ডেঙ্গুরোধে দু’শতাধিক হাসপাতালে মশক নিধন অভিযান শুরু

ডেঙ্গুরোধে দু’শতাধিক হাসপাতালে মশক নিধন অভিযান শুরু

তাজা খবর:

ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোধে এবার প্রায় দুই শতাধিক হাসপাতালে মশক বিরোধী অভিযানে নেমেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটির সীমানায় অবস্থিত ছোটবড় সরকারী বেসরকারী এসব হাসপাতালের বিরুদ্ধে শনিবার থেকে শুরু হয়েছে এই অভিযান। সপ্তাহের শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ৬ দিন প্রতিদিন বেলা সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা এডিস মশা মারতে ফগিং ও লার্ভিসাইডিং করে এ অভিযান পরিচালনা করা হবে। মহামারী ভাইরাস করোনার প্রকোপের মধ্যেই নতুন করে যাতে নাগরিকদের মাঝে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ গত বছরের ন্যায় মহামারী আকারে ডেঙ্গু ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্যই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডিএনসিসি। বর্ষাকালের জুন-জুলাই-আগস্ট তিন মাসে একটানা মশক বিরোধী অভিযানে ডিএনসিসির ডোর টু ডোর যাওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। চলতি বছর এডিস মশা যেন কোনক্রমেই বাড়তে না পারে বা নতুন কোন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হয় সে জন্য আগাম সতর্কতা হিসেবে এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংস্থাটির স্বাস্থ্য শাখা অভিযান পরিচালনা করতে সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ মোট ৬ জনের একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। প্রতিদিন বিকেলে সংস্থাটির সীমানার প্রতিটি হাসপাতালে মশা মারতে ও প্রজনন স্থান ধ্বংস করতে কাজ করবে। এ জন্য ২ জন ফগার মেশিন ও ২ জন লার্ভিসাইড ছিটাতে কাজ করতে একজন সুপারভাইজার তা পর্যবেক্ষণ করবেন। এছাড়া সার্বিক কাজ তত্ত্বাবধান করতে ডিএনসিসির একজন সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ডিএনসিসি সূত্র জানায়, নিয়মানুযায়ী প্রতিদিন ভোরবেলা ও সন্ধ্যা বেলায় দুইবার ফগিং করা যায়। তবে ঢাকায় ভোরে ফগিং করতে মশক নিধনকর্মীদের সমস্যা হয় বিধায় সন্ধ্যায় ফগিং কাজ পরিচালনা করা হবে। এছাড়া একই টিম একসঙ্গেই প্রতিটি হাসপাতালের ভেতরে ও নির্দিষ্ট স্থানে লার্ভিসাইড ছিটাবেন।

জানা গেছে, এর আগে ডিএনসিসির প্রায় ২ শতাধিক ছোট বড় হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত কোন ব্যক্তি এসব হাসপাতালে ভর্তি হলে তাদের সকল তথ্য দিতে ও এডিস মশার বিস্তার যাতে না হয় তা লক্ষ্য রাখতে চিঠি প্রদান করেন। এরপর বেশ কিছু হাসপাতাল এ আহ্বানে সাড়া দিয়ে তথ্য প্রদান করলেও অনেক হাসপাতাল তেমন কোন তথ্যই প্রদান করেনি। করোনাভাইরাসের এ সময় তেমন সাড়া না দিলেও আবার নতুন করে এসব হাসপাতালে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল বা অপরিচ্ছন্ন স্থানে নিজ উদ্যোগে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ ফগিং ও লার্ভিসাংডিং করবে। একইসঙ্গে এসব হাসপাতালে অভিযানের সময় কোন প্রকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে না।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, করোনার এ ক্রান্তিলগ্নে হাসপাতালগুলো রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা প্রদান করছে। তাই প্রাথমিকভাবে তাদের শুধু সতর্কতা স্বরূপ এ কাজ করা হবে। তবে পরবর্তীতে যেন কোন হাসপাতালের ভেতরে বাইরে এডিস মশার কোন উৎস খুঁজে পাওয়া গেলে জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে নোটিস প্রদান করতে নির্দেশ দিয়েছে ডিএনসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বছর সংস্থাটি বাড়ি বাড়ি মশক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সে কাজ থেকে অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মূলত বছরব্যাপীই মশা মারার অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানালেও মূলত বর্ষাকালেই এ অভিযান জোরদার করা হয়। চলমান এ অভিযানে প্রাথমিক সুযোগ হিসেবে তাই কোন প্রকার জারিমানার সিদ্ধান্ত নেয়নি সংস্থাটি। সূত্র জানায়, এ অভিযানের পরপরই নতুন করে সরকারী বেসরকারী অফিসগুলোতে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মমিনুর রহমান মামুন জনকণ্ঠকে বলেন, আমরা এডিস মশাবিরোধী গত বছর পরিচালিত বিশেষ অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকেই এ বছর বর্ষার শুরতেই অভিযান পরিচালনা শুরু করেছি। এ জন্য কিছুদিন আগেই চিরুনী অভিযান পরিচালনা করেছি যা শেষ হয়েছে। এবার ডিএনসিসির সীমানায় অবস্থিত প্রায় ২ শতাধিক সরকারী বেসরকারী ছোট বড় হাসপাতালের মধ্যে কোন রোগী আছে কি না তা জানতে আগেই নোটিস করি। নতুন করে ৫ সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করেছি এছাড়া সার্বিক কাজ তদারকি করতে একজন সহকারী স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ টিম শনিবার থেকে আমরা একটানা ৬ দিন বিশেষ অভিযান পরিচালনা করব। মূলত মহামারী ভাইরাস করোনার প্রকোপের মধ্যেই নতুন করে যাতে নাগরিকদের মাঝে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া জ্বর মহামারী আকারে ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্যই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডিএনসিসি।

তিনি বলেন, করোনার এ মহামারীর সময়ে দেখা গেছে একটি হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরের রোগী থাকলে আর সেখানে এডিস মশা থাকলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তার ও নার্স ও সংশ্লিষ্টদের কামড়ায় ফলে আরও অনেক রোগী এ জ্বরে আক্রান্ত হন। তাই এ থেকে নাগরিকদের পরিত্রাণ দিতেই বর্ষার শুরুতেই আমরা হাসপাতালগুলোতে বিশেষ অভিযানে নেমেছি। তবে এ অভিযানে এডিস মশা নিয়ে সতর্ক করতে বিশেষ নোটিস প্রদান করছি। তাই এবার আমরা নিজেরাই মশক নিধনে ও প্রজনন স্থল ধ্বংস করতে প্রতিদিন বেলা সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ২ ঘণ্টা ফগিং ও লার্ভিসাইডিং করব। তবে পরবর্তীতে কোন হাসপাতালে এডিস মশার উপস্থিতি বা প্রজনন স্থল পাওয়া গেলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা ও শাস্তি প্রদান করব।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *