ধামরাইয়ে খাস জমি ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ

ধামরাইয়ে খাস জমি ইজারায় অনিয়মের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক:

ঢাকার ধামরাইয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে সরকারী খাস জমি ইজারা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের কাছে লিখিত এক অভিযোগে এমনটিই দাবি করেছেন ডি.এইচ.শামীম নামে ভূক্তভোগী এক ব্যক্তি।

লিখিত অভিযোগে নিজেকে ভুক্তভোগী দাবি করে ডি.এইচ. শামীম অভিযোগ করেন, উপজেলার দক্ষিণপাড়া এলাকার (ভিপি কেইস নং ২৯/৬৯) দক্ষিণপাড়া মৌজার ১২৭ নং খতিয়ানের ২৫০ নং (এসএ) দাগের ৫৬ শতাংশ খাস জমি দীর্ঘ ৪০ বছর যাবত ইজারা নিয়ে ভোগদখল করে আসছেন তিনি ও তার পরিবার । পিতার জীবনদশায় পিতার নামে এবং পিতার মৃত্যুর পর ডিএইচ শামীম তার নিজ নামে ইজারা প্রাপ্ত হয়ে বছর বছর তা নবায়ন করে আসছেন। জমিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি রয়েছে সেখানে বাউন্ডারী নির্মানকরা সহ সেমিপাকা ঘর উত্তোলন, বিদ্যুৎ সংযোগ ও গ্যাস সংযোগ নেওয়ার । যদিও তিনি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ সংযোগ ও পৌরসভা হোল্ডিং নম্বর নিয়ে তা ব্যবহার করেন। নিয়মিত পরিশোধ করে আসছেন ইজারাকৃত জমির রাজস্ব, বিদ্যুৎ বিল এবং পৌরকর।

ভূক্তভোগীর অভিযোগ, বরাবরের মত চলতি বছরও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ইজারার আবেদন করেন তিনি। কিন্তু ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল হক কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই চলতি বছর জমিটি মোঃ নজরুল ইসলাম নামে ভিন্ন উপজেলার এক ব্যক্তির কাছে ইজারা প্রদান করেন।

ডি.এইচ শামীম অভিযোগ করে বলেন, “উপজেলার বাসিন্দা হিসাবে জমিটির ইজারা প্রাপ্তিতে আমাদের অগ্রাধিকার থাকার কথা। যেহেতু দীর্ঘদিন যাবত আমরা জমিটি ইজারা নিয়ে সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে আসছি, এমনকি ইজারার কোন চুক্তিও ভঙ্গ করিনি, সেহেতু কোন নোটিশ ছাড়াই কেন জমিটি বাহিরের এক ব্যক্তির নিকট ইজারা প্রদান করা হলো, তা আমাদের বোধগম্য নয়। এতে করে আমরা ব্যপক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি।”কোন একটি মহলকে খুশি করতেই হয়তো আমাদের জমিটি ইজারা না দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওই ব্যক্তিকে ইজারা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্তরা হালদার বলেন, “খাস জমির ইজারা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখেন। এবিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবো না।”এ সময় তিনি প্রতিবেদকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

বিষয়টি জানতে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সামিউল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, “ইজারার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সরকারী খাস সম্পত্তি দেখাশোনার দায়িত্ব আমার। যার কাছে সরকারী সম্পত্তি নিরাপদ থাকবে বলে আমার মনে হয়েছে, তাকেই ইজারা দেওয়া হয়েছে, এবং পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়া অনুসরন করে করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, ভুক্তভোগী ডিএইচ শামীম ধামরাই উপজেলার দক্ষিনপাড়া এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে, অপরদিকে চলতি বছর নতুন করে জমিটিরি ইজারা গ্রহীতা মোঃ নজরুর ইসলাম সাভারের আশুলিয়া থানাধীন ডেন্ডাবর এলাকার আজগর আলী মিয়ার ছেলে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *