নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন পদ্ধতি

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন পদ্ধতি কাজ না করলে পরিবর্তন করা হবে

তাজা খবর:

নতুন শিক্ষাক্রমে মূল্যায়ন পদ্ধতি স্থায়ী কিছু নয়। এতে শিখন ফল অর্জনে যে মূল্যায়ন পদ্ধতি স্থির করা হয়েছে তা কাজ না করলে পুরো প্রক্রিয়া নতুনভাবে মূল্যায়িত করা হবে। সেক্ষেত্রে এই শিক্ষাক্রমে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী। শুক্রবার রাজধানীর বনানীর বাসভবনে জনকণ্ঠের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

গেল কয়েক মাস ধরেই পরীক্ষা পদ্ধতি না থাকায় শিক্ষক ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে নানা সমালোচনা ওঠে। এ প্রসঙ্গে তরুণ এই মন্ত্রী বলেন, মূল্যায়ন পদ্ধতি স্থায়ী কোনো বিষয় নয় যে, আমরা জেদ করে সেখানে রয়ে যাব। যতটুকু নমনীয়তা প্রয়োজন ততটুকু অবশ্যই করা হবে। এটা নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ রাষ্ট্র কারও সঙ্গে জেদ করতে পারে না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। মূল্যায়ন পদ্ধতির চ্যালেঞ্জের কথা যদি বলেন সেখানে বলব, নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে বেশকিছু ইনপুট আসছে। এগুলো আমরা দেখছি। এখানে মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন করতে হবে। এ ছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমে আরও বেশকিছু পরিবর্তন করতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব পেয়েই তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নজর দিতে চান নওফেল। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নতুন সরকারের নতুন দায়িত্ব দিয়েছেন। পূর্বের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে কাজ করব। আমরা কর্মসংস্থানের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। স্মার্ট বাংলাদেশে, স্মার্ট জেনারেশনের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট যত দক্ষতা আছে, সেগুলো আমরা আমাদের কারিকুলামে নিয়ে আসতে চাই। এতে করে আমাদের শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের বিষয়টি মাথায় রেখে নিজেদের শিক্ষা বিষয়ে পরিকল্পনা সাজাতে পারবে। মূলত কর্মসংস্থানের বিষয়টি মাথায় নিয়ে আমরা নিজেরাও পুরো শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করতে চাই।

শিক্ষা প্রশাসনে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে তাকে শাস্তি পেতে হবে। শিক্ষা প্রশাসনের নানান পর্যায়ে সুশাসনের খুব প্রয়োজন। নাগরিক সেবার অন্যতম খাত শিক্ষা সেবা খাত। এ খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এক্ষেত্রে যত প্রভাবশালীই হোক কেউই ছাড় পাবে না।

নতুন শিক্ষানীতি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, নতুন শিক্ষানীতি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নতুন শিক্ষানীতি তৈরির বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গেল বছরে শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য ও জাতীয়করণ নিয়েও আন্দোলন চালিয়েছে শিক্ষক ও কর্মচারীরা। এতে বেশ কয়েকদিন বন্ধ ছিল স্কুল। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য নিরসনে সরকার কাজ করছে। আমরা চাই সব ধরনের বৈষম্য নিরসন করতে। আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, নি¤œমাধ্যমিক পর্যায়ে সব বিদ্যালয়ের সরকারি বেতন-কাঠামো বাস্তবায়ন। যাতে সবাই ন্যূনতম শিক্ষাটা পায়।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি নিরসনে একক ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান মহিবুল হাসান চৌধুরী। তিনি বলেন, একক ভর্তি পরীক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বকীয়তা ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে জনগণের যে চাহিদা সেটাও মাথায় রাখতে হবে। এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করা হবে।

সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান নতুন শিক্ষামন্ত্রী। বলেন, সবার মতামতকে সম্মান দেখিয়ে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার যে প্রক্রিয়া ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। সব অংশীজনদের মতামত নিয়েই আমরা এগিয়ে যেতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *