`চামড়ার রপ্তানি আয় ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে`

`চামড়ার রপ্তানি আয় ৫০০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে`

তাজা খবর:

নতুন প্রত্যাশা নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে নতুন বছরের। বাংলাদেশের সামনে অন্তত ১৫টি খাতকে দ্রুত উন্নতির ক্ষেত্র হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তার মধ্যে অন্যতম চামড়া শিল্প খাত। বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের পরই সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় হয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে। যার পরিমাণ বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার। এর অভ্যন্তরীণ বাজার প্রায় দুইশ’ কোটি ডলারের। সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে বিবেচনা করে ২০১৭ সালে চামড়াকে ‘বার্ষিক পণ্য’ ঘোষণা করেছিলো সরকার। আর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পে এই মুহূর্তে কাজ করছেন প্রায় ৬ লাখ মানুষ।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের চামড়াজাত দ্রব্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগের তুলনায় চামড়ার রপ্তানি বৃদ্ধিতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। চামড়া শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে হাজারীবাগ থেকে হেমায়েতপুরে ট্যানারি স্থানান্তর করেছিলো সরকার। এই শিল্পে প্রবৃদ্ধির বর্তমান হার পাঁচ দশমিক নয় শতাংশ। আর, বিশ্ববাজারে জুতা রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান এখন অষ্টম।

বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) দেশের দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি খাত চামড়া ও চামড়া জাত পণ্য থেকে আয় হয়েছে ১০ কোটি ৬১ লাখ ডলার। যেখানে ৭ কোটি ২৩ লাখ ডলারের চামড়ার জুতা, ২ কোটি ৪০ লাখ ডলারের চামড়াপণ্য ও ৯০ লাখ ডলারের চামড়া রপ্তানি হয়েছে। সব মিলিয়ে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা জুলাই মাসের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১৫ দশমিক ৪১ শতাংশ বেশি।

তথ্যানুযায়ী ধারণা করা যাচ্ছে আগামী বছরগুলোতে চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য থেকে বিপুল পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
প্রক্রিয়াজাত চামড়া, জুতা ও চামড়াজাত অন্যান্য পণ্য, এই তিন শিল্পের মধ্যে চামড়াজাত অন্যান্য পণ্য ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া শিল্পের গতি ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। জুতা, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের বিশাল সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরাও। এই খাতে চীনের রপ্তানি আয় সবথেকে বেশি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, চীনের সাথে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ বাংলাদেশের রয়েছে। এজন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী চামড়া শিল্পনগরী পুরোপুরি প্রস্তুতের পাশাপাশি জাতীয় চামড়া নীতিমালা বাস্তবায়নের তাগিদ দেন তারা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এই খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।

শ্রমিকদের শ্রম-ঘাম, উদ্যোক্তাদের প্রতিদিনকার লড়াই এবং বাংলাদেশ সরকারের নানামুখী উন্নয়ন পরিকল্পনার ফলে বাংলাদেশ চামড়া ও চামড়াজাত শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সকলের৷

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *