তুলে ধরা হবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

তুলে ধরা হবে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

তাজা খবর:

প্রবাসী ও বিদেশিদের বিনিয়োগ আকর্ষণে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে আজ বাংলাদেশের বিনিয়োগ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ম্যানচেস্টার সেন্টারের কনভেনশন কমপ্লেক্সের এক্সচেঞ্জ হলে সকাল ১০টায় ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পোটেনশিয়াল ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

পুরো প্রোগ্রামের নাম দেওয়া হয়েছে ‘রাইজ অব বেঙ্গল টাইগার’। এতে বাংলাদেশের অর্থনীতির নীতিনির্ধারকরা অংশ নেবেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (বিডা) মো. সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোহাম্মদ রহমাতুল মুনিম প্রমুখ।

আয়োজক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, বিদেশের মাটিতে চতুর্থবারের মতো এ রোডশো হচ্ছে। গত ৪ নভেম্বর লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগ সম্মেলন উদ্বোধন করেন। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র এবং সুইজারল্যান্ডে রোডশো হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিকে তুলে ধরে বিদেশি প্রবাসী বিনিয়োগ আকর্ষণ এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশের অর্থনীতির সক্ষমতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, বাংলাদেশি পণ্য ও সেবা, শেয়ারবাজার এবং বন্ড মার্কেটকে তুলে ধরা হবে।

এসব অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য বিদেশি ও অনিবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ আকর্ষণ। বিশেষ করে প্রবাসীরা যেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের আয়োজনের একটু ভিন্নতা রয়েছে। এখানে দেশের আর্থিক খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষকর্তারা অংশ নেবেন। যুক্তরাজ্যের প্রবাসীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা এটি সফলভাবে শেষ হলে দেশে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসবে।

ম্যানচেস্টারে রোডশোতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। আয়োজকরা জানান যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির পরে বাংলাদেশি পণ্যের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানির দেশ যুক্তরাজ্য। উভয় দেশের স্বার্থে এ অবস্থার আরও উন্নয়ন চায় বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল প্রবাসী, দেশটির প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারে এনআরবি ও বিদেশিদের বিনিয়োগ থাকলেও তা খুব কম। কাজেই এখন এ বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে পুঁজিবাজারের গভীরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গতিশীলতাও বাড়বে। বর্তমান পুঁজিবাজারে শেয়ার কেনাবেচায় যে বেনিফিসিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও) রয়েছে, তার মাত্র ৬ শতাংশ এনআরবি ও বিদেশিদের। প্রায় ৯৪ শতাংশই দেশীয় বিনিয়োগকারী, যার মধ্যে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টই বেশি। পুঁজিবাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সহজে বিনিয়োগের জন্য কমিশন ডিজিটাল বুথ খোলার বিষয়ে নীতিমালা জারি করেছে।

বিদেশে অবস্থানরত নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিদের (এনআরবি) পাঠানো রেমিট্যান্স বিনিয়োগে রূপান্তর করতে চায় কমিশন। সেই ক্ষেত্রে পুঁজিবাজার হতে পারে ভালো জায়গা। কমিশনের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, প্রবাসীরা অর্জিত অর্থ পাঠায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এ অর্থ নতুন বাড়ি বানিয়ে শেষ করে। কিন্তু সেটা বিনিয়োগে রূপান্তর করা গেলে তাদের আয়ের উৎস বাড়বে। কমিশন সে বিষয়টির ওপর জোর দিচ্ছে।

রোডশোর মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে বিদেশিদের কাছে তুলে ধরা ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত করা হবে। পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা তুলে ধরে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে।

করোনার কারণে বিশ্বে বিনিয়োগের পরিবেশ সঙ্কুচিত হয়েছে। কিন্তু অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা কিছুটা হলেও ভালো অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোয় থাকা নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি ও বিদেশিদের বিনিয়োগে সম্ভাবনা রয়েছে। ২০১৯ সালে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিনিয়োগ করেছে চীনের সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জ ও শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, দেশের শেয়ারবাজারকে নিয়মিত উন্নত করা হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে শেয়ারবাজার সর্বোচ্চ রিটার্ন দিচ্ছে। ফলে এখন বিনিয়োগের জন্য খুবই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের শেয়ারবাজার।

সালমান এফ রহমান বলেন, দুটি উদ্দেশ্যে আমরা ইনভেস্টর সামিট করছি। এর মধ্যে একটি হলো গত ১০ বছরে কী অর্জন তা জানাতে। অনেকটা নতুন বাংলাদেশকে জানানো বা ব্র্যান্ডিং। অন্যটি হলো- বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী করে তোলা। আমরা মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে গত ১০ বছরে অনেক অর্জন করেছি। এখন আমাদের পরবর্তী ধাপে (উন্নত দেশ) যেতে হবে। এ কারণে দেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ দরকার। এ ক্ষেত্রে ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট (এফডিআই) ও ক্যাপিটাল মার্কেট ফোকাস করব। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ ফেরত নেওয়ার পলিসি সম্পর্কে জানতে চান। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে- শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ। আমরা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারকে বর্ধিত করতে চাই। এ ছাড়া ফ্রন্টিয়ার মার্কেট থেকে ইমার্জিং মার্কেটে নিয়ে যেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *