ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত

তাজা খবর:

ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটন খাত। দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে যাতায়াত বাড়ছে পর্যটকদের। সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার ও সাগরকন্যা কুয়াকাটায় পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাঙামাটি আর বান্দরবানসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানও মুখরিত হয়ে উঠছে। হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউসে খালি রুম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। পর্যটকদের জমজমাট উপস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসা জমে উঠছে।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. মহিবুল হক গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটক এরই মধ্যে অনেক বেড়েছে। দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কক্সবাজার ও কুয়াকাটাতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় পর্যটক এখন অনেক বেশি। ফলে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে পর্যটন খাত। তিনি জানান, করোনাকালে পর্যটন ব্যবসা সচল রাখতে একটি নীতিমালাও করা হয়েছে। পর্যটকরা যাতে সচেতনভাবে বেড়াতে যান, সেজন্য সরকারেরও ব্যাপক প্রচারণা আছে।

পর্যটন খাতের উদ্যোক্তাদের অন্যতম সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-টোয়াব সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, অভ্যন্তরীণ পর্যটনশিল্প চাঙ্গা হতে শুরু করায় উদ্যোক্তাদের মাঝে প্রাণের সঞ্চার ঘটেছে। এতে দেশীয় পর্যটন খাত লাভবান হচ্ছে। অংশীজনরা ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। এক কথায় পর্যটন খাতে কর্মযজ্ঞ বাড়ছে। তার মতে, জনজীবন যখন স্বাভাবিক হবে, স্বস্তি ও শান্তিময় হবে, তখনই মানুষ ঘুরে বেড়াবেন। আগামীতে এক কোটির বদলে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ ঘুরে বেড়াতে পারেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনাকালে ঘর থেকে বেরুতে পর্যটনমুখী হয়ে আছেন অধিকাংশ পরিবারের সদস্যরা। তারা আস্তে আস্তে ঘুরতে বেরও হচ্ছেন। কেউ যাচ্ছেন সমুদ্রে। কেউ যাচ্ছেন পাহাড় কিংবা সমতলের দর্শনীয় স্থানগুলোতে। এক কথায় বদ্ধ পরিবেশ থেকে বেরিয়ে প্রকৃতির উঞ্চতা খুঁজছেন। ফলে জমে উঠছে দেশের পর্যটনশিল্প। স্থানীয় পর্যটকদের পদচারণায় এরই মধ্যে মুখরিত হয়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার এবং সাগরকন্যা খ্যাত আরেক সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যটনশিল্পে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৪০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদন- জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ অবদান রাখা পর্যটন শিল্পে করোনার আঘাতে গভীর সংকট দেখা দিলেও, তার ৮০ শতাংশ উত্তরণ এরই মধ্যে ঘটেছে। পর্যটন নগরী ও সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার পর্যটকদের জন্য খুলেছে গত ১৭ আগস্ট। এর আগেই খুলেছে সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা। দেশের অন্য দর্শনীয় স্থানগুলোতেও পর্যটকদের সরব উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। আকাশপথে অধিক যাত্রী পরিবহনের তথ্য মিলেছে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের দেশ-বিদেশে আসা যাওয়ার মধ্যদিয়ে পুরো পর্যটনশিল্প ঘুরে দাঁড়াবে।
এ প্রসঙ্গে পর্যটন খাতের অভিজ্ঞ বিশ্লেষক ও ভ্রমণ বিষয়ক ইংরেজি মাসিক পত্রিকা দ্য মনিটর সম্পাদক কাজী ওয়াহেদুল আলম বলেন, করোনাকালে অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো যাচ্ছে অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাত। অভ্যন্তরীণ রুটে বিমান চলাচলও শুরু হওয়ায় পর্যটক বেড়েছে। রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজারে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। আগের চেয়ে বড় বড় উড়োজাহাজ দিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী যাতায়াত করছে। এটা কেউ আশা করেনি। এই চাহিদা কাজে লাগিয়ে পর্যটনের নতুন নতুন স্থান উন্নয়ন করতে হবে, যেখানে পর্যটকদের আগ্রহ রয়েছে।

কক্সবাজার হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউস, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক করিম উল্লাহ কলিম বলেন, এখনই কোথাও রুম খালি নেই। দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে এখন সবাই বেড়াতে এসেছেন। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে পর্যটন খাতের অবস্থা রমরমা। পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় রয়েছে কক্সবাজারে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, পর্যটকদের নানা ধরনের সেবা প্রদানের জন্য করণীয় বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরি করেছে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড। এতে ট্যুর অপারেটর, ট্র্যাভেল এজেন্ট, হোটেল, রেস্তোরাঁ, এয়ারলাইনস, ট্যুরিস্ট কোচসহ পর্যটনের সঙ্গে জড়িত নানা পক্ষের জন্য আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, কভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর থেকে যেসব স্বাস্থ্যবিধি রয়েছে সেগুলো মানা ছাড়াও পর্যটকদের ভ্রমণে যাওয়ার আগে অনলাইনে বুকিং ও অর্থ পরিশোধ করতে বলা হচ্ছে। বড় দলে ভ্রমণের পরিবর্তে কম সদস্য ও পারিবারিক ভ্রমণকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সেবা গ্রহণের পূর্বে হোটেল, রেস্তোরাঁ, স্থানীয় পরিবহন, গাইড, স্যুভেনির শপ ইত্যাদির কভিড-১৯ বিষয়ে নিরাপত্তা বিধানের সক্ষমতা রয়েছে কিনা তা যাচাই করে বুকিং দেওয়া, হোটেলে অবস্থানকালে বহিরাগত কারও প্রবেশ নিরুৎসাহিত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিয়ম না মানলে পর্যটকদের জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। কেউ যদি মাস্ক না পরে কোথাও যান, তাহলে তাকে জরিমানা গুনতে হবে। এ জন্য মোবাইল কোর্ট, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং প্রশাসন নজরদারি করছে। পর্যটকদের কোচগুলোতে একটি করে আসন বাদ দিয়ে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কক্সবাজারে পর্যটকদের কাছে যারা বিভিন্ন সুভ্যেনির বিক্রি করেন, সেখানে যারা গাড়ি সরবরাহ করেন, ট্যুর গাইড, রেস্টুরেন্টের কর্মী তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এমনকি রান্না ঘরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কীভাবে হবে- সেটিও বলে দেওয়া আছে ওই সরকারি নির্দেশাবলিতে। বিআইএইচএ সভাপতি এইচ এম হাকিম আলী সম্প্রতি বলেন, দেশে পর্যটক বাড়ছে। স্থানীয় পর্যটকরা ঘুরতে বের হচ্ছেন। নতুন নতুন রিসোর্টও হচ্ছে। ফলে এক ধরনের চাঙ্গাভাব দেখছি। কিন্তু তারকা হোটেলগুলোর কোনো উন্নতি হয়নি। দেশের যে সব পর্যটক এত দিন বিদেশে ঘুরতেন, তারা এখন স্থানীয় দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে বেরুচ্ছেন। এটা আমাদের পর্যটনশিল্পে ইতিবাচক দিক। তিনি পর্যটন শিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে বলেন, আগামী তিন বছরের জন্য তিন হাজার কোটি টাকার সুদমুক্ত ঋণ চাই। করোনা সংকট কেটে গেলে বিদেশি গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের আহ্বান জানাই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *