ডাল উৎপাদন বাড়াতে ১৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প

ডাল উৎপাদন বাড়াতে ১৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প

তাজা খবর:

ডালের উৎপাদন বাড়াতে সরকার ১৬৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মাধ্যমে মাদারীপুরে অবস্থিত ডাল গবেষণা কেন্দ্রে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। ফলে গবেষণার মাধ্যমে আরও বেশি ফলনশীল ডালের জাত উদ্ভাবন করা হবে। এর মাধ্যমে বাড়ানো হবে ডালের উৎপাদন।

এজন্য ‘আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্র, মাদারীপুরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৃহত্তর বরিশাল, ফরিদপুর অঞ্চলে ডাল ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়িত হলে গবেষণাগার ও অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক ডাল গবেষণা কেন্দ্রের উন্নয়ন ঘটবে। বাড়বে গবেষণার সক্ষমতা। সেই সঙ্গে বৃহত্তর বরিশাল ও ফরিদপুর অঞ্চলের উপযোগী উচ্চ ফলনশীল জাত এবং লাগসই উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন সম্ভব হবে। এ ছাড়া প্রকল্প এলাকার অনাবাদি ও এক ফসলি জমিতে ডাল ফসল আবাদের মাধ্যমে ডালের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বারি উদ্ভাবিত ডাল ফসলের উন্নত জাত ও প্রযুক্তিগুলো কৃষকের বিস্তার ঘটানো হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৮ কোটি টাকা।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, কৃষি মন্ত্রণালয় হতে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। আজ মঙ্গলবার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে একনেকে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে গণভবন থেকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। অনুমোদন পেলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই)।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সুষম খাদ্য ও পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ পাঁচ হাজার মেট্রিক টন হলেও উৎপাদন হয় প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন। ফলে প্রতি বছর প্রায় ১৭ লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন ডাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ খাতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হচ্ছে। এসব ডাল দেশে উৎপাদন সম্ভব হলে বাঁচবে দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা। অর্থনীতিতে বাড়বে কৃষির অবদান।

দেশে বৃহত্তর ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চল ডাল আবাদের অন্যতম এলাকা। দেশের মোট ডাল উৎপাদনের ৬০ শতাংশ মুগ, ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ খেসারি, ১৫ থেকে ২০ শতাংশ মসুর এবং ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ ফলন এ অঞ্চলে হয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এরই মধ্যে সাতটি ডাল ফসলের ৪২টি উন্নত জাত ও ৪১টি উন্নত চাষাবাদ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। কিন্তু কৃষকেরা এখনো সনাতন প্রচলিত জাতের ডাল চাষাবাদ করছেন। ফলে উৎপাদন বাড়ছে না।

এ ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের জমির লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ডাল চাষাবাদ, সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে অন্যতম প্রধান বাধা। এসব কারণে ডালের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলে গবেষণা ও উন্নত চাষাবাদ প্রযুক্তি বিস্তারের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানি ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য (সচিব) রমেন্দ্রনাথ বিশ্বাস পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রতিকূল পরিবেশ সহিষ্ণু, স্বল্পমেয়াদি, উচ্চ ফলনশীল, জলবায়ু অভিযোজনশীল ডালবীজ ও ডালের উৎপাদন সম্ভব হবে। এ ছাড়া উন্নত প্রযুক্তি কৃষক পর্যায়ে বিতরণ ও সম্প্রসারণ করা যাবে। ফলে ডালের উৎপাদন ও ফলন হার বৃদ্ধি পাবে।

প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রমগুলো হচ্ছে-ডাল ফসলের তিনটি উচ্চ ফলনশীল জাত এবং ১৫টি লাগসই উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং দেশ-বিদেশ থেকে ডাল ফসলের ৭৫০ জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করা। এ ছাড়া ডাল ফসলের প্রায় ১৫০ মেট্রিক টন বীজ উৎপাদন, ল্যাবরেটরি ভবন নির্মাণ, বিদ্যমান ট্রেনিং কমপ্লেক্স কাম গেস্ট হাউজের ঊর্ধ্বমুখী ও পার্শ্বে সম্প্রসারণ করা। এর বাইরে থ্রেসিং ফ্লোর, সেচ, পানি সরবরাহ, পানি শোধন প্ল্যান্ট স্থাপন, বাউন্ডারি ওয়াল, আরসিসি ড্রেনেজ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা, কুলিং ইফনিট স্থাপন, গবেষণা প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন এবং উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তিগুলো ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলে ১১টি জেলার ৫০টি উপজেলায় ১৫০০টি মাঠ পর্যায়ের উপযোগিতা যাচাই করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *