জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে পরীমনিকে

জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে পরীমনিকে

তাজা খবর:

চিত্রনায়িকা পরীমনির অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। সিসি টিভির ফুটেজসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তের সঙ্গে গরমিল পাওয়া যাচ্ছে। উল্টো গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবের ঘটনায় কাঠগড়ায় এই তারকা। পুলিশ বলছে, ওইদিন ভুল তথ্য দিয়েছিলেন ঢালিউড সুন্দরী। এ অবস্থায় মধ্যরাতে গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাবে জোর করে ঢুকে মদ না দেওয়ায় ভাঙচুর, ওয়েটার ও নিরাপত্তারক্ষীকে মারধরের ঘটনায় চিত্রনায়িকা পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অল কমিউনিটি ক্লাবে তার মাতলামিকাণ্ড সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়ে।

গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, অল-কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের ঘটনাটি জানার পর প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হয়। এতে জানা যায়, গেল ৮ জুন রাতে বন্ধুবান্ধব নিয়ে অল কমিউনিটি ক্লাবে যান পরীমনি। সদস্য না হওয়ায়, কর্মচারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে পরীমনি ভাঙচুর শুরু করেন। আহত করেন বারের দুই কর্মচারীকে। এ ঘটনায় কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ না করলেও ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যাওয়া পুলিশের দলের পক্ষ থেকে একটি জিডি করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেছেন, ঢাকাই সিনেমার নায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ তুলেছে রাজধানীর গুলশানের অল কমিউনিটি ক্লাব কর্তৃপক্ষ। গভীর রাতে ওই ক্লাবে গিয়ে মদ চেয়ে পরীমনির ভাঙচুরের ঘটনার বিষয়ে অভিযোগের পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, তাকে অবশ্যই সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে। তিনি বলেন, যেহেতু মামলাগুলো চলমান, মামলার বাদীকে (পরীমনি) অবশ্যই প্রয়োজনে সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে। জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত শেষে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা যাবে।

পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, অল কমিউনিটি ক্লাবে ঘটনার পর ট্রিপল নাইনে ফোন দিয়ে তাকে আটকে রাখার কথা জানান পরীমনি। তবে তার সত্যতা মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বোট ক্লাবে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগের পর, এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসার কথা বলেছিলেন পরীমনি। তারও সত্যতা মেলেনি। সিটিটিভি ফুটেজও বলছে, হাসপাতালের সামনে গেলেও গাড়ি থেকে নামেননি তিনি।

গতকাল দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, কমিউনিটি ক্লাবের ঘটনাটি আমাদের গুলশান টিমের এলাকায়। আমরা বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই আলোচনা করব। এ বিষয়ে যে কোনো ধরনের অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, আমরা জেনেছি গত ৮ জুন গভীর রাতে পরীমনি ওই ক্লাবে গিয়েছেন, ৯৯৯-এর একটি ফোনে ওখানকার ঘটনাটি জানতে পারে পুলিশ। তবে পরবর্তীতে এটা নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আমরা এটা নিয়ে কাজ করব।

এর আগে বোট ক্লাবের ঘটনায় পরীমনির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এ বিষয়ে পরীমনিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি মামলা হয়েছে ঢাকা জেলাতে। যেহেতু মামলাগুলো চলমান, মামলার বাদীকে (পরীমনি) অবশ্যই প্রয়োজনে সব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হবে। এদিকে পরীমনির বিরুদ্ধে আরও কিছু ভাঙচুরের অভিযোগ পুলিশের কাছে আসতে শুরু করেছে।

সূত্র: আজকের অগ্রবানী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *