উন্নয়নের মেগা প্রকল্পে বদলে গেছে বাংলাদেশ

উন্নয়নের মেগা প্রকল্পে বদলে গেছে বাংলাদেশ

তাজা খবর:

আর মাত্র আট দিন পর বিজয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করবে বাংলাদেশ। বিজয়ের এই ৫০ বছরে অর্থনীতির পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে দুর্দান্ত গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তা বাস্তবায়ন করছেন তাঁরই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বর্তমান সরকারের নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলো বদলে দিয়েছে বাংলাদেশের চেহারা। ১৯৭৩ সালে জাপান সফরকালে জাপানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কাকুই তানাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে যমুনা বহুমুখী সেতু নির্মাণের সূচনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আর তাঁরই কন্যা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিশ্ববাসীকে।

কার্যত ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক সরকারগুলোর আমলে থেমে গিয়েছিল দেশের উন্নয়নধারা। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে শুরু হয় বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প। তবে গত ১৩ বছরে বর্তমান সরকারের আমলে উন্নয়নের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে অর্থনীতিতে গতি আনতে মেগা প্রকল্পের পাশাপাশি অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটিয়েছে ভৌত অবকাঠামোর ক্ষেত্রে। টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর অবকাঠামো উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে মহাপরিকল্পনা।

বলা যায়, পুরো অবকাঠামো খাতে আমূল পরিবর্তন এসেছে গত এক দশকে। দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে ধাবমান। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছিল যে বাংলাদেশ, বিজয়ের ৫০তম বছরে সেই দেশই এখন উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশ্বে রোল মডেল।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেছেন ‘ভিশন ২০৪১’। ওই বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে নিয়ে যেতে চান তিনি। তারপর আছে শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান। বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, পায়রা ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ আরও কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে দ্রুতগতিতে। বর্তমান সরকারের আমলে নদীর নিচ দিয়ে টানেল বা সুড়ঙ্গপথ দেখার সৌভাগ্য হয়েছে দেশবাসীর। স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে মতপার্থক্যের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন, তখন অনেকেই একে অবাস্তব বলে সমালোচনা করেছিলেন। সেই পদ্মা সেতু পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে, যা আগামী জুনে খুলে দেওয়া হবে যান চলাচলের জন্য।

ষাটের দশক থেকে দেশের মানুষ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কথা শুনে এলেও বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যুগে প্রবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে ২০১০ সালে। পাবনার ঈশ্বরদীতে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে ২০২৪ সালে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের মানুষও যে মেট্রোরেলে চড়বে সেই স্বপ্নও পূরণ হতে চলেছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল লাইন এখন দৃশ্যমান। প্রথম পর্যায়ে উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের কাজ প্রায় শেষ। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে পরীক্ষামূলক চলাচল। আগামী বছর শুরু হবে যাত্রী চলাচল।

হেমায়েতপুর থেকে রাজধানীর আফতাবনগর, বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত পাতাল রেলের কাজও চলছে পুরোদমে। বাস ও বিমানের বাইরে রেলপথেও ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার কাজটি শুরু হয় বর্তমান সরকারের আমলে। এসব প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ত্বরান্বিত হবে দেশের অর্থনীতি। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বাড়বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও। অর্থনৈতিক উন্নয়নে যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছেন শেখ হাসিনা। হঠাৎ করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে অর্থনীতির স্থবিরতার মধ্যেও থেমে নেই মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজও চলছে পুরোদমে। করোনার কারণে কিছু সময় বন্ধ থাকার পর সরকারের অন্য অগ্রাধিকার পাওয়া প্রকল্পগুলোর কাজও ফের শুরু হয়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ চার লেন সড়ক পাল্টে দিয়েছে ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও শেরপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি, পায়রা নদীর ওপর পায়রা সেতু, ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, ক্রস-বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট, সাসেক সংযোগ সড়ক-২, এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ ও ঢাকা-খুলনা (এন-৮) মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ইন্টারসেকশন থেকে (ইকুরিয়া-বাবুবাজার লিঙ্ক সড়কসহ) মাওয়া পর্যন্ত মহাসড়ক, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮০ কিলোমিটার মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ পাল্টে দিয়েছে মানুষের জীবনধারা। ১৯২ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজও শেষ করেছে সরকার।

এর ফলে মানুষ এখন কম সময়ে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন করতে পারছে। আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতুতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে কষ্ট পোহাতে হতো যাত্রীদের। জাইকার অর্থায়নে কাঁচপুর, মেঘনা ও গোমতী সেতু নির্মিত হয়েছে এই সরকারের সময়ে। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে যেতে ঢাকা-মাওয়া চার লেনের সড়কটিও শেষ হয়েছে।

রেলপথ উন্নয়নে ২০১৬-২০৪৫ মেয়াদে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩০ বছর মেয়াদি মাস্টার প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। রেলপথ সম্প্রসারণ, নতুন রেলপথ নির্মাণ ও সংস্কার, রেলপথকে ডুয়েলগেজে রূপান্তর, নতুন ও বন্ধ রেলস্টেশন চালু, নতুন ট্রেন চালু ও ট্রেনের সার্ভিস বৃদ্ধি এবং ট্রেনের কোচ সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলেছে।

দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর উন্নয়নেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতার মান ও পরিধি বৃদ্ধির অংশ হিসেবে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ এবং কক্সবাজার ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *