দেশে প্রথম চট্টগ্রামের রাস্তায় স্মার্ট স্কুলবাস

তাজা খবর:

দেশে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামের রাস্তায় নামল ডিজিটাল প্রযুক্তি-সংবলিত বিশেষ ‘স্মার্ট স্কুলবাস’। শিক্ষার্থীরা এখন থেকে মাত্র পাঁচ টাকা ভাড়ায় দ্বিতল এই বাসে চড়ে নিরাপদ ও দুশ্চিন্তাহীনভাবে যাতায়াত করতে পারবে স্কুলে।

সোমবার চট্টগ্রামের সড়কে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ১০টি স্মার্ট স্কুলবাস। এ দিন বিকেলে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের আউটারে ফিতা কেটে এসব বাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার তোফায়েল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন রাশেদ মোস্তফা, জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত এমডি আলমাস শিমুল, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল মালেক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সাদি উর রহিম ও নগরীর ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নগরীর রাস্তায় নেমেছে এই স্মার্ট স্কুলবাস। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বিআরটিসির ১০টি দ্বিতল বাসে জিপিএস ট্র্যাকার, জিআইএস প্রযুক্তি, ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইস ও আইপি ক্যামেরা স্থাপন করে স্মার্ট স্কুলবাসে রূপান্তর করা হয়েছে। ৭৮ আসনবিশিষ্ট প্রতিটি বাসে প্রতিদিন দেড় শতাধিক করে কমপক্ষে তিন হাজার শিক্ষার্থী (বসে ও দাঁড়িয়ে) কয়েকটি শিফটে নিরাপদে স্কুলে যাতায়াত করতে পারবে। এরই মধ্যে এই বাসে যাতায়াতের জন্য বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চার হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করেছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছে একটি করে স্মার্টকার্ড। ওঠা-নামার সময় তারা এই কার্ড বাসে থাকা ডিজিটাল হাজিরা ডিভাইসে দেখাবে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তাদের অভিভাবকের কাছে তাৎক্ষণিক এসএমএস চলে যাবে; যাতে লেখা থাকবে বাস থেকে নামার সময় ও অবস্থান। যাত্রার প্রতিটি মুহূর্তেরও তথ্য পাবেন অভিভাবকরা। জিপিএস ট্র্যাকারের মাধ্যমে বাসের অবস্থানও ট্র্যাক করতে পারবেন তারা। সকালে স্কুল সময়ে নগরীর বাসস্ট্যান্ডগুলো থেকে এসব বাস ছেড়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোর কাছে থামবে। যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী যেখানেই নামুক না কেন, স্মার্টকার্ডে ভাড়া পরিশোধ হবে পাঁচ টাকা। ফেরার সময়ও একই ভাড়ায় শিক্ষার্থীরা নিজ গন্তব্যে নামতে পারবে।

এ প্রসঙ্গে উদ্যোক্তা ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ড. আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেন, ‘চট্টগ্রামের হাত ধরে দেশে প্রথমবারের মতো সড়কে নামল বিশেষ ডিজিটাল প্রযুক্তি-সংবলিত স্মার্ট স্কুলবাস। এটি চট্টগ্রামবাসীর জন্য বড় প্রাপ্তির ও স্বস্তির। ব্যতিক্রমী স্মার্ট স্কুলবাস সার্ভিস চালুর ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ঘাটতি, অভিভাবকদের ভোগান্তি ও দুশ্চিন্তার মতো বহু সমস্যা আর থাকবে না। উদ্যোগটি দেশে প্রথম হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী ৮০ লাখ টাকা উপহার দিয়েছেন। এ টাকা সফলভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য। এরই মধ্যে এ ধরনের নতুন আরও ১০টি বাস চালু করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি দিয়েছি আমরা।’

এদিকে নগরীতে স্মার্ট স্কুলবাস সার্ভিস চালুকে স্বাগত জানিয়েছে চট্টগ্রামের সুধী সমাজ। শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘স্মার্ট স্কুলবাস নিরাপদে শিক্ষার্থীদের স্কুলে নিয়ে আসবে এবং ছুটি হলে বাড়ি পৌঁছে দেবে। উদ্যোগটি যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয়, সেদিকে প্রশাসনের নজর রাখতে হবে।’ চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব অধ্যাপক আবদুল আলীম বলেন, ‘সময় ও টাকা বাঁচানো, গতিশীল জীবন পরিচালনা করতে স্মার্ট স্কুলবাস বড় ভূমিকা রাখবে।’

স্মার্ট জেলা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জ ২০২৩-এ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের ‘স্মার্ট স্কুলবাস’ প্রকল্প প্রথম পুরস্কার অর্জন করেছে। গত ১৮ অক্টোবর শেখ রাসেল দিবসের উদ্বোধন ও শেখ রাসেল পদক-২০২৩ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে এ পুরস্কারের ৮০ লাখ টাকার চেক গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *