কলেজ গড়ে তুলতে বাবার ৭ বিঘা জমি বিক্রি করেন অধ্যক্ষ মিন্টু

কলেজ গড়ে তুলতে বাবার ৭ বিঘা জমি বিক্রি করেন অধ্যক্ষ মিন্টু

তাজা খবর:

নির্মমভাবে হত্যার শিকার সাভারের রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণ বাবার সাত বিঘা জমি বিক্রি করে নিজের হাতে গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হয়েছিলেন। কিন্তু কলেজের অর্থ লুটপাট করতে বন্ধু মোতালেব ও রবিউল তাকে হত্যা করেন।

নিহত মিন্টু চন্দ্র বর্মণের বৃদ্ধ বাবা শরত চন্দ্র বর্মণ বলেন, জমি বিক্রি করার সময় তাকে বলেছিলাম। গ্রামে যেন কিছু করে। কিন্তু তার বড় হওয়ার ইচ্ছা ছিল। তাই বন্ধুদের কথায় সাভারের রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ তৈরি করে। এটি যে তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়াবে বুঝতে পারিনি।

অধ্যক্ষ মিন্টু চন্দ্র বর্মণের বাড়ি গিয়ে তার বাবা, মা, ভাই ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক বছর আগে মিন্টু চন্দ্র তার বৃদ্ধ বাবাকে ম্যানেজ করে তাদের আবাদি সাত বিঘা জমি, গরু ও ছাগলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা দিয়ে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মিলে সাভারের রেসিডেনসিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। এ ছাড়াও তার বাবা-মা বিভিন্ন সময় এলাকার বিভিন্ন জনের কাছে টাকা ধার নিয়ে মিন্টুকে দেন। মিন্টু তার বাবা-মা ও চার ভাইকে স্বপ্ন দেখান পরিবারের কাছ থেকে তিনি যে টাকা নিয়েছেন সেই টাকা তিনি অল্প সময়ের মধ্যে ফেরত দেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালে রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ঢাকায় যান মিন্টু। তাকে তার বাবা সাত বিঘা জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ায় এ নিয়ে পাঁচ ভাইয়ের সঙ্গে মিন্টুর মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। দুই বছর ধরে বাড়িতে আসেন না মিন্টু।

মিন্টুর বাবা বলেন, এবার ঈদে বাড়ি আসার কথা ছিল মিন্টুর। কিন্তু ঈদে বাড়ি আসার আগে নিখোঁজ হয় সে। পরে জানতে পারি তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মিন্টুর বৃদ্ধা মা জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে মিন্টুর সঙ্গে তার কথা হয়েছে। মিন্টু তাকে বলেছেন, হাতে কিছু টাকা আছে। ঈদে বাড়ি গিয়ে সেই টাকা দিয়ে নতুন বাড়ি করে বিয়ে করবো।

মিন্টুর ছোট ভাইয়ের স্ত্রী সান্ত্বনা রানী বলেন, আমার বিয়ের তিন বছর হলো ভাইয়ার সঙ্গে আমার সরাসরি দেখা হয়নি। আমার বাচ্চা ও আমি তাকে দেখার জন্য ব্যাকুল। এবার ঈদের ছুটিতে তার বাড়িতে আসার কথা। কিন্তু তার আগে নিখোঁজ হলো ভাইয়া।

গত ১৩ জুলাই সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া সংলগ্ন বেরন এলাকার রূপায়ন মাঠের নিজ বাসা স্বপ্ন নিবাস থেকে নিখোঁজ হন মিন্টু চন্দ্র বর্মণ। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সাত দিন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে অবশেষে ২২ জুলাই আশুলিয়া থানায় নিখোঁজের জিডি করেন মিন্টুর ছোট ভাই দীপক চন্দ্র বর্মণ।

পরে ৯ আগস্ট ছায়া তদন্ত করে তিনজনকে আটক করে মরদেহের অবস্থান শনাক্ত করে র‌্যাব। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে অভিযান পরিচালনা করে পাঁচ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, কলেজের আর্থিক লেনদেন নিয়ে তাকে হত্যা করেন তার বন্ধুরা। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *