার উন্নয়ন, নিরাপদ প্রাণীজ আমিষের উৎপাদনে প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পে ভেটেরিনারি ও সম্প্রসারণ সেবা ত্বরান্বিত করা ও প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের কর্মপরিবেশ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতার উন্নয়ন কর্মসূচিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রাণীসম্পদ অধিদফতরের সক্ষমতা জোরদারকরণ নামের এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাণীসম্পদ অধিদফতর। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটি অনুমোদন পেয়েছে।

খাদ্য এবং কৃষি সংস্থা (এফএও) পরিচালিত গবেষণা মতে এদেশের শতকরা ৬৬ ভাগেরও বেশি মানুষ প্রতিদিন ৫০ গ্রাম আমিষ গ্রহণ করে। তবে শতকরা ১০ ভাগ মানুষ ৪০ গ্রামের কম আমিষ খেতে পায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমিষজাতীয় খাদ্যের চাহিদাও বাড়তে থাকে। বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক আমিষের অনুমোদিত মাত্রা হলো ৩৩-৬৬ গ্রাম। গর্ভবতী নারী ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের কিছুটা বাড়তি আমিষের প্রয়োজন হয়। গর্ভবতী নারী এবং ৭-১২ মাস বয়সী শিশুর মায়ের জন্য স্বাভাবিক আমিষের সঙ্গে বাড়তি দৈনিক ১৩ থেকে ১৪ গ্রাম আমিষ যোগ করতে হয়।

দেশের ৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলার ৪৯৫টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হবে। ২০১৯ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২২০ কোটি ৫৮ লাখ ৮১ হাজার টাকা। যার পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রকল্পটি ২০১৯-২০ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দবিহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প হিসেবে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের আওতায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়বে। এতে প্রাণীজ আমিষের সরবরাহ বাড়িয়ে পুষ্টির নিশ্চয়তা ছাড়াও বেকার যুবকদের আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক হবে। দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নতি না হলে দেশের যাবতীয় উন্নয়নের সুফল ভোগ করবে কারা? ঠিক এই কারণেই সরকার দেশের অর্থনৈতিক, অবকাঠামোগত ও শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি মানব স্বাস্থ্যের উন্নয়নেও বিশেষ নজর দিয়েছে। ঠিক এভাবেই একদিন দেশ পৌঁছে যাবে উন্নতির শিখরে। দেশের মানুষ হবে স্বাস্থ্যবান, সুখী, কর্মঠ ও মেধাবী।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *