করোনায় আক্রান্ত হলে ৫ লাখ, মারা গেলে পাবেন পাঁচগুণ

করোনায় আক্রান্ত হলে ৫ লাখ, মারা গেলে পাবেন পাঁচগুণ

তাজা খবর:

দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হলে যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা পাবেন। আর মারা গেলে তার পরিবার পাবেন পাঁচগুণ টাকা। এ নিয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে। ইতোমধ্যেই মাঠ প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে অন্তত ৮ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন করোনায় ৬ জন কর্মকর্তা আক্রান্ত হওয়ার খবর যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার পরই করোনার হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত নারায়ণগঞ্জে সবচেয়ে বেশি কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন- নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া তাবাসসুম (৩৫তম ব্যাচ), সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার (৩৬তম ব্যাচ), সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ আবদুল মতিন খান (৩৭তম ব্যাচ)।

অপর কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন- গাজীপুরের টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মোর্শেদ খান পাভেল (৩৩তম ব্যাচ), কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিমাদ্রী খীসা (৩৪তম ব্যাচ)। সৌদি আরবের লেবার কাউন্সেলর হিসেবে কর্মরত ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামও করোনায় আক্রান্ত। দুদকের একজন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে মারা গেছেন। আরেকজন উপসচিব আক্রান্ত বলে জানা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে আক্রান্তদের কথা সরকারের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে রোববার জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন যুগান্তরকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনকালে করোনায় আক্রান্ত হলে ৫ লাখ টাকা এবং মারা গেলে এর পাঁচগুণ টাকা পাবেন। এ বিষয়ে কাজ চলছে। শিগগিরই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।’ তিনি বলেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসা খরচসহ সব ধরনের দায়-দায়িত্ব সরকার বহন করবে। এছাড়া প্রয়োজনে সরকার ঘোষিত সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হবে। যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে যারা মাঠে তাদের সংস্পর্শে ছিলেন তাদের কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। মাঠ প্রশাসনসহ দেশের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে কাজ করার জন্য আগে থেকেই নির্দেশ দেয়া আছে। একজন অফিসারের ওপর অনেক কাজের দায়িত্ব। তাই তারা বেশি আক্রান্ত হয়ে গেলে পুরো দেশের কাজের সমস্যা হবে। নারায়ণগঞ্জে ইতোমধ্যে দুইজন নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আশা করি কাজের কোনো সমস্যা হবে না।’ উল্লেখ্য, নারায়ণগঞ্জের ডিসি অনেক আগে থেকেই কোয়ারেন্টিনে আছেন। এছাড়া কয়েকটি জেলার আরও কয়েকজন কর্মকর্তার করোনা টেস্ট করা হয়েছে। ওই টেস্টের ফলাফল শিগগিরই পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে।

১৫ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের এক আদেশে বলা হয়েছে- করোনাভাইরাসের কারণে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যেও সীমিত আকারে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু আছে। এ কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যাংকে গিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। তাদের ঝুঁকি বিবেচনায় এবং দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা সুবিধা এবং অনুদান প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারি-বেসরকারি সবাইকে নির্দেশনা মানতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনা আক্রান্ত হলে পদভেদে ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা বিমা সুবিধা পাবেন। আক্রান্ত হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই এ সুবিধা দিতে হবে এবং পুরো চিকিৎসা খরচ ব্যাংককে বহন করতে হবে। এছাড়া কেউ মারা গেলে পদভেদে তার পরিবার পাবে পাঁচগুণ বেশি সুবিধা। ব্যাংককে অনুদান হিসেবে এ অর্থ দিতে হবে এবং তার বেতন-ভাতা এবং অন্য সুবিধার সঙ্গে সমন্বয় করা যাবে না। পাশাপাশি বিশেষ এ সময়ে ব্যাংকে যাতায়াতের সময় কেউ দুর্ঘটনায় পড়লে ব্যাংককে পুরো চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *