খাদ্যের হাহাকার দেশের কোন গ্রামেও নেই ॥ শেখ হাসিনা

খাদ্যের হাহাকার দেশের কোন গ্রামেও নেই ॥ শেখ হাসিনা

তাজা খবর:

সরকার মহামারী করোনা নিয়ন্ত্রণে রেখে দেশের মানুষের জীবনযাত্রা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অনেক উন্নত দেশেও (করোনাকালে) খাদ্যের অভাব, দুর্ভিক্ষ অবস্থা। বাজারে জিনিস পাওয়া যায় না। লন্ডনে সুপারমার্কেটে সাপ্লাই নেই। খাবার জিনিস পর্যন্ত পাওয়া যায় না। তবে বাংলাদেশের কোন গ্রামেও খাদ্যের হাহাকার নেই। করোনা মহামারীর মধ্যেও আমরা দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে সক্ষম হয়েছি।

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সদ্য প্রয়াত সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেনের মৃত্যুতে আনা শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অধিবেশনের শুরুতে স্পীকার শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে সর্বসম্মতিক্রমে তা গ্রহণ করা হয়। এরপর মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত ও দোয়া করা হয়। এরপর রেওয়াজ অনুযায়ী অধিবেশনের অন্য কার্যক্রম স্থগিত রেখে বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় অধিবেশন আবারও বসবে।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা ছাড়াও শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের, সাবেক মন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আব্দুস সোবহান মিয়া, আনোয়ারুল আবেদিন খান ও ছোট মনির।

সংসদ সদস্য একাব্বর হোসেনকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একাব্বর হোসেন ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান, সৎ ও নিবেদিত প্রাণ রাজনৈতিক কর্মী। একাব্বর থাকলে এদেশের রাজনীতিতে অনেক অবদান রাখতে পারত। কারণ তার সততা, একনিষ্ঠতা ও দেশপ্রেম, একজন রাজনীতিবিদের মধ্যে যা সব থেকে বেশি প্রয়োজন, নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলি ছিল। তিনি বলেন, অসুস্থ হওয়ার পর থেকে প্রতিদিনই তাঁর চিকিৎসার খবর নিচ্ছিলাম। মঙ্গলবার খবর পেলাম তাঁর আবার হার্ট এ্যাটাক হয়েছে। লাইফসাপোর্টে নেয়া হয়েছে। তখনই আমার সন্দেহ হলো আর বোধহয় ফিরে আসবে না। সেই ঘটনাটাই ঘটল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত সংসদের ২০ জন সংসদ সদস্যকে হারিয়েছি। বলতে গেলে প্রতিবারই সংসদ শুরু করতে হতো শোকপ্রস্তাব নিয়ে। কিন্তু শোকপ্রস্তাব এবার নেয়া হলেও কোন এমপির মৃত্যুর জন্য আলোচনা করার দরকার হয়নি। ফলে স্বস্তি নিয়ে শুরু করলাম ঠিকই, কিন্তু ভয়াবহ আঘাতটা এলো। আমাদের আবারও সেই শোকপ্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করতে হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, একটি সংসদে এতজন মানুষের মৃত্যু। সত্যিই যেন অস্বাভাবিক ঘটনা। যারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করছে তারাই যেন একে একে চলে যাচ্ছে। সে একাব্বর সবসময় সক্রিয় ছিলেন। তিনি আদর্শের প্রতীক ও নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। ছিলেন ভাল সংগঠক। দেশ ও জনগণকে অনেক কিছু দিতে পারতেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৮১ সালের পর থেকে অনেক ঝড়-ঝাপটার মধ্য দিয়ে চলতে হয়েছে। পদে পদে বাধা এসেছে। যেখানে সভা করতে গিয়েছি বাধা পেয়েছি। মিটিংয়ে বোমা হামলা থেকে শুরু করে মঞ্চ পোড়ানো, অনেক ঘাতপ্রতিঘাতের মধ্যে চলতে হয়েছে। একাব্বরদের মতো আমাদের নিবেদিত কর্মী যারা ছিল তারা সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সমাবেশে যোগ দিয়েছে। আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তুলেছে। গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ আন্দোলনে তার ভূমিকা রেখেছে। কোন সমাবেশের ডাক দিলেই ছুটে আসত। আন্দোলনের কর্মসূচী বাস্তবায়নে একাগ্রচিত্র হয়ে কাজ করেছে। তার অবদান কখনও ভোলার নয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল। আত্মার সম্পর্ক ছিল যার কারণে সহজভাবে নির্বাচনে জিতে আসত। নির্বাচনে নমিনেশন পাওয়ার পর সে কারো থেকে চাঁদা তোলা, টাকা নেয়া কোন কিছুই সে করেনি। মির্জাপুরের ওই এলাকায় আমাদের অনেক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। সেখানে উন্নয়ন কাজে বাধা দেয়া বা কোন ধরনের অনিয়মের সঙ্গে সে ছিল না। বরং প্রতিটি কাজ যাতে সহজভাবে হয়, সেই প্রচেষ্টা তার মধ্যে দেখেছি। টাঙ্গাইলের উন্নয়নে তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। প্রতিটি স্থায়ী কমিটিতে যে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। সড়কের সভাপতি হিসেবে উন্নয়নের ভূমিকা রেখেছে।

২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকারের বিভিন্ন কর্মকা- তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, অপারেশন ক্লিন হার্টের নামে মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে আজকে তাঁরা ক্রসফায়ার নিয়ে কথা বলে। এটা তো শুরুই করল বিএনপি। র্যাব সৃষ্টি করে ক্রসফায়ারে মানুষকে হত্যা শুরু হয়। ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে বিএনপি প্রথম আঘাত করে জাতীয় পার্টির ওপর। সেই সময় আওয়ামী লীগও রেহাই পায়নি। ওদের চরিত্রটা ছিল ওইরকম। এরশাদ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়েও আওয়ামী লীগের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে তো কতবার গ্রেফতার করা হয়েছে।

দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করলেই দেশের উন্নয়ন সম্ভব উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়ন করতে হলে নিষ্ঠাবান হতে হবে। দেশপ্রেম থাকতে হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে, সততা নিয়ে কাজ করলে একটি দেশের উন্নতি করা যেতে পারে। তিনি বলেন, আমরা তো এমনও দেখেছি নিজের দেশের অর্থ অন্যের হাতে তুলে দিয়ে, সেই অর্থ আবার কমিশন হিসাবে খাওয়া। এর চেয়ে লজ্জার কথা কিছু থাকতে পারে না। দেশের প্রতিটি পাই পাই টাকা, দেশের উন্নয়নে ব্যয় হবে। দেশের সব মানুষের উন্নতি মানেই তো নিজের উন্নতি। সেই ধরনের নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব যে আমাদের জন্য কত প্রয়োজন, সেটা আমরা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করি। তিনি আরও বলেন, আমরা পঁচাত্তরের পরে ২১টা বছর দেখেছি। ওই অবস্থা থাকলে আজকে ১২ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ যেভাবে উন্নতি করেছে, সেটা কি সম্ভব হতো?

করোনা মহামারী মোকাবেলায় সহযোগিতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ছোট্ট একটি ভূখ-। জনসংখ্যা অতিরিক্ত বেশি। তারপরেও গ্রাম পর্যন্ত খাদ্যের হাহাকারটা নেই। করোনা সংক্রমণ শুরু হলে আমি যখন আহ্বান করলাম, তখন সবাই নেমেছে। কাজ করেছে। আমার দলের লোকেরাও কাজ করেছে। তারা কৃষকের ধান ঘরে তুলে দিয়েছে। তাছাড়া এই দেশের সব মানুষের ভিতরেই একটা আগ্রহ ছিল। সবাই কাজ করেছিলাম বলেই দুর্যোগটা মোকাবেলা করতে পেরেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *