জাবিতে তাজউদ্দিনের নামে হল তৈরির দাবি ছাত্রলীগ নেতার

জাবিতে তাজউদ্দিনের নামে হল তৈরির দাবি ছাত্রলীগ নেতার

সাঈদ বিন ইসলাম(জাবি প্রতিনিধি):

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ( জাবি ) বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ এর নামে হল তৈরির দাবি জানায়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আলম শেখ ।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আলম শেখ এর বাড়ি গাজীপুর জেলার কাপাসিয়ায়।

সম্প্রতি গত রোববার ( ৩০, জুন) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবির) আবাসন খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন পাঁচটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। প্রেসে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,‘ পূর্বপ্রান্তে ছাত্রীদের দু’টি এবং দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে ছাত্রদের তিনটি আবাসিক হলের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। ১০তলা বিশিষ্ট প্রতিটি হলে এক হাজার শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা থাকবে। ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে এসব হলের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। ’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ( জাবি )শাখা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আলম শেখ বলেন , “ছেলেদের জন্য নতুন ৩ টি হলের মধ্যে বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদ এর নামে একটি হল বরাদ্দ দেওয়া হোক‌ । তিনি আরও বলেন, তাজউদ্দীন আহমেদ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবর্তমানে মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দান করেন, স্বাধীনতায় তার অবদান অনস্বীকার্য, অথচ তার নামে কোন হল নেই, তাই স্বাধীন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদের অবদানকে স্মরণ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হল তৈরি করা সময়ের দাবি ।”

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের (বর্তমানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৫৪-এর নির্বাচনে তিনি যুক্তফ্রন্ট প্রার্থী হিসেবে মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদককে পরাজিত করে পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৪সালে প্রাদেশিক আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ১৯৬৬ সালে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে যে সর্বদলীয় নেতৃসম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ছয়দফা দাবি উত্থাপন করেন, সেই সম্মেলনে শেখ মুজিবের সাথে তিনিও যোগদান করেন।

প্রসঙ্গত আরও উল্লেখ্য যে, “তাজউদ্দীন আহমদ (২৩ জুলাই ১৯২৫ – ৩ নভেম্বর ১৯৭৫) বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা। তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সরকারেরপ্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব সাফল্যের সাথে পালন করেন। একজন সৎ ও মেধাবী রাজনীতিবিদ হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। তাজউদ্দীন আহমদ মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন যা মুজিবনগর সরকার নামে অধিক পরিচিত। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে তিনি বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী হিসাবে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নিহত হবার পর আরও তিনজন জাতীয় নেতাসহ তাঁকে বন্দী করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। সেই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেই ১৯৭৫ সালের ৩রা নভেম্বর বন্দী অবস্থায় ঘাতকের বুলেটে তিনি নিহত হন ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *