দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ

দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ

নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দ্রুত গতিতে এগুচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ। শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে বসানো শুরু হয়েছে কোর ক্যাচার। আর বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে প্রশিক্ষিত জনবল তৈরির কাজও এগিয়ে যাচ্ছে।

পাবনার রূপপুরে নির্মানাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাংলাদেশের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রকল্প। ১২৬৯ একর জমিতে চলমান এ প্রকল্পের প্রথম পর্বের কাজ শেষ হয়েছে আরো আগেই। নদী শাসন ও পানি সংগ্রহের জন্য নদী তীরের বাঁধ র্নিমার্ণ প্রায় শেষ হয়েছে। দ্রুতই কাজ এগিয়ে চলছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মূল অংশ রিয়েক্টর বিল্ডিং, টারবাইন বিল্ডিং, রিয়েক্টর অক্সিলারি বিল্ডিংসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরির কাজ।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প জানান, ‘আমরা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক আগেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি। আমাদের দ্রুত কাজের ফলে আমরা এক বছরে যে কাজ করা সম্ভব, তার চেয়ে অনেক বেশি কাজ সম্পন্ন করেছি। এছাড়া জনবল তৈরির কাজও আমরা অনেক এগিয়ে রেখেছি। ২০২২ এর শেষ দিকে প্রশিক্ষিত কর্মীরাই এই প্রকল্পের দায়িত্ব নিবে, আমরা সেভাবেই তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি।’

রূপপুরে বসানো হবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির জেনারেশন ত্রি প্লাস ভিভিইআর রিঅ্যাক্টর ১২০০ । এর নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হিসেবে থাকবে কোর ক্যাচার। এটিও বসানো শুরু হয়েছে রূপপুরে। তিনি আরো জানান, ‘জিনারেশন ত্রি প্লাস ভিভিইআর রিঅ্যাক্টর ১২০০ টি মাটির অনেক নিচে বসানো হবে। তাই বড় কোন সমস্যা হলে নিউক্লিয়ার চুল্লিটা এর ভিতরে প্রবেশ করে ফেলবে, এর ফলে পারিপার্শ্বিক কোন ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এর সাথে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনিও সংযুক্ত করা হয়েছে।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যূৎ কেন্দ্রের ১২০০ মোগওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট চালু হবে ২০২৩ সালে। এক বছর পর উৎপাদনে আসবে ২য় ইউনিট। দুটি ইউনিটই চালু হলে বিদ্যুৎ আসবে ২ হাজার ৪শ মেগাওয়াট। সময় মত বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শেষ করতে প্রতিদিন পরিশ্রম করছেন প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক।

উল্লেখ্য, দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ব্যয়ের প্রকল্প হচ্ছে এ রূপপুর পরমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। মোট ব্যয়ের মধ্যে প্রকল্প সাহায্য হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। এটি বাস্তবায়নে কাজ করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টরের দুটি বিদ্যুৎ ইউনিটের সমন্বয়ে ২ হাজার ৪শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। সেই সঙ্গে এটি পরিচালনার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভৌত অবকাঠামো তৈরি, বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালনার জন্য পরমাণু প্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং কার্বনমুক্ত ও বেইসলোড বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়তা করা সম্ভব হবে।

সরকারের বিদ্যুৎ খাতের মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহের ১০ শতাংশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ থেকে পাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এবং গাইডলাইন অনুযায়ী পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *