জনকল্যাণে সবকিছু করতে শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর: ওবায়দুল কাদের

জনকল্যাণে সবকিছু করতে শেখ হাসিনা বদ্ধপরিকর: ওবায়দুল কাদের

তাজা খবর:

শেখ হাসিনার সরকার জনকল্যাণে করণীয় সবকিছু করতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, জনগণের প্রতি কমিটমেন্ট পালনে শেখ হাসিনার সরকার এবং আওয়ামী লীগ সব সময় সর্বাগ্রে ছিল, এখনো আছে, ভষ্যিতেও থাকবে। সময় এলে জনগণই সরকারের কর্মের মূল্যায়ণ করবে, ইনশাল্লাহ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের প্রতিবাদ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের শুক্রবার এক বিবৃতি এসব বলেন।

গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিএনপি নেতারা শ্রাবণের শেষপ্রান্তে এসে এখন নতুন করে আষাঢ়ের গল্প শুরু করেছে। তারা বলছে, শেখ হাসিনা সরকার নাকি ওয়ান ইলেভেন সরকারের ধারাবাহিকতা। দেশের জনগণ ভালো করেই জানে যে, ওয়ান ইলেভেন বিএনপির কারণেই সৃষ্টি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, আসলে বিএনপির মাথা থেকে ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির ভূত এখনো নামেনি। দেশবাসীর কাছে অজানা নয়- কারা বিচারপতি হাসানকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান বানাতে বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়েছিল? কারা প্রেসিডেন্ট ইয়াজউদ্দিন সাহেবকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানিয়ে প্রহসনের নির্বাচন করতে চেয়েছিল? কারা এক কোটি তেইশ লাখ ভুয়া ভোটার সৃষ্টি করে এ দেশের জনগণের ভোটাধিকারের সঙ্গে তামাশা করেছিল? মূলত বিএনপির অন্ধ ক্ষমতালিপ্সা আর অবাধ দুর্নীতির সাম্রাজ্য টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা সেদিন ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টির পথ মসৃণ করেছিল।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, করোনার শুরু থেকে জনগণের জীবনের পাশাপাশি জীবিকার সুরক্ষা, অর্থনীতির চাকা সচল রাখা, উৎপাদন ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা, করোনার নমুনা পরীক্ষা ও চিকিৎসা নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সুরক্ষা সামগ্রী সংগ্রহ, সম্মুখ যোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ এবং অসহায় মানুষের সুরক্ষায় শেখ হাসিনা সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর বিএনপি শুরু থেকে যে সহজ কাজটি করছে, তা হলো চিরাচরিতভাবে সরকারের অন্ধ সমালোচনা।

তিনি বলেন, সরকারের একটি ভালোকাজও এ পর্যন্ত বিএনপির চোখে পড়েনি। এক্ষেত্রে যেন তাদের চোখে ছানি পড়েছে। হাজার হাজার সম্মুখসারির যোদ্ধা জীবনবাজি রেখে কাজ করছে, এমনকি মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করছে। অথচ বিএনপি তাদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ করেনি। ক্ষমতার লোভে উন্মত্ত হয়ে তাদের স্নায়ুবিক সংবেদনশীলতা লোপ পেয়েছে। এটি কী বিএনপির স্বার্থান্ধতা এবং সংকীর্ণতার রাজনীতি নয়? জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে তারা শুধু সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই মাঠে থাকতে চায়। কিন্তু জনগণের মনের মাঠে তারা ক্রমশ কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে, সেদিকে তাদের নজর নেই।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সমালোচনার নামে ঢালাও মিথ্যাচারের প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিএনপি। তারা ভেবেছিল ভ্যাকসিন সংগ্রহে সরকার ব্যর্থ হবে। তারা তাদের সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে মূল্যায়ন করতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অনন্য কূটনৈতিক দক্ষতা এবং মানবিক নেতৃত্বে সরকার এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছে। টিকা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর বিএনপির অপকৌশল আবারো ব্যর্থ হওয়ায় তারা গৃহকোণ থেকে নৈরাজ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে কাল্পনিক অভিযোগ তুলছে।

নির্লজ্জভাবে মিথ্যা অভিযোগ তোলা বিএনপির নিত্যনৈমিত্তিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। আর তাদের এ ঢালাও মিথ্যাচার-ষড়যন্ত্রের বিপরীতে শেখ হাসিনার জনকল্যাণমূলক কর্মপরিকল্পনাই প্রতিবাদের মোক্ষম অস্ত্র- বলেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, সরকারি নাকি করোনা ব্যবস্থাপনায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। সফল না কি ব্যর্থ, তা দেশের মানুষ দেখছে। কিন্তু আপনারা কী করছেন, লিপসার্ভিস ছাড়া? দু-এক জায়গায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সারাদেশে স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাখ লাখ মানুষ টিকা নিচ্ছে, অথচ বিএনপি নেতারা তা দেখছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *