কয়েকটি দেশের ভিসার জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

কয়েকটি দেশের ভিসার জন্য করোনা টিকা বাধ্যতামূলক হচ্ছে

তাজা খবর:

ভিসা পেতে হলে টিকা নিতে হবে- এমন ঘোষণা আসছে। করোনা মহামারীতে বিশ্বের অনেক দেশই ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে টিকাকে বাধ্যতামূলক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এরইমধ্যে সৌদি আবার চলতি বছরের হজের জন্য টিকা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছে। মহামারীতে টিকা ছাড়া করোনার অন্য কোন কার্যকর ওষুধ আবিষ্কার না হওয়ায়- এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের ওপরই ভরসা ও আস্থা রাখতে হচ্ছে। এমন বাস্তবতা থেকেই চলতি বছরের হজ পালনকারীদের জন্য কোভিড-১৯ এর টিকা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার। দেশটি ইতোমধ্যে তেমন নির্দেশনা দিয়েছে। বুধবার সৌদি সংবাদ মাধ্যমে এ ধরনের সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে সৌদি আরব ছাড়াও বিশ্বের অন্যান্য দেশও পর্যায়ক্রমে ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে টিকা গ্রহণের শর্তজুড়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভারতের একটি রাজ্য এরইমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে- সেখানে প্রবেশ করতে হলে বয়স্কদের অবশ্যই টিকা নিতে হবে। দক্ষিণ কোরিয়াও ঘোষণা দিয়েছে- করোনা মহামারীতে সীমিত আকারে বিদেশীদের জন্য ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও আগামীতে টিকা গ্রহণের শর্তজুড়ে দেয়ার ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। এছাড়া ইউরোপের কয়েকটি দেশও ভিসা প্রদানের আগে টিকার বিষয়ে বাধ্যবাধকতার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে। এশিয়ার পর্যটন শীর্ষ থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও জাপানসহ অন্যান্য দেশগুলোতেও বিদেশীদের জন্য টিকা গ্রহণকে নিরাপদ ভ্রমণের পূর্বশর্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। আগামী মাসেই এ ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে যাচ্ছে এশিয়ার বেশকটি দেশ। তবে বাংলাদেশ এ বিষয়ে এখনই তেমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সরকারের কোন দায়িত্বশীল মহল এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।

এদিকে টিকা নিয়ে শুরুতে বিশ্বব্যাপী যথেষ্ট মতবিরোধ সমালোচনা ও নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও এখন পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। এখন বিশ্বব্যাপী টিকার ওপর আস্থা ও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তারই প্রতিফলন ঘটেছে সৌদি আরবের এ সংক্রান্ত নির্দেশনায়। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে সৌদি সংবাদমাধ্যম। সৌদি স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ তৌফিক আল রাবিয়াহ এ বছরের পবিত্র হজে অংশ নেয়ার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর টিকা নেয়ার বিষয়টি মূল শর্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। যারা টিকা নেবেন না, তারা এ বছর হজে অংশ নিতে পারবেন না বলেও জানানো হয়েছে। প্রকাশিত সংবাদে মন্ত্রীর নির্দেশনা সম্বলিত প্রজ্ঞাপনকে উদ্ধৃৃত করে বলা হয়েছে, হজের সময় মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিতে প্রয়োজনীয় জনবল সরবরাহের জন্য দ্রুত প্রস্তুতি নিতেও মন্ত্রী আহ্বান জানিয়েছেন। হজ পালনকারীদের কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ থেকে মুক্ত রাখতে পদক্ষেপ গ্রহণে একটি কমিটি গঠনেরও নির্দেশনা দিয়েছেন ডাঃ আল রাবিয়াহ। যদিও চলতি বছরের জুলাই মাসে হজে অংশ নেয়ার বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়। গতবছর করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সীমিতসংখ্যক সৌদি এবং দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশী মুসলিমদের অংশগ্রহণে হজ পালন করা হয়েছিল। এ বিষয়ে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা করোনাভাইরাসের টিকা নিয়েছেন, তারাই শুধুমাত্র এবারের হজে অংশ নিতে পারবেন। দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী তৌফিক বিন ফাওজান বিন মোহাম্মদ আল-রাবিয়াহকে উদ্ধৃত করে সরকারপন্থী ‘ওকাজ’ পত্রিকা এই খবর দিয়েছে- এ বছরের জুলাই মাসে হজ অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, যারা এবারের বাৎসরিক হজে অংশ নিতে যান, তাদের অবশ্যই ভয়াবহ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা নেয়ার প্রমাণ থাকতে হবে। একটি বিবৃতির মাধ্যমে তার এই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যা দেখতে পেয়েছে ওই দৈনিক পত্রিকাটি। সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদপত্র স্কাই নিউজ এ্যারাবিয়াতেও এই খবরটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখের বেশি মানুষ হজে অংশ নিয়ে থাকেন। এ মাসের মধ্যেই সেই সংক্রান্ত কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুঃ আঃ হামিদ জমাদ্দার একটি বিদেশী গণমাধ্যমকে বলেছেন, এই রকম একটি খবর আমরা গণমাধ্যমের বরাতে জানতে পেরেছি। যদিও এখনও সৌদি আরব থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন নির্দেশনা পাইনি।’ তবে আমাদের এই বিষয়েও প্রস্তুতি আছে। আমাদের জন্য বরাদ্দ কোটা অনুযায়ী যারা হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করবেন, তাদের আমরা বিশেষ ব্যবস্থায় টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেব। ফলে তাদের করোনাভাইরাসের টিকা পেতে কোন সমস্যা হবে না।

প্রসঙ্গত, মুসলমানদের বাৎসরিক সবচেয়ে বড় ধর্মীয় এই জমায়েতে প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ অংশ নিয়ে থাকে। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে গতবছর মাত্র কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। গতবছর সৌদি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে হজের ক্ষেত্রে বেশকিছু নতুন নিয়মকানুন অনুসরণ করার ঘোষণা দেয়া হয়। সেখানে বলা হয়- মিনা, আরাফাত, মুজদালিফাহ-র মতো পবিত্র স্থানগুলোয় প্রবেশ করতে হলে অবশ্যই অনুমতি থাকতে হবে। প্রতিটি প্রবেশপথে তাপমাত্রা পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। সবাইকে এসব চেকপয়েন্টের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। যাদের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ঘ্রাণ বা স্বাদের অনুভূতি হারানোর মতো লক্ষণ থাকবে, চিকিৎসকদের পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তাদের একই ধরনের লক্ষণ থাকা মানুষদের গ্রুপে অন্তর্ভুক্ত হয়ে হজে অংশ নিতে হবে। যাদের এসব লক্ষণ দেখা দেবে, এমন কোন কর্মী হজ কেন্দ্রগুলোয় কাজ করতে পারবে না, যতক্ষণ তারা পুরোপুরি আরোগ্য হন। হজের সময় সবাইকে মাস্ক পরতে হবে এবং অন্তত দেড় মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একইভাবে এ বছরের হজ পালনকারীদের জন্য টিকা গ্রহণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *