ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রচারণায় নতুনত্ব, ভোটারদের সাধুবাদ। তাজা খবর

ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রচারণায় নতুনত্ব, ভোটারদের সাধুবাদ। তাজা খবর

ডেস্ক নিউজ:

দেশের যেকোনো নির্বাচনেই থাকে জমজমাট প্রচারণা। ব্যানার ফেস্টুন কিংবা মাইকিং-এর মাধ্যমে প্রার্থীরা নিজেদের প্রচারণায় অংশ নেন। যাদের জন্য এত আয়োজন সেই ভোটাররা খুশি থাকুক কিংবা না থাকুক; প্রচারণায় কমতি থাকে না কোন প্রার্থীর। তবে এবারে ব্যতিক্রমী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসন্ন ঢাকা-১০ আসনের উপ-নির্বাচনে।

সংসদীয় আসনটির নির্বাচনী প্রচারণায় নতুনত্ব এনেছে নির্বাচন কমিশন। নির্দিষ্ট স্থানে ছাড়া আসনটির কোন প্রার্থীই পোস্টারিং করতে পারবেন না। এছাড়া নির্দিষ্ট নির্বাচনী ক্যাম্প বা স্থান ছাড়া কোন প্রার্থী নির্বাচনী পথসভা বা শব্দযন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না।

নির্বাচন কমিশনের নতুন নিয়মে অনেকটাই ‘অবাক’ রাজধানীর ভোটাররা। তবে এ নিয়মটাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তারা। যত্রতত্র পোস্টারের অভিজ্ঞতাকে পিছনে ফেলে বিলবোর্ডে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে খুঁজে নিচ্ছে তারা।

ঢাকা-১০ আসনটি ঢাকা শহরের ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮ ও ২২ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। আসনটির সদস্য সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস সম্প্রতি অনুষ্ঠেয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মেয়র নির্বাচিত হন। গত বছর ২৯ ডিসেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার পর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এর পর আসটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে গত ৭ ফেব্রুয়ারি আসটির উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নির্ধারিত স্থানে অস্থায়ী বোর্ড তৈরি করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী ৬ প্রার্থীর পোস্টারের জন্য আলাদা আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে প্রার্থীদের পোস্টার শোভা পাচ্ছে। এছাড়া অন্য কোথাও উপ-নির্বাচনে কোন পোস্টার লক্ষ্য করা যায়নি।

এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন ধরণের শব্দ দূষণও পরিলক্ষিত হয়নি। প্রত্যেক দলের প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনকে দেয়া প্রতিশ্রুতি এখনো পর্যন্ত বাস্তবায়ন করে চলেছেন। পরিবেশ বা নাগরিক সুবিধা নিয়ে যারা কাজ করছেন তারাও এমন প্রচারণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

এর আগে অনুষ্ঠেয় ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দেখা গেছে, প্রচার শুরুর পর পুরো রাজধানীই রূপ নেয় পলিথিন মোড়ানো পোস্টারের নগরীতে। অতীতের নির্বাচনগুলোয় রাজধানীর সর্বত্র পোস্টারে সয়লাব হলেও সর্বশেষ নির্বাচনে পোস্টারে বাড়তি যোগ হয়েছে পলিথিন। প্রতিটি পোস্টার পলিথিনে মুড়িয়ে সাঁটানো বা ঝোলানো হয়। কোথাও কোথাও লেমিনেট করা পোস্টারও দেখা গিয়েছিলো।

ঢাকা ১০ আসনের তফসিল ঘোষণার পর প্রচারের জন্য পোস্টার সাঁটানোর ২১টি স্থান নির্ধারণ করে দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর বাইরে অন্য কোথাও পোস্টারে প্রচার না চালানোর জন্য নির্বাচন কমিশনকে প্রতিশ্রুতিও দেন প্রার্থীরা। গত ১ মার্চ নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউটে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের পর রিটার্নিং কর্মকর্তা জিএম শাহাতাব উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, ‘এরইমধ্যে আমরা ঐতিহাসিক একটি সমঝোতা স্মারক সই করেছি। প্রার্থীরা ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে আমি তাতে সই করেছি। আশা রাখি, সবাই এই সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রচারণার জন্য নির্ধারিত ২১টি স্থানে পোস্টার লাগাবেন। নির্ধারিত স্থায়ী ক্যাম্পও থাকবে। তাতে সীমিত মাত্রায় শব্দযন্ত্র ব্যবহার করবেন। নির্ধারিত তিনটি স্থানে তারা জনসভা ও পথসভা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অবহিত করে।’

ঢাকা ১০ আসনের উপ-নির্বাচনে পোস্টারের জন্য নির্ধারিত স্থানগুলো হলো- হাজারীবাগ সেকশনের ময়না মার্কেট, হাজারীবাগ উচ্চ বিদ্যালয়, হাজারীবাগ পার্ক, ট্যানারি মোড়ের ইন্সটিটিউট অব লেদার টেকনোলজি, গণকটুলী চৌরাস্তা মোড়ের বিডিআর গেট নম্বর-৫, রায়ের বাজারের জরিনা শিকদার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ধানমন্ডি-১৫-এর কাকলী উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা সিটি কলেজ সায়েন্স ল্যাবরেটরি ও সিটি কলেজের উত্তর পাশের রিফাতুল্লাহ মার্কেট।

এছাড়াও রয়েছে- ঢাকা কলেজ, টিচার্স ট্রেনিং কলেজ সায়েন্স ল্যাবরেটরি, ধানমন্ডির বিপরীত পাশের সায়েন্স ল্যাবরেটরির টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ধানমন্ডি রোড নম্বর-৮ এর শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব মাঠ, কলাবাগান ক্রীড়াচক্র মাঠ, হাতিরপুলের মোতালেব প্লাজার বিপরীত পাশের তিন নম্বর রাস্তার মোড়, রাসেল স্কয়ারের নিউ মডেল স্কুল, ধানমন্ডি-৩২ রাসেল স্কয়ার, শুক্রাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় বাসস্ট্যান্ড, শুক্রাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ রোডের গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল এবং নীলক্ষেত চৌরাস্তা মোড়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট।

উপ-নির্বাচনের প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. শফিউল ইসলাম (নৌকা), বিএনপি প্রার্থী শেখ রবিউল আলম (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির হাজি মো. শাহজাহান (লাঙল), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মিজানুর রহমান চৌধুরী (ডাব), বাংলাদেশ মুসলিম লীগ নবাব খাজা আলী হাসান আসকারী (হারিকেন) এবং প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের আব্দুর রহীম (বাঘ)।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *