দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাবে দেশের ২৬০০ ইউনিয়ন

দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাবে দেশের ২৬০০ ইউনিয়ন

তাজা খবর:

দেশের ইউনিয়নগুলোকে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা দিতে সরকারের ‘ইনফো সরকার-৩’ প্রকল্প শেষের দিকে। প্রায় আড়াই হাজার ইউনিয়নে এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ আছে। ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন সংযুক্ত হয়ে গেলে মে থেকে জুনের মধ্যে তা আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।

মেহেরপুর জেলা বাদে ৬৩টি জেলার ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নের ডিজিটাল সেন্টারে সরকার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের কাজ করছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৫০ ইউনিয়নে সরঞ্জাম বসেছে। সংযোগ দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৪৫০ ইউনিয়নে।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) কর্তৃক জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন (ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর বাজেট প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা।

এখানে চীনের ঋণ আছে ১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা, যা সরঞ্জাম কেনায় ব্যয় হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল জানুয়ারি ২০১৭ থেকে জুন ২০১৯ পর্যন্ত। পরবর্তী সময়ে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০–এর জুন মাস পর্যন্ত করা হয়। তবে করোনার কারণে সরকারের সব প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার ফলে এ প্রকল্পের মেয়াদও ২০২১ সালের জুন করা হয়। প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বলছে, মেয়াদ বাড়লেও প্রকল্পের খরচ বাড়েনি।

তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘ইনফো সরকার ৩’ প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষের দিকে। এ বছরের মে-জুন নাগাদ উদ্বোধন হওয়ার আশা করছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামপর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট গেলে ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন শিক্ষায় বড় পরিবর্তন আসবে। সংযোগ হওয়ার পর হয়তো সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয়তা বোঝা যাবে না। তবে পাঁচ বছর পর তা বোঝা যাবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ১ লাখ ৯ হাজার প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হবে।’ তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় ইন্টারনেট সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব বিষয়ে আগ্রহী করে তোলার কথাও বলেন তিনি।

ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পে বিনা মূল্যে ব্যান্ডউইথ দিচ্ছে নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) প্রতিষ্ঠান সামিট কমিউনিকেশনস এবং ফাইবার অ্যাট হোম। আগামী ২০ বছর এটা রক্ষণাবেক্ষণসহ দেখাশোনার কাজ চলবে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে। সংযোগ স্থাপন হয়ে গেলে দরপত্র আহ্বান করা হবে এর রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, বিসিসি ইনফো-সরকার ১ম পর্যায় ও ইনফো-সরকার ২য় পর্যায় প্রকল্প বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ইনফো-সরকার ৩য় পর্যায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে জেলায় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে উপজেলায় সংযোগ স্থাপন করা হয়। ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়ন ছাড়াও বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের এক হাজার অফিসে ভিপিএন (ভার্চ্যুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক) সংযোগ দেওয়া হচ্ছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেখানে সংযোগ স্থাপন হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল হাই বলেছেন, তাঁর ইউনিয়নে সরঞ্জাম বসানো হয়েছে, কিন্তু সংযোগ স্থাপন হয়নি। এ ছাড়া ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পে ফেনীর ইউনিয়নগুলোও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে যুক্ত হয়েছে।

প্রকল্পটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে, ২ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে ১৯ হাজার ৫০০ কিলোমিটার অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তর, বিদ্যালয়, কলেজ, গ্রোথসেন্টার ও অন্য সরকারি কার্যালয়গুলোতে নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপন করা হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সরকারের ই-সেবার অন্তর্ভুক্ত করাও এর অন্যতম উদ্দেশ্য। ন্যাশনাল আইসিটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করতে জিওবির আওতায় পুলিশ ইউনিটের সর্বস্তরে অবাধ তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করা এর লক্ষ্য।

ইনফো সরকার-৩ প্রকল্প পরিচালক বিকর্ণ কুমার ঘোষ প্রথম আলোকে বলেন, কাজ প্রায় শেষের দিকে। করোনার কারণে একটু দেরি হয়েছে। আগামী মে-জুনে উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আরও উন্নয়ন হবে, পাঠদান সহজ হবে। গ্রামে বসেই আউটসোর্সিং আরও সুবিধাজনক হবে। গ্রামের নারীদের অনলাইন ব্যবসার জন্য সুফল বয়ে আনবে।

প্রকল্পটি নিয়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগটা ভালো।

সব ইউনিয়ন ব্রডব্যান্ডের আওতায় আসছে। কিন্তু এখানে সরকারকে ট্রান্সমিশন করে ছেড়ে দিলেই হবে না। এখানে মূল্য কী হবে, তা সরকারকে ঠিক করে দিতে হবে। কারণ, সরকারের টাকায় এটা তৈরি হয়েছে। এই ট্রান্সমিশনের সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছাতে গেলে মাঝে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকা যাবে না।’

ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রথম দুই বছর লোকসান দিয়েই চালাতে হবে দাবি করে এমদাদুল হক বলেন, এখানে সরকারকে মূল্য নির্ধারণ করে দিতে হবে। দাম কমাতে হবে। ঢাকাতে ট্রান্সমিশন খরচ ২০ টাকা হলে ইউনিয়নে ১০ টাকা করতে হবে। কারণ, এটা সরকারি খরচে করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনার আশা করেন।

দামের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ বলেন, ইন্টারনেটের দাম ঠিক করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাহকের কাছে সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট পৌঁছানোর জন্য বিটিআরসিকে বিষয়টি দেখার জন্য বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *