উত্তরাঞ্চলে ধানের বাম্পার ফলন

উত্তরাঞ্চলে ধানের বাম্পার ফলন

তাজা খবর:

করোনাকালেও ধানের বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন উত্তরাঞ্চলের কৃষকরা। চাষিদের সচেতনতা, মানসম্মত বীজ এবং উন্নত প্রযুক্তির কারণে এমন ফলন হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

রংপুর ও রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উত্তরের ১৬ জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৫৪ হেক্টর। এর মধ্যে রংপুর বিভাগে ১২ লাখ ৯৭ হাজার, ৯৬৪ হেক্টর এবং রাজশাহী বিভাগে ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯০ হেক্টর। উত্তরাঞ্চলে মোট জনসংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ। এর মধ্যে ১১ শতাংশ রয়েছে শিশু ও বৃদ্ধ এবং খাদ্য গ্রহণে অনুপযোগী। এই ১১ শতাংশ বাদ দিলে উত্তরাঞ্চলে খাদ্য গ্রহণকারী জনসংখ্যা হচ্ছে ৩ কোটির কিছু ওপরে। একজন মানুষ প্রতিদিন ৫৫৩ দশমিক ০৬ গ্রাম খাদ্য গ্রহণ করতে পারে। সেই হিসেবে এ অঞ্চলের মানুষের প্রতি বছর খাদ্যের চাহিদা হচ্ছে ৫৮ লাখ ২ হাজার ১১ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের খাদ্য চাহিদা হচ্ছে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার ৪১১ মেট্রিক টন এবং রাজশাহী বিভাগের চাহিদা হচ্ছে ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। চলতি সনে আমন, আউস ও বোরো ফসলের উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ২২ লাখ ৪৫ হাজার ২৫৪ মেট্রিক টন। মোট উৎপাদন থেকে চাহিদা বাদ দিলে দেখা যায় এক বছরের এ অঞ্চলে খাদ্যের উদ্বৃত্ত থাকছে ৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রংপুরে উদ্বৃত্ত থাকছে ২৬ লাখ ১৫ হাজার ১৭০ মেট্রিক টন এবং রাজশাহীতে উদ্বৃত্ত থাকছে ২৯ লাখ ৬৪ হাজার ৫৪৫ মেটিক টন। এই উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্য এ অঞ্চলের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে। কৃষিবিদদের মতে এ দেশের কৃষিভিক্তিক অর্থনীতিতে উত্তরাঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও এ অঞ্চলের কৃষকরা প্রতিটি ফসলের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফসল ওঠার শুরুতেই এক শ্রেণির মধ্যস্বত্বভোগী গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে নেমে পড়ে। তারা ঘাম ঝড়ানো ফসল কৃষকদের কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করে। পীরগাছার কল্যাণী ইউনিয়নের চাষি বুলবুল মিয়া, কাউনিয়ার আফজাল হোসেনসহ অনেকেই জানান এবার করোনা আতঙ্কেও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রংপুর কৃষি সম্পসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, উত্তাঞ্চলের ১৬ জেলায় ৫০ লাখ মেট্রিক টনের ওপর ধান উদ্বৃত্ত থাকছে। এর মূলে কৃষকরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন হয়েছেন। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে চলতি বোরোর বাম্পার ফলন হয়েছে। আউশের সম্প্রসারণও হয়েছে। আগামীতে এই অঞ্চলে খাদ্যশস্য আরও উদ্বৃত্ত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *