ধর্মানুভূতিতে আঘাতের কনটেন্ট নিষিদ্ধ হচ্ছে

ধর্মানুভূতিতে আঘাতের কনটেন্ট নিষিদ্ধ হচ্ছে

তাজা খবর:

কোনো উপকরণ দ্বারা জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অসম্মান করা যাবে না। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে এমন কোনো উপকরণ তৈরি করে সম্প্রচার করা যাবে না। বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি করে তা প্রচার করা যাবে না। এমন বিধান রেখে ‘ওভার দ্য টপ (ওটিটি) কনটেন্টভিত্তিক পরিষেবা প্রদান এবং পরিচালনা নীতিমালা-২০২১’ এর খসড়া তৈরি করেছে সরকার। এটি শিগগিরই প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। ওটিটি প্ল্যাটফরম হলো বিনোদনের দুনিয়া। এক সময় এই প্ল্যাটফরম বলতে শুধু টেলিভিশনকে বোঝাত। কিন্তু এখন বায়োস্কোপ, নেটফ্লিক্স, হইচই-এর মতো দেশি-বিদেশি মাধ্যমগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত। এ বিষয়ে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে একাধিকবার তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, এ সংক্রান্ত একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি হয়েছে। এটি যাচাই-বাছাই করে আমরা খুব শিগগিরই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করব। প্রস্তাবিত খসড়ায় বলা হয়েছে- সৃজনশীলতা লালন, সৃজনশীল শিল্পকর্ম তৈরিতে সহযোগিতা এবং চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতাসহ বাকস্বাধীনতা সুনিশ্চিত করতে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ পরিপন্থী, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টকারী, রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও অখন্ডতার প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী তথ্য প্রচলিত আইনের পরিপন্থী, দেশীয় সংস্কৃতিবিরোধী কোনো কনটেন্ট বা তথ্য উপকরণ তৈরি করে তা প্রচার করতে না পারে সে জন্যই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন, বিধিবিধান অনুসরণ করে ওটিটি প্ল্যাটফরম প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে কিনা তা তদারকির দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এ নীতিমালার অধীনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন ছাড়া ইন্টারনেট বা সমমানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো বিদেশি বা দেশি প্রতিষ্ঠান ওটিটি প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে কোনো কনটেন্ট, বিজ্ঞাপন সম্প্রচার করতে পারবে না। ওটিটি প্ল্যাটফরম প্রতিষ্ঠান ওটিটি সেবা পরিচালনার জন্য নিবন্ধনের জন্য এ সংক্রান্ত আইন-বিধি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত তথ্য ও সম্প্রচার সচিব বরাবর নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। ওটিটি প্ল্যাটফরম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান কোম্পানি আইন ১৯৯৪ সালের অধীনে নিবন্ধিত হবে। প্রতিবার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে ১-৫ বছর পর্যন্ত। প্রতি অর্থবছরে নিবন্ধনকৃত বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ৩ লাখ টাকা এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান ১০ লাখ টাকা ফি দিয়ে নিবন্ধন নবায়ন করবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এর আওতামুক্ত থাকবে। নিবন্ধন সংক্রান্ত সরকারের কোনো পাওনা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হলে, নীতিমালার এক বা একাধিক শর্ত ভঙ্গ করলে বা বিটিসিএল বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে প্রচার বা সম্প্রচার কার্যক্রম অনধিক তিন মাস বন্ধ থাকলে নিবন্ধনের কার্যকারিতা স্থগিত বা বাতিল হবে। এতে আরও বলা হয়, ইচ্ছা করে কোনো উপকরণ দ্বারা জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা, রাষ্ট্রীয় মূলনীতি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অসম্মান করা যাবে না। শিশুর অংশগ্রহণে যৌনাচার বা যৌনাচার উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী কোনো উপকরণ তৈরি বা সম্প্রচার করা যাবে না। জাতি, ধর্ম বা কোনো সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করতে পারে, এ ধরনের কোনো উপকরণ তৈরি বা সম্প্রচার করা যাবে না। রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন বা উপযুক্ত আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো উপকরণ তৈরি বা সম্প্রচার করা যাবে না। প্রস্তাবিত নীতিমালা অনুযায়ী, যৌথভাবে ওটিটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হওয়া যাবে। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এককভাবে ওটিটি প্ল্যাটফরম প্রতিষ্ঠানের মালিক হতে পারবে। ফৌজদারি অপরাধ বা নৈতিক স্খলনজনিত কারণে দন্ডিত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একক বা যৌথভাবে ওটিটি প্রতিষ্ঠানের মালিক হতে পারবে না। নিবন্ধনপত্র গ্রহণকালে নিবন্ধন ফি বাবদ এককালীন বাংলাদেশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ৫-১০ লাখ টাকা এবং বিদেশি আবেদনকারী ব্যক্তিকে ২০-৩০ লাখ টাকা নির্ধারিত কোডে সরকারি ট্রেজারি চালানে জমা দিতে হবে। সরকারি আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধন গ্রহণকালে কোনো প্রকার নিবন্ধন ফি দিতে হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *