করোনাকালে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলবে দুদকের অনুসন্ধান-তদন্ত

করোনাকালে ডিজিটাল পদ্ধতিতে চলবে দুদকের অনুসন্ধান-তদন্ত

তাজা খবর:

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি শেষে গত রবিবার থেকে খুলেছে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান। দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে। তবে করোনার মতো ভাইরাস মোকাবিলার পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যক্রম চালিয়ে নিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বাধীন সংস্থাটি। গাইডলাইন অনুযায়ী যতটা সম্ভব ডিজিটাল পদ্ধতিতে চালাবে অনুসন্ধান ও মামলার তদন্ত কাজ। খুব জরুরি না হলে আপাতত দুদক থেকে যে কোনো অভিযান কিংবা সশরীরে মুভমেন্ট না করার সিদ্ধান্তও নিয়েছে সংস্থাটি।

জানা গেছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) নির্ধারিত গাইডলাইন অনুসরণ করতে লোকবল নিয়োগের ক্ষেত্রে রোস্টারিং সিস্টেম অনুসরণ করার পরিকল্পনা করেছে দুদক। দুদকের সব অফিসে থাকছে জীবাণুমুক্তকরণ টানেল স্থাপনসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষার সব ধরনের ব্যবস্থা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে নিজেদের জন্য চ‚ড়ান্ত গাইডলাইন তৈরি করতে গত ২০ মে কমিশন থেকে দুদকের মহাপরিচালক (প্রশাসন, সংস্থাপন ও অর্থ) মো. জহির রায়হানের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। দু’একদিনের মধ্যে কমিশনের অনুমোদনক্রমে গাইডলাইন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানা গেছে। গঠিত সাত সদস্যের ভিজিলেন্স টিমের অন্য সদস্যরা হলেন- পরিচালক (পর্যবেক্ষণ ও বিশারদ) মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মোহাম্মদ আবদুল আওয়াল, উপপরিচালক (প্রশাসন) শেখ মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, উপপরিচালক (এনফোর্সমেন্ট) মো. মাসুদুর রহমান, ডা. অনুপ কুমার বিশ্বাস ও সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক মো. জহির রায়হান বলেন, আমরা একটি গাউডলাইন তৈরি করছি। ডব্লিউএইচওর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে গাইডলাইন তৈরি করা হচ্ছে। যাতে আমাদের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। চূড়ান্ত সিস্টেম অনুসরণ করে দুদকের প্রধান কার্যালয়সহ জেলা পর্যায়ের অফিসগুলো চলবে। গাইডলাইনের খসড়া তৈরি হচ্ছে। কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে আমরা কাজ এগিয়ে নেব। তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে ভিজিলেন্স টিমের আওতায় বিভাগ অনুযায়ী আরো কয়েকটি সাব-কমিটি ও উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। যারা স্ব স্ব বিভাগের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিয়মিত কাজ করবে। প্রতিদিনই নতুন নতুন আইডিয়া যোগ হচ্ছে। সবগুলোকে একত্রিত করে চ‚ড়ান্ত হবে এ গাইডলাইন।

অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, করোনার মতো নেতিবাচক পরিস্থিতিতে প্রকৃত অর্থে দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কঠিন। তবে দুদকের কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সবার আগে বিবেচনা করতে হবে। এ মুহূর্তে খুব জরুরি না হলে দুদক থেকে যে কোনো অভিযান কিংবা সশরীরে মুভমেন্ট করা হচ্ছে না। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ জনগণের দুদক কার্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ আপাতত রাখা হচ্ছে না। সাংবাদিকদের যতটুকু সম্ভব প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রিত রাখা হচ্ছে। আপাতত পরিবেশ ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

এসব বিষয়ে দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ কর্মকর্তা) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, দুদক স্বাস্থ্যবিধি মেনে আপাতত সীমিত আকারে অফিস পরিচালনা করবে। তাছাড়া আমাদের কার্যক্রম সব সময়ই চলমান আছে। তবে ডিজিটাল পদ্ধতি বেশি অনুসরণ করছি আমরা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *