ঢাকা কলিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচিতি ও উদ্বোধন

ঢাকা কলিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচিতি ও উদ্বোধন

তাজা খবর:

ইউএসএইড-এর অর্থায়নে কাউন্টার পার্ট ইন্টারন্যাশনালের সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধানে দ:স্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে), কোয়ালিশন ফর আরবান পুওর (সিইউপি), বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডেজেনিয়াস নলেজ (বারসিক) ও ইনসাইটস-এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকা কলিং প্রকল্পের পরিচিতি ও উদ্বোধনী সভা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

বুধবার সকালে ঢাকার দ:স্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে), কোয়ালিশন ফর আরবান পুওর (সিইউপি) অফিস থেকে অনলাইনে অনুষ্ঠিত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সদস্য সাংসদ তানভির শাকিল জয়,বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী মো: সেলিম রেজা,এয়ার কমোডর বদরুল আমিন,ব্যারিষ্টার নওশের আলী মোল্লা। এছাড়া সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর,সাংবাদিক,এনজিও প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি,বস্তিবাসীদের প্রতিনিধি এ সভায় অংশগ্রহন করেন।

ইনসাইটস-এর কারিগরি উপদেষ্টা সুমন আহসানুল ইসলাম প্রকল্পের লক্ষ,উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। টিভিতে প্রচারিত এ বিষয়ক বিভিন্ন সময়ের সংবাদের কিছু চিত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে বস্তি এলাকায় সার্বিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও কার্যক্রম বিষয়ে তিনি বলেন, ’সংশ্লিষ্ট আইনগুলো প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলো যেসব প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হন, ঢাকা কলিং তা দূরীকরণের লক্ষ্যে বস্তিবাস,সরকার ও বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সাথে কাজ করবে। পাশাপাশি প্রকল্পটি বস্তি এলাকার বাসিন্দাদের এ বিষয়ে সচেতনতা, দক্ষতা উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২১ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩-এর মধ্যে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সাথে সমন্বিত হয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মোল্লার বস্তি, করাইল বস্তি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বালুর মাঠ বস্তি ও বউবাজার বস্তিতে বর্জ্যর্রে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

প্রকল্পের উদ্বোধক জেলা প্রশাসক মোঃ শহীদুল ইসলাম তার বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, ’ঢাকায় প্রতি চার জনে একজন মারা যান পরিবেশ দূষণের কারণে। রাষ্ট্র তার নাগরিকদের কতটা সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে তা পরিমাপের একটি মাপকাঠি হলো সেখানকার ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।’ তিনি বলেন, ’বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে বস্তিবাসী বিভিন্নভাবে নিগ্রহের শিকার হন। আমাদের মনে রাখতে হবে, বর্জ্যও এক ধরনের সম্পদ। তাই আমাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও সচেতন হতে হবে এবং একে কিভাবে পুনঃব্যবহার করা যায় সে বিষয়ে নজর দিতে হবে।’ তিনি ঢাকা কলিং-এর সাফল্য কামনা করে বলেন,’ঢাকা কলিং প্রকল্প ফেইল করলে পুরো বস্তিবাসী অসম্মানিত হবেন।’

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে প্রকল্পটিকে বাস্তব ও সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঢাকার মূল চালিকাশক্তি হলো এই বস্তিবাসী। তাই তাদের জীবনমান উন্নত করলে নগরের সামগ্রিক দূষণের অবস্থারও উন্নতি হবে। তিনি কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশনের উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে সুসমন্বিত উপায়ে পরিচালনা করা গেলে বস্তিবাসীর কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি ব্যারেল কমপোসটিং ও কার্গো ক্যারিং-এর মাধ্যমে শহর পরিষ্কার করার উপর জোর দেন। প্রধান অতিথি ঢাকা কলিং-এর সার্থকতা কামনা করে বলেন যে,প্রকল্পটি সফল হলে বিশ্বে তা শুধু প্রশংসিতই হবে না, তা অন্যদের জন্য অনুসরনীয়ও হবে।

সভায় বক্তারা আইনের বিভিন্ন বিধিমালার ফাঁকফোকরের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যথোপোযুক্ত বিধি না থাকার কারণে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনটির কার্যকর প্রয়োগ ব্যাহত হচ্ছে।পাশাপাশি পয়ঃবর্জ্য পরিশোধনাগারের অপ্রতুলতার কথাও বক্তব্যে উঠে আসে। এছাড়া বক্তাদের মধ্যে একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রতিবন্ধীদের বিষয়টি আলোচনায় তুলে আনেন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা, বিশেষ করে যারা চোখে দেখেন না বা হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন, তারা অন্যদের মতো গন্ধ পেয়ে বা বুঝতে পেরে চট করে ময়লা আবর্জনা থেকে সরে যেতে পারেন না। তাই তাদের ভোগান্তি অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি। বক্তারা বলেন,প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টের মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *