জামালপুরে অর্ধযুগ ধরে পড়ে আছে ৪ শয্যার আইসিইউ

জামালপুরে অর্ধযুগ ধরে পড়ে আছে ৪ শয্যার আইসিইউ

তাজা খবর:

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে পড়ে আছে চার শয্যার আইসিইউ। স্থাপনের পর গত ছয় বছরেও দক্ষ জনবলের অভাবে আইসিইউর কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে চিকিৎসার অভাবে বাড়ছে মৃত্যু হার, নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি।

জেলার সিভিল সার্জন ডা. প্রনয় কান্তি দাস বলেন, আইসিইউ পরিচালনার জন্য ১০ জন দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয়। সরকার ৪০৯ জন এনেসথেসিয়া ডাক্তার নিয়োগ দিচ্ছে। সেই নিয়োগ হয়ে গেলে আশা করা যাচ্ছে আমরা ৫-৬ জন দক্ষ লোক পাব। তখন আইসিইউ পরিচালনা করা হবে।

জানা যায়, জামালপুর জেলার ২৬ লাখ মানুষসহ পাশর্^বর্তী কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও শেরপুরের কয়েকটি উপজেলার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে। হৃদরোগ, স্নায়ু রোগ ও নিরোলজী আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য আড়াইশ শয্যার এ

হাসপাতালে স্থাপন করা হয় ইন্টেনসিভ করোনারি কেয়ার ইউনিট (আইসিসিইউ)। ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম চার শয্যার এ আইসিসিইউ বিভাগ উদ্বোধন করেন। স্থাপনের দীর্ঘ ছয় বছরেও তার কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে জেলাবাসীকে। আইসিসিইউ চালু না থাকায় বিপাকে পড়েন হাসপাতালের কর্তব্য চিকিৎসকরাও। এসব মুমূর্ষু রোগীকে সুচিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ বা ঢাকায় স্থানান্তর করতে হয়। এতে অনেকেরই রাস্তায় মৃত্যু ঘটে। এ ছাড়া আইসিসিইউ কাজে ব্যবহৃত মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জামালপুরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ বলছেন, হৃদরোগে আক্রান্তদের নিবিড় পরিচর্যা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইসিসিইউ চালু করা জরুরি।

জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক বলেন, যে কোনো স্ট্রোকের ব্যাপার হলেই আমাদের দ্রুত ময়মনসিংহ বা ঢাকা দৌড়াতে হয়। যদি এখানে আইসিইউটা চালু হয় তা হলে আমাদের জামালপুরবাসী দ্রুত এ সেবা পেতে পারে। এতে মৃত্যু ঝুঁকিটা কমে আসতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. মো. আবদুল হাকিম বলেন, মেটাল ইমার্জেন্সি, যেটা হার্টের ডিজিস সেগুলোতে বিশেষ করে হার্ট ব্লক হয়ে যায়। এগুলোতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার হয়। তা হলে রোগীরা খুবই উপকৃত হন। এতে করে সময়ও বাঁচে, সাধারণ মানুষের খরচও বাঁচে। এ ছাড়া দ্রুত ব্যবস্থা নিলে রোগীরা মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায়। তাই আইসিইউটা খুবই প্রয়োজন।

জামালপুরের নারী নেত্রী শামীমা খান বলেন, কারও হার্টের সমস্যা বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি দেখা দিলে তাদের ময়মনসিংহ বা ঢাকা পাঠাতে হয়। সে ক্ষেত্রে আমরা দেখি যে অনেক রোগী রাস্তায়ই মারা যান। কাজেই এখানকার মানুষ, হৃদরোগে আক্রান্তদের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জেলার মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম বলেন, করোনার মহামারীতে জামালপুরে এ পর্যন্ত ৭০টি প্রাণ ঝরে গেছে। এর বেশিরভাগই শ^াসকষ্টজনিত। যাদের আইসিইউ খুব প্রয়োজন ছিল। জামালপুরে আইসিইউ থাকার পরও মানুষ এখানে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না। আজ পর্যন্ত আইসিইউ-এর কোনো কার্যক্রম করা হয়নি। আইসিইউ কার্যকর করা এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করে আমাদের এ মৃত্যুর হার কমানো এবং শ^াসকষ্টজনিত করোনার আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানের দাবি জানাই।

জামালপুরের বিশিষ্ট কবি ও সাহিত্যিক সাযযাদ আনসারী বলেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউ সংকটে করোনা রোগী মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন, সেখানে ছয় বছর ধরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়েছে। এটার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *