নারায়ণগঞ্জে হবে বিজিবির নতুন ব্যাটালিয়নের দপ্তর

নারায়ণগঞ্জে হবে বিজিবির নতুন ব্যাটালিয়নের দপ্তর

তাজা খবর:

রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশের শ্রমঘন এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নারায়ণগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নতুন ব্যাটালিয়নের অবস্থানের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এ প্রকল্পসহ মোট ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে বৈঠকে যুক্ত হন। শেরেবাংলা নগর এনইসি সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রী-সচিবসহ অন্যেরা সভায় অংশ নেন।

একনেক সভা শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, একনেকে অনুমোদিত ৯টি প্রকল্পের মধ্যে ছয়টি নতুন এবং তিনটি সংশোধিত প্রকল্প। নতুন প্রকল্পের ব্যয় ও সংশোধিত প্রকল্পের বাড়তি অর্থ মিলে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৫ হাজার ২৩৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫ হাজার ৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ২৪৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।

যে কারণে নারায়ণগঞ্জে বিজিবি ব্যাটালিয়ন

অনুমোদিত প্রকল্পের একটি হচ্ছে ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর নবসৃজিত নারায়ণগঞ্জ (৬২ বিজিবি) ব্যাটালিয়নের অবকাঠামোগত বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ’। এতে ব্যয় হবে ২৩৭ কোটি ২১ লাখ টাকা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি শুধু সীমান্তের সুরক্ষা দেয় না। তারা সরকারের সিভিল প্রশাসনের সহাতায় সব সময় কাজ করে। যখন প্রয়োজন হয়, তখনই তাদের ডাকতে পারি, এটা আমাদের আইনে আছে। সে আইনের আওতা বিজিবির জন্য নারায়ণগঞ্জ ব্যাটালিয়নের বসার জায়গা, কাজের জায়গাসহ অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রশ্ন হতে পারে নারায়নগঞ্জ কেন? কারণ নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, গাজিপুর – এ ট্রায়াঙ্গেলের মধ্যেই দেশের অর্থনীতির বড় অংশ আছে।

‘এখানে মাঝে মাঝে নিরাপত্তাজনিত কিছু ঝামেলা হয়। তাই এ এলাকার ভালোমন্দ মিলিয়ে একটা এডিশিনাল ফোর্স আনব। যাতে নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হয়।’

পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, এ প্রকল্পের আওতায়, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জালকুড়ি এলাকায় বিজিবির নতুন ব্যাটালিয়নের সদস্যদের বসবাস এবং অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিরাপদ ও সুরক্ষিত অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে অধিনায়কের বাসভবন, কমিশন্ড অফিসার্স মেস, কমিশন্ড অফিসার্স কোয়ার্টার, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার্স মেস, জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার্স আবাসিক ভবন, সৈনিক মেস, অন্যান্য পদধারীদের আবাসিক ভবন, অফিস ভবন, সৈনিক ডাইনিং ও কুক হাউজ।

এছাড়া ৩ দশমিক ২৭ কিলোমিটার রাস্তা, পানির লাইন, গভীর নলকূপ, বৈদ্যুতিক লাইন, এমটি গ্যারেজ, এমআই রুম, কোয়ার্টার গার্ড, ম্যাগাজিন, মাল্টিপারপাস শেড, ট্রেনিং শেড, সীমানা দেয়াল গেইটসহ, মসজিদ, ক্যান্টিন, আরপি পোস্ট, প্রশিক্ষণ মাঠ, খেলার মাঠ, ড্রিল গ্রাউন্ড, পার্ক ইত্যাদি সহায়ক অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে।

অন্যান্য প্রকল্প

একনেকে অনুমোদিত অন্য প্রকল্প হচ্ছে: সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘কুষ্টিয়া (ত্রিমোহনী)-মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা-ঝিনাইদহ (আর-৭৪৫) আঞ্চলিক মহাসড়কটির কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুর পর্যন্ত যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্প, যাতে ব্যয় হবে ৬৪৩ কোটি টাকা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ২১৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাংলাদেশ ইকোনোমিক জোনস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেস-৩ এর ব্যয় ৮১ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ৯৮৬ কোটি টাকা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৮৮ কোটি টাকা। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘দরিদ্র মহিলাদের জন্য সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প- দ্বিতীয় পর্যায় (ইরেসপো-২য় পর্যায়)’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩৪৬ কোটি টাকা।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলাধীন বড়খেরী ও লুধুয়াবাজার এবং কাদের পণ্ডিতের হাট এলাকা ভাঙন থেকে রক্ষাকল্পে মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ’ প্রকল্পে ব্যয় হবে ৩ হাজার ৯০ কোটি টাকা। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফায়ারড পাওয়ার প্রকল্প (পিজিসিবি অংশ: মাতারবাড়ি-মদুনাঘাট ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পে ২২৩ কোটি টাকা ব্যয় বেড়ে ১ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা হয়েছে। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘উপজেলা পর্যায়ে নারীদের জন্য আয়বর্ধক (আইজিএ) প্রশিক্ষণ (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের ব্যয় ৩০৭ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫৯১ কোটি টাকা করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *