নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে হবে ৫শ’ মে.ও বিদ্যুত উৎপাদন

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে হবে ৫শ’ মে.ও বিদ্যুত উৎপাদন

তাজা খবর:

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদনের সব থেকে বড় এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। প্রকল্পের অধীনে সৌর এবং বায়ু থেকে বিদ্যুত উৎপাদনের পরিকল্পনাও এরমধ্যে অনেকখানি এগিয়ে গেছে।

রাষ্ট্রীয় কোম্পানি নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (এনডব্লিউপিজিসিএল)’র উদ্যোগে দেশের প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি (বিসিপিসিএল) রিনিউবেল নামে কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। বৈঠকে বিদ্যুত বিভাগের উত্থাপিত প্রস্তাবটি অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুত জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি পায়রাতে দেশের সব থেকে বড় বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট এরমধ্যে উৎপাদনে এসেছে। এই কোম্পানিটিই বিসিপিসিএল রিনিউবেল নামে নতুন কোম্পানি গঠন করে দেশে ৫০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুত উৎপাদন করবে।

ভবিষ্যত বিশে^ নবায়নযোগ্য জ্বালানি হবে বিদ্যুত উৎপাদনের সব থেকে বড় মাধ্যম। এখন অনেক দেশই কয়লা, পরমাণু এবং গ্যাস থেকে বিদ্যুত উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ার চিন্তা করছে। দেশগুলো বিদ্যুতের জন্য এককভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। সেখানে অনেকটা পিছিয়েই রয়েছে বাংলাদেশ। ভারতও সে তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছে।

জানা গেছে, ৫০০ মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য চারটি এলাকাকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। জমির প্রাপ্যতা, সৌর রশ্মি, বায়ু প্রবাহ এবং গ্রিডের দূরত্ব বিবেচনায় নিয়ে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, গাইবান্ধা এবং পায়রাকে বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং পায়রাতে চারটি বড় কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এনডব্লিউপিজিসিএল সূত্র জানিয়েছে করোনার কারণে প্রকল্পটি পিছিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন কোম্পানি গঠনের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই কোম্পানিটি গঠন করা হবে। এরপর কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে। কয়েকটি জমিতে প্রকল্প নির্মাণের জন্য সরকার এরমধ্যে অনুমতি দিয়েছে। এসব প্রকল্পের জমি উন্নয়নসহ অন্যান্য কাজ করা হচ্ছে।

এই কোম্পানির অর্ধেক মালিকানা থাকছে সরকারের হাতেই। বাকি অর্ধেক মালিকানা থাকবে চীন সরকারের হাতে। এর আগে সরকার বেসরকারী উদ্যোক্তাদের দিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদন সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করেছে। তবে এক্ষেত্রে তারা খুব বেশি সফল হতে পারেনি। মাত্র একটি কোম্পানি ২০ মেগাওয়াটের একটি সোলার বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করেছে টেকনাফে। কয়েক হাজার মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুত প্রকল্পের ব্যর্থতার মধ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিল।

এখন বিশ্বে প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মধ্যে ক্রমেই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদনের খরচ কমে এসেছে। এরমধ্যে ফার্নেস তেল চালিত বিদ্যুত কেন্দ্রর চেয়ে সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে। আর ডিজেলে উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম সৌর বিদ্যুতের তিনগুণ। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নো ইলেক্ট্রিসিটি নো পেমেন্ট অর্থাৎ বিদ্যুত না সরবরাহ করলে কোন টাকা দিতে হয় না। কিন্তু অন্য যে কোন জ্বালানির ক্ষেত্রে বিদ্যুত সরবরাহ করুক বা না করুক তাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হয়। সঙ্গত কারণে সারাবিশ্বই নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুত উৎপাদনকে লাভজনক হিসেবে দেখা হয়। এখানেও সেই প্রচেষ্টা শুরু করল সরকার।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *