ই-কমার্সে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান

ই-কমার্সে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান

তাজা খবর:

করোনা মহামারীর মধ্যে দেশে ই-কমার্স খাতে এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে বেসরকারী গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় উঠে এসেছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ডিজিটাল অর্থনীতিতে নতুন করে আরও পাঁচ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানিয়েছে গবেষণা সংস্থাটি। সোমবার ভার্চুয়াল সভায় গবেষণা প্রতিবেদনটি তুলে ধরেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহকারী সৈয়দ ইউসুফ সাদাত। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সিপিডির বিশেষ ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, পাঠাও লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হোসাইন ইলিয়াস, সেবা প্ল্যাটফর্ম লিমিটেডের সিইও ইলমুল হক সজীবসহ অন্যরা।

সংলাপে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী সৈয়দ ইউসুফ সাদাত। তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের অনলাইনভিত্তিক শ্রমবাজারের ১৬ শতাংশ এখন বাংলাদেশের দখলে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অনলাইনভিত্তিক শ্রম সরবরাহকারী দেশ। বর্তমানে বাংলাদেশে ২ হাজার ওয়েবভিত্তিক উদ্যোক্তা এবং প্রায় পঞ্চাশ হাজার ফেসবুক নির্ভর উদ্যোক্তা রয়েছেন। বিশেষত চলমান কোভিড-১৯ অতিমারীর প্রেক্ষিতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ের সুযোগ বেড়েছে। আগামী এক বছরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইন্টারনেটের বিস্তার এবং স্মার্টফোনের জনপ্রিয়তার কারণে যদিও প্রচুর মোবাইল এ্যাপ্লিকেশন (এ্যাপ) বাজারে আসছে, সেই এ্যাপগুলোর বিষয়ে এখনও কোন যথাযথ নীতিমালা তৈরি হয়নি। এছাড়া গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য অনেক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকেই নিজেদের কৌশলগত পন্থায় পরিবর্তন আনতে হবে এবং গ্রাহক সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ইন্টারনেট সেবা সহজলভ্য হওয়ায় ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ ঘটছে প্রতিনিয়ত। দেশে এখন ক্রিয়েটিভ ও মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন ১৯ হাজার ৫৫২ জন। ফেসবুককেন্দ্রিক উদ্যোক্তা ৫০ হাজার, ই-ক্যাবের সদস্য আছে ১ হাজার ৩০০ জন, ওয়েবসাইটভিত্তিক উদ্যোক্তার সংখ্যা দুই হাজার। গবেষণায় বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়েছে, ডিজিটাল অর্থনীতিতে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা বেশ চ্যালেঞ্জের। এ ছাড়া সময়মতো পণ্যের ডেলিভারি করা এবং ব্যবস্থাপনাতে আরও ভাল করতে হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লব মোকাবেলা করতে হলে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও সহজভাবে সেবা দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন জানান, বিশ্বে রেজিস্টার্ড অনলাইন কর্মী আছে প্রায় ৭ কোটি। যার ১৬ ভাগের জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ। ডিজিটাল শ্রমিকরা কাজ করছেন বিলিয়ন ডলারের গেøাবাল মার্কেটে। অনুষ্ঠানে বলা হয়, ফেসবুক-ইউটিউব কনটেন্ট, ই-কমার্স ও মোবাইল এ্যাপ ঘিরে উদ্যোক্তা তৈরি হলেও করা হয়নি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। করজালে নেই ডিজিটাল কর্মীদের বড় অংশ। সব জায়গায় দ্রæতগতির ইন্টারনেট না থাকায় বাড়ছে ডিজিটাল বৈষম্য। যার বড় ভুক্তভোগী প্রান্তিক নারীরা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, প্রযুক্তির সুফল পেতে সরকারকে এখনই ডিজিটাল অর্থনীতি নীতিমালা তৈরি করতে হবে।

সংলাপে বক্তব্য রেখে পাঠাও-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হুসেইন মোঃ ইলিয়াস উচ্চমানের প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন দক্ষ জনবল, নীতিমালার নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ইত্যাদির অভাবকে এই খাতের চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন।

সেবা এক্সওয়াইজেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও চীফ অপারেশনস অফিসার ইলমুল হক সজীব বলেন, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের একটা বড় অংশ রয়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে, যাদের নিয়ে কাজ করার সুযোগ প্রচুর। তাই ই-কমার্স খাতে ব্যবসায় প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও ব্যবহার বান্ধব করা প্রয়োজন। এছাড়া তিনি বিভিন্ন অথরিটির মধ্যে সিনক্রোনাইজেশন এবং পণ্য শোকেসিং বা উপস্থাপনার সুবিধার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *