ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা দ্রুত বিতরণের নির্দেশ

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ৩ হাজার কোটি টাকা দ্রুত বিতরণের নির্দেশ

তাজা খবর:

বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে খ্যাত মতিঝিলের ফুটপাথে ছোট্ট একটি টং দোকানের মালিক হান্নান। সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবার ব্যতীত বাকি পাঁচদিন সকাল থেকে রাত্রী পর্যন্ত চা আর বিস্কুট বিক্রি করে সংসার চলে তার। এভাবে ভালই চলছিল হান্নানের দিন-মাস-বছর। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে পাল্টে গেছে তার জীবন। দোকান বন্ধ, ব্যবসা নেই, হাতে জমানো সঞ্চয়ের টাকাও শেষ হয়ে এসেছে। এ অবস্থায় কিভাবে চলবে আগামী দিনের সংসার? এই ভাবতে ভাবতে কপালে যখন দুশ্চিন্তার ভাজ, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঘোষণায় যেন আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখল সে। করোনা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে প্রান্তিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়েছে। দ্রুত এই ঋণ বিতরণে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এই তহবিল থেকে ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ঋণ পাবে হান্নানদের মতো প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও। বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে এসব প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, করোনার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয় উঠতে অর্থনীতির সবখাতে আর্থিক প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। এই প্যাকেজ থেকে দেশের সবখাত উপকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন কর্মসূচী চালু করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির আওতায় দেশের প্রায় ১ কোটি সুবিধাভোগী বিভিন্ন ধরনের ভাতা পাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জনকণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে কেউ বাদ পড়বে না, সবাই উপকৃত হবে। ছোট ছোট ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও যাতে স্বল্পসুদে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করতে পারেন, সেজন্য ৩ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আশা করছি এই উদ্যোগ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছোট ছোট ব্যবসায়ী যেমন, চা বিক্রেতা, ফল ব্যবসায়ী, হকাররা উপকৃত হবেন।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের পেশাজীবী, কৃষক এবং প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে গঠন করা এ তহবিল থেকে গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন যা ক্রমহ্রাসমান পদ্ধতিতে হিসাবায়ন হবে। ক্ষুদ্র ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এই ঋণ দেয়া হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয়ভাবে কৃষি এবং বিভিন্ন আয়ের উৎস কর্মকা-ে নিয়োজিত বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার স্থানীয় উদ্যোক্তা ও পেশাজীবী ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান এ তহবিলের ঋণ সুবিধা পাবে। এছাড়া হত দরিদ্র অথবা অনগ্রসর গোষ্ঠীভুক্ত ব্যক্তি এবং অসহায় নিগৃহীত নারী সদস্য এ ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবেন। এ তহবিলের মেয়াদ হবে তিন বছর। দেশের ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণ করা হবে। তবে ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করবে এই স্কিম থেকে পুনঃঅর্থায়নে আগ্রহী তফসিলী ব্যাংক, যারা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বার্ষিক মাত্র ১ শতাংশ সুদে তহবিল পাবে। ক্ষুদ্র ঋণ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ব্যাংকগুলো এই তহবিল দেবে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদে। আর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা ৯ শতাংশ সুদ গুনবেন। এই সুদ অনেক বেশি মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা সুদ কমানোর দাবি করেছেন। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে তাদের অবদান রয়েছে। কিন্তু এ খাতে সমস্যাও বেশি। বিশেষ করে ব্যাংকগুলো এ খাতে ঋণ দিতে চায় না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *