জিয়া পরিবারের পর এবার গয়েশ্বরের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি

জিয়া পরিবারের পর এবার গয়েশ্বরের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের ২৩ আগস্ট রাজধানীর নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা পালনের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপি ‘নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম’ গঠন করে। নারীদের অধিকার ও সংগ্রামের ক্ষেত্রে দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে মহিলা দল থাকলেও নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম নামের আরেকটি সংগঠন সৃষ্টি করায় বিএনপির অভ্যন্তরে দেখা দেয় চরম অসন্তোষ।

নতুন এই সংগঠনটি তৈরির প্রধান কারিগর হচ্ছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। আর উক্ত ফোরামে সেলিমা রহমানকে আহ্বায়ক ও নিপুণ রায় চৌধুরীকে সদস্য সচিব করা হয়। সঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং তার বেয়াই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়কে এ ফোরামের উপদেষ্টা করা হয়। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে গয়েশ্বর ও তার পরিবারের লাইম লাইটে নিয়ে আসা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রের দাবি, এই ফোরাম গঠনের উদ্দেশ্য হচ্ছে- গয়েশ্বর রায়ের পুত্রবধূ ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায়ের মেয়ে নিপুণ রায় চৌধুরীকে নেতৃত্বে আনা। বিএনপিতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পরিবারতন্ত্র পাকাপোক্ত করতেই এই ফোরাম গঠন করা হয়েছে বলে মত তাদের। এতদিন শুধু জিয়া পরিবার পারিবারিক রাজনীতি করতো, বর্তমানে তাদের সঙ্গে যোগ হয়েছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পরিবার।

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস ‌‌‌‌‘নতুন ফোরাম’ সম্পর্কে বলেন, ‘বিএনপির এখন ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ সময় যাচ্ছে। তবু দলের কিছু সিনিয়র নেতারা তাদের স্বার্থ অটুট রাখতে বিভিন্ন নতুন সংগঠন গঠন করছে।’ তিনি বলেন, ‘মহিলা দল থাকা সত্ত্বেও বিএনপিতে নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম কার স্বার্থে? তবে কি বিএনপিতে পরিবারতন্ত্র কায়েম করতে চায় তারা? প্রশ্ন রাখেন মহিলা দলের এই সভাপতি।’

মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ বলেন, ‘বিএনপিতে নারীদের একটি প্রতিষ্ঠিত সংগঠন মহিলা দল রয়েছে। তারপরও কেন তারা নতুন ফোরাম গঠন করলো জানা নেই। মহিলা দলকে ‘নতুন ফোরাম’ গঠন সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছিলো কি-না জানতে চাইলে সুলতানা বলেন, ‘না। এ সম্পর্কে বিএনপি বা কোনো সিনিয়র নেতা মহিলা দলকে অবহিত করেনি। আমরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতাদের এ ব্যাপারে চিঠি দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, মহিলা দল কিংবা নারী ও শিশু অধিকার ফোরাম সংগঠন দুটিকে প্রকাশ্যে কোনো নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়নি।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *