ওসমানী হাসপাতালে দেশের প্রথম ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট’, ল্যাবরেটরি উদ্বোধন

ওসমানী হাসপাতালে দেশের প্রথম ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট’, ল্যাবরেটরি উদ্বোধন

তাজা খবর:

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বধিরদের জন্য হাসপাতালটিতে স্থাপিত ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ল্যাবরেটরি’র উদ্বোধন করা হয়েছে আজ বুধবার।

বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে ল্যাবরেটরির উদ্বোধন করেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মো. ময়নুল হক ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার। এসময় উপস্থিত ছিলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিলাল আইচ লিটু, বিভাগরে সহকারী অধ্যাপক ও ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রজেক্টের’ প্রকল্প পরিচালক ডা. নূরুল হুদা নাঈম।

উদ্বোধনকালে ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেছেন, ওসমানী হাসপাতালে এবার থেকে বধিরদের জন্য কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম শুরু হবে। এ প্রজেক্টের ৩টি অংশ আছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ল্যাবরেটরি। যেটি আজ আমরা উদ্বোধন করলাম। আরেকটি হচ্ছে অপরাশেরন থিয়েটার। যেটির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আরেকটি হচ্ছে অপারেশনের যন্ত্রপাতি। সকল ধরনের যন্ত্রপাতি ইতোমধ্যে এসে পৌঁছে গেছে। এই কার্যক্রম চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও নার্সদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আগামী মাসের শুরু থেকে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম শুরু হবে।

তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে আমরা ১ থেকে ৫ বছরের বধির শিশুদের সিলেক্ট করবো। কারণ অপারেশনটা তাদের জন্যই বেশি প্রয়োজন। পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বয়েসিদেরও এই কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসবো। এছাড়াও এই প্রজেক্টের আওতায় শুধু সিলেট জেলারই নয়, বরং পুরো বিভাগের বধিরদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হবে।

‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ল্যাবরেটরি’ উদ্বোধনকালে প্রজেক্ট ডিরেক্টর ডা. নূরুল হুদা নাঈম বলেন, এটি সরকারের একটি দূরদর্শী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ। সারাদেশের মাত্র ৪টি হাসপাতালে এই কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে সিলেট প্রথম। গত বছর সিলেট ওসমানী হাসপাতালকে এই প্রজেক্টের আওতায় নিয়ে আসা হয়।

তিনি বলেন, ব্যয়বহুল এই চিকিৎসাসেবা সিলেটের বধিরদের জন্য একটি বড় সুসংবাদ। কারণ- বধির যারা তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন না। ওসমানী হাসপাতালে স্থাপিত ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট’র মাধ্যমে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবেন। তাদেরকে আর অন্যের বোঝা হতে হবে না।

ডা. নূরুল হুদা নাঈম বলেন, আজকের যে ল্যাবরেটরি উদ্বোধন করা হয়েছে সেখানে বধির রোগীদের নানা রকম পরীক্ষা (hearing screenin) করা হবে। প্রথম ধাপেই পরীক্ষা করে বলা যাবে যে- একজন রোগীর কি শুধু হেয়ারিং ডিভাইস দিয়ে বধিরতা দূর করা যাবে, নাকি তার অপারেশন লাগবে।

তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে যেভাবে শিশুর জন্মের পরপরই ‘নিওনেটাল হেয়ারিং স্ক্রিনিং’ (Neonatal hearing screenin) করে নবজাতকটি কানে কতটা শুনে সেটা শনাক্ত করা হয়- ঠিক সেভাবে এই প্রজেক্টের আওতায় সিলেট ওসমানী হাসপাতালে যেন এই পদ্ধতি চালু করা হয়।

জানা যায়, গত বছর সিলেটের বধিরদের জন্য সুসংবাদ নিয়ে আসে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এক বছরেরও কম সময়ে হাসপাতালটিতে স্থাপিত কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের মাধ্যমে এবার শুনতে পাবে জন্মবধিররা। অস্ত্রোপচার করে মেশিন বসানো আর বিভিন্ন থেরাপির মাধ্যমে তারা শোনার পাশাপাশি বলতে পারবে কথাও। আগামী মাস থেকে ওসমানী হাসপাতালে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটের কৃতী সন্তান জয়নুল বারী সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাবস্থায় তার বন্ধু এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. ময়নুল হক জন্মবধিরদের শ্রবণ চিকিৎসার জন্য ওসমানী হাসপাতালে ‘কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট প্রজেক্ট’ চালুর অনুরোধ জানান। তার অনুরোধে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রজেক্টটির জন্য ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ঢাকার বাইরে দেশের মধ্যে সিলেটে এই প্রথম কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ওসমানী হাসপাতালে এই কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে প্রথমেই উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন হাসপাতালটির নাক, কান ও গলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মনিলাল আইচ লিটু ও সহকারী অধ্যাপক ডা. নূরুল হুদা নাঈম। পরবর্তীতে এই প্রজেক্টের আওতাধীন ৩০ জন চিকিৎসক, নার্স ও ল্যাব টেকনিশিয়নাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

বুধবার ল্যাবরেটরি উদ্বোধনকালে ওসমানী হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মনিলাল আইচ লিটু বলেন, ঢাকার বাইরে দেশে প্রথম ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্মবধিরদের কানে কক্লিয়ার ইমপ্লান্টের পর শ্রবণশক্তি ফিরে পেতে তাদের অডিও ভারভালসহ বিভিন্ন থেরাপি দেওয়া হবে। এই প্রজেক্টের আওতায় ইতিমধ্যে ৪৮টি কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট ক্রয় করা হয়েছে। ল্যাবরেটরির কাজ শেষ আজ তা উদ্বোধন করা হলো। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও এসে গেছে। এখন কেবল অপারেশন থিয়েটারের কাজ সম্পন্ন হলে কক্লিয়ার ইমপ্লান্ট কার্যক্রম শুরু করা যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *