জরুরি সেবার আওতাভুক্ত হলো এনআইডি

জরুরি সেবার আওতাভুক্ত হলো এনআইডি

তাজা খবর:

চলমান কঠোর বিধিনিষেধে অতি জরুরি ছাড়া সরকারি সব অফিস বন্ধ ছিল। তবে সরকারের নির্দেশনা না থাকলেও সাধারণ নাগরিকদের কথা চিন্তা করে নিজ দায়িত্বে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক (ডিজি) এ কে এম হুমায়ুন কবীর।

মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঘোষিত প্রজ্ঞাপনে এনআইডি সেবাকে জরুরি পরিষেবা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এনআইডি ডিজি ঢাকা পোস্টকে বলেন, সরকারের কঠোর লকডাউনের মধ্যেও আমাদের সেবা অব্যাহত ছিল। আমিসহ আমার অন্যান্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিফটে ভাগ করে অফিস করেছি।

মঙ্গলবারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন থেকে এনআইডি সেবা কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্তরা নির্বিঘ্নে অফিসে যাতায়াত করতে পারবেন। ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত চলমান বিধিনিষেধ শিথিল থাকবে। এরপর ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট রাত ১২টা পর্যন্ত আবার কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিসেবা, যেমন- কৃষি পণ্য ও উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, বিক্রয়, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবা, কোভিড-১৯ টিকাদান, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদান কার্যক্রম, রাজস্ব আদায় সম্পর্কিত কার্যাবলি, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবা, ব্যাংক, ভিসা সংক্রান্ত কার্যক্রম, সিটি করপোরেশন/পৌরসভা (পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সড়কের বাতি ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি কার্যক্রম), সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফার্মেসি ও ফার্মাসিউটিক্যালসসহ অন্যান্য জরুরি/অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোর কর্মচারী ও যানবাহন প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে যাতায়াত করতে পারবেন।

ডিজি ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘আমরা কিন্তু এখনও প্রতিদিন অফিস করছি। এনআইডির কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিফটে ভাগ করে অফিস করছে। এনআইডিতে আমার যে কাজগুলো করতে হয়, সেগুলো করে যাচ্ছি। আমাদের সার্ভিসের জন্য যাতে কোনো মানুষ বিপদে না পড়েন, সেজন্য অত্যাবশ্যকীয় সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এনআইডি কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা বয়স্ক ও অন্তঃসত্ত্বা নারী যারা আছেন তাদের আপাতত এই শিফট ডিউটিতে রাখা হবে না। বাকি কর্মকর্তারা রোটেশন অনুযায়ী অফিসে কাজ করবেন। আমাদের সেবায় নতুন কিছু যোগ হওয়ার নেই। কারণ আমরা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। সরকার বা নাগরিকদের অত্যাবশ্যকীয় ছাড়াও চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

এর আগে ইসির যুগ্মসচিব মো. আবুল কাসেম ঢাকা পোস্টকে জানান, ‘করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১১২ জন কর্মকর্তা আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে কোভিডে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ও বাসায় ৩০ জন কর্মকর্তা চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সিরিয়াস অবস্থা থেকে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন। বাকি ২৮ জন হাসপাতাল ও বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

তিনি আরও জানান, ‘করোনায় আক্রান্ত সব নির্বাচন কর্মকর্তাদেরই নির্বাচন কমিশন থেকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা, নির্বাচন কমিশনাররা, ইসি সচিব ও আইডিএ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল কাশেম মোহাম্মদ ফজলুল কাদের হাসপাতালে ভর্তি থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *