এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত তৎপরতা নেই বললে

এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত তৎপরতা নেই বললে

২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের আসন্ন এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। এতে সবধরণের সহযোগিতা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাহিনীর তথ্যমতে, এমবিবিএস পরীক্ষায় কুচক্রী মহলের প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত তৎপরতা নেই বললেই চলে।

তথ্যসূত্র বলছে, আগামী ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ে তৎপর রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া কুচক্রী মহলের কোনো সাড়া শব্দ নেই। তবে যেকোনো পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বরাবরই অব্যাহত ছিলা, ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের অসংখ্য সদস্যদের এরইমধ্যে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। যার কারণে তাদের তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তারা যেকোনো সময় আবারও সক্রিয় হতে পারে, এমন চিন্তা থেকেই আমরা আমাদের কার্যক্রম ও নজরদারি অব্যাহত রেখেছি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কিছু গ্রুপ এমবিবিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, বর্তমান সরকার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সোচ্চার রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধের ধারাবাহিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সরকার এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষাতেও কড়া নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। সে মোতাবেক যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের যে ব্যাধি বহুদিন ধরে চলে আসছিলো, বর্তমান সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপে তা থেকে মুক্তি পাচ্ছে পুরো জাতি। আর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতেই আমরা সব রকম প্রস্তুতি নিয়েছি, যা বাস্তবায়ন করা হবে। কেননা, মেধাবী জাতি গঠনে এর কোনো বিকল্প নেই।

জানা গেছে, এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও শৃঙ্খল করতে পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগ ফেসবুক, ভাইবার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন শাখায় সাইবার টহল চালানোর পুরো প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রকে ধরতে পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা নানা ধরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। নজরদারির মধ্যে নেওয়া হচ্ছে দেশের মোবাইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও। ছাপাখানা থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সবখানেই রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি।

অন্যদিকে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে আপোষ করার সুযোগ নেই। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করে মেধাবী জাতি গঠন করতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা বলছেন, শুধু সরকারের একার চেষ্টায় এই প্রতারক চক্রকে নির্মূল করা যাবে না। শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, সচেতন হতে হবে সবাইকে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *