করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক:

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশেষ বৈঠক করে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকের পর মন্ত্রী ও কর্মকর্তাসহ ২৪/২৫ জনকে নিয়ে নিজ কার্যালয়ে বিশেষ এক বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, যেভাবেই হোক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ করতে হবে।

সরকারের জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, এ পর্যন্ত ৫৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে কারও মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। ফলে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ নতুন এই করোনা ভাইরাসমুক্ত। যদিও এখনও দেশে এই নতুন করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা পদ্ধতি সীমাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তারা। তারপরও ২০১৯-এনসিওভি প্রতিরোধে সকল প্রস্তুতি বাংলাদেশের রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। অবশ্য, রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সিঙ্গাপুরে প্রথমবারের মতো এক প্রবাসী বাংলাদেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়ায় বিষয়টা আবারও উদ্বেগ ছড়াচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর বলছে, করোনা টেস্টের ফলাফল আরও দ্রুত পেতে কিছু সিস্টেম তৈরি হয়েছে, সেগুলো শিগগিরই বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, উন্নত বিশ্বের যে দুই থেকে তিনটা দেশ ল্যাবরেটরি নমুনা পরীক্ষার পদ্ধতি বের করেছে তা কয়েকদিনের ভেতরে আমাদের দেশেও আসবে। তখন আর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পুরোপুরি নিশ্চিত হতে আর কোথাও পাঠাতে হবে না। আমরা নিশ্চিত করলেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সেটা মেনে নেবে। কারণ, আমাদের ল্যাব বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত।

করোনার ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত কিনা প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি মনে করি আমরা প্রস্তুত। কারণ, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস চীনের মতো হবে−এটা আমরা মনে করি না। পৃথিবীতে সব দেশের এখন প্রস্তুতি রয়েছে। চীনে ঝুঁকিপূর্ণ যে এলাকা রয়েছে সেগুলো তারা ‘সিল’ করে দিয়েছে। প্রথম দিকে তাদের প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলেও এখন সেটা শক্তিশালী হয়েছে। চীনে ঝুঁকিপূর্ণ বা আক্রান্ত যারা রয়েছেন তারা বাইরে বের হতে পারছেন না। একইসঙ্গে সারা পৃথিবীতে মানুষ যখন অন্য দেশে যাচ্ছে তখন সে দেশ থেকে বের হওয়ার আগেই সেখানে প্রথম স্ক্রিনিং হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, বিদেশ থেকে আগত কাউকে যদি সন্দেহভাজন মনে হয় তাহলে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। পরীক্ষার প্রয়োজন হলে সেটা করা হবে, যেমনটা এখন করা হচ্ছে। যদি কেউ আক্রান্ত হয় তাহলে রোগ যেন ছড়াতে না পারে তার ব্যবস্থাও করা হবে। সেজন্য আমাদের সব ধরনের সামর্থ্য এবং প্রস্তুতি রয়েছে।

অপরদিকে আইইডিসিআর বলছে, করোনা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। এর সঙ্গে অনেক ধরনের হিসাব-নিকাশ আছে। তাই জ্বর-সর্দি-কাশি কিংবা শ্বাসকষ্ট হলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার দরকার নেই।

আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, চীন থেকে ফেরত আসা অনেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন। তারা রোগ শনাক্তকরণের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে, চীনের সব প্রদেশে একইসঙ্গে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়নি। চীন থেকে আসার ১৪ দিন পার হওয়ার আগে কারও মধ্যে যদি কোনও লক্ষণ দেখা যায়, তাদেরই কেবল আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আশা করি বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সেভাবে ছড়াবে না। যদি অনেক বেশি কেস হয়ে যায়, তখন আর পরীক্ষার প্রয়োজনই হবে না। কারণ এটা কমন ফ্লু। এর কোনও বিশেষ চিকিৎসা নেই। আর এর পরীক্ষা পদ্ধতি শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীজুড়ে অপ্রতুল।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *