একই দিনে দুই নেতার মৃত্যু বড়ই কষ্টকর

একই দিনে দুই নেতার মৃত্যু বড়ই কষ্টকর

তাজা খবর:

সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একইদিনে পরপর দু’জনের মৃত্যু খুবই কষ্টকর। আমাদের এই সংসদে বারবার শোক প্রস্তাব আনতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংসদে আসার সময় অনেক জায়গা থেকে কিন্তু আমাকে ভীষণভাবে বাধা দেয়া হয়েছে, নিষেধ করা হয়েছে, বলেছে-নেত্রী আপনি যাবেন না। আমি বললাম গুলি, বোমা, গ্রেনেড কত কিছুই তো মোকাবিলা করে এ পর্যন্ত এসেছি। আর একটা অদৃশ্য শক্তি তার ভয়ে ভীত হয়ে থাকবো? তিনি বলেন, করোনার ভয়ে মানুষগুলোকে তো না খেয়ে মারতে পারি না। এটা হলো বাস্তবতা। তাদের বেঁচে থাকার ব্যবস্থা তো আমাদের নিতে হবে। তাদের জীবনযাত্রা যেন চলে সেই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে। অথচ এই আতঙ্কটা এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যেটা সত্যি খুব দুঃখজনক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে করোনা সংক্রমন প্রতিরোধের সাথে সাথে যেন আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকা- সচল থাকে সেদিকেও আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এটা এক ধরনের যুদ্ধ। এই সময় আমাদের দুজন হারালাম যারা সবসময় আমাদের সাথে ছিল। তাদের হারানোটা অত্যন্ত কষ্টকর। আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
আজ রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এবং ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুতে উত্থাপিত শোক প্রস্তবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

এর আগে সকাল ১১ টায় স্পিকার ড. শিরীন শঅরমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। স্পিকার এ দুজনের ওপর শোক প্রস্তাব উত্থাপণ করেন। সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপণ ও সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী চলতি সংসদের কোনো এমপি মারা গেলে তাদের সম্মানে শোক প্রস্তাব আনা হয় এবং শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনার পরে সংসদ মুলতবি করা হয়।

দুই নেতাকে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি দেশে ফেরার পর পদে পদে আমাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। এসময় যে দু’জনকে আমি সব সময় পাশে পেয়েছি একই দিনে তাদের হারালাম।

মোহাম্মদ নাসিম ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাগারে থাকা অবস্থায় স্ট্রোক করেছিলেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় কারাবন্দি সালমান এফ রহমানের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স সব সময় জেলগেটে তার পরিবারের পক্ষ থেকে রাখা থাকতো। ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে মোহাম্মদ নাসিমকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় বলে তিনি সেই যাত্রায় বেঁচে যান। তবে ওই সময় তার শরীরের একপাশ প্যারালাইজড হয়ে যায়। আর শেখ আবদুল্লাহকে স্বরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে প্রতিবার আলহাজ্ব শেখ মো: আব্দুল্লাহ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সকল নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করেন। তিনি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যের হার মাত্র ১০ বছরের মধ্যেই আমরা কমিয়ে এনেছি। আমাদের জিডিপি বেড়ে গিয়েছিল। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছিলাম। কিন্তু এমন একটা অদৃশ্য শক্তি করোনাভাইরাস সারাবিশ্বটাকে স্থবির করে দিয়েছে। সারাবিশ্বটাতে কেমন একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ সৃষ্টি করলো। আমাদের কোনো নেতাকর্মী মারা গেলেও আমরা ছুটে গেছি তার জানাজায়, কবরে ফুল দেয়া ও পরিবারের সঙ্গে দেখা করার জন্য। এখন এমনই অস্বাভাবিক পরিবেশ যে আমরা এবার সেটা করতে পারলাম না। সেটাই হলো সবচাইতে বড় কষ্টকর। একটা আতঙ্ক, ভয়-ভীতি যেন সারাবিশ্বকে পেযয়ে বসেছে।

বিশ্বের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস আক্রান্ত উন্নত-অনুন্নত দেশের সবাই ভয়ে আছেন। এই আতঙ্কটা এমন পর্যায়ে চলে যাচ্ছে যেটা দুঃখজনক। তবে যে এলাকাটায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে আমরা সঙ্গে সঙ্গে সেখানে লকডাউন করছি। মানুষের জীবনযাপন যেন স্বাভাবিক থাকে সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।

শোক প্রস্তাবের ওপর অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন বিরোধী দলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, মৃণাল কান্তি দাস, ডা. হাবিবে মিল্লাত, কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুস্তফা লুৎফুল্লাহ।

পরে মরহুম দুই নেতার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে সংসদে দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এর আগে তাদের স্মরণ করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন। পরে বৈঠক সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *