কেন্দুয়ায় কম্বাইন্ড হারভেস্টারে কৃষকের মুখে হাসি

কেন্দুয়ায় কম্বাইন্ড হারভেস্টারে কৃষকের মুখে হাসি

তাজা খবর:

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ‘কম্বাইন্ড হারভেস্টার’ যন্ত্র দিয়ে এখন জোরেশোরে চলছে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। এতে কৃষকদের পাকা ধান ঘরে তোলার দুশ্চিন্তা অনেকটা ঘুচে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে দূর হচ্ছে শ্রমিক সংকটও। ফলে আধুনিক যন্ত্র দিয়ে অল্প সময়ের মধ্যে কম খরচে ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তোলার সুযোগ পেয়ে কৃষকেরাও এখন অনেক খুশি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল আজ সোমবার মাঠ পর্যায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্র দিয়ে ধান কাটা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ২০ হাজার ১৪৫ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু আবহাওয়ার অনুকূল পরিবেশসহ বিভিন্ন কারণে বোরো চাষ করা হয়েছে ২০ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৪৫৫ হেক্টর বেশি জমিতে কৃষকেরা এবার বোরো ধান আবাদ করেছেন। এ অবস্থায় পাকা ধান ঘরে তোলার সুবিধার্থে সরকারিভাবে এ বছর এ উপজেলায় ৯টি কম্বাইন্ড হারভেস্টর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে যন্ত্রের মোট দামের ৭০ ভাগ ভর্তুকি দিয়ে সাতটি যন্ত্র কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া আগে ছিল ছোট-বড় আরও পাঁচটি যন্ত্র। ফলে এসব যন্ত্র দিয়ে এখন জোরেশোরে চলছে ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজ। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে কম খরচে ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে ঘরে তুলতে পারছেন কৃষকেরা। এতে শ্রমিকসংকটে বিপাকে থাকা অনেক কৃষককের পাকা ধান ঘরে তোলার দুশ্চিন্তা অনেকটা ঘুচে যাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল সোমবার উপজেলার মাস্কা ইউনিয়নের রায়পুর হাওড়ে কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্র দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুল কাদির ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র আসাদুল হক ভূঁইয়া, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মর্জিনা আক্তারসহ দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনিছুজ্জামান কালের কণ্ঠকে জানান, এ বছর উপজেলায় ধান কাটা-মাড়াইয়ের কাজে কম্বাইন্ড হারভেস্টার যন্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যে কম খরচে ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তোলার সুযোগ পাওয়ায় কৃষকেরাও এখন অনেক খুশি। তাছাড়া শ্রমিকসংকটসহ বিভিন্ন কারণে পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তাও অনেকটা কমে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *