নারী নেতৃত্বের আদর্শ আওয়ামী লীগ

নারী নেতৃত্বের আদর্শ আওয়ামী লীগ

নিউজ ডেস্ক:

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের পথ চলার শুরু। দীর্ঘ এই পথ চলায় আওয়ামী লীগ এঁকেছে নতুন নতুন পদচিহ্ন। গণমানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে এই দল সংগ্রাম, ত্যাগ ও আদর্শ বাস্তবায়নে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থেকে তৈরি করেছে অমোচনীয় দীপ্তিময় ইতিহাস। পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শাসনের ধারায় ভয়ঙ্কর দারিদ্র্য, চরম বৈষম্যে ভরা সমাজকে দেখিয়েছে অর্থনৈতিক মুক্তি, রাজনৈতিক স্বাধিকারের স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সীমাহীন সংকট মোকাবিলা করতে করতে আওয়ামী লীগ পরিণত হয়েছে উদারপন্থি গণতান্ত্রিক দলে। এর নীতি, কর্মসূচি, সাংগঠনিক কাঠামো প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে এই দল গণমানুষের।

প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগে নারীর অংশগ্রহণ ছিল। ভাষা আন্দোলনে যেসব ছাত্রী ও শিক্ষয়িত্রী অংশগ্রহণ করেছিলেন, পরবর্তীতে তাদের অনেকেই আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে ৯ জন নারী নেত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদের মধ্যে আনোয়ারা বেগম, দৌলতুন্নেসা, নূরজাহান মুর্শিদ, বদরুন্নেসা আহমেদ, সেলিনা হোসেন এবং আমেনা বেগম পরবর্তীকালে জাতীয় আন্দোলনের মূলধারার নেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

১৯৬৬ সালে ৬-দফা আন্দোলনের সময় যখন বঙ্গবন্ধুসহ দলের অধিকাংশ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কারাগারে বন্দী, সেই সময় দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আমেনা বেগম দলকে এগিয়ে নিতে বিশাল ভূমিকা রাখেন।

বাংলাদেশের উল্লেখ করার মতোন নারী নেতৃত্ব রয়েছে এবং যারা এই বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের আদর্শ। এদের মধ্যে রয়েছেন;

জননেত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শুধু একজন রাষ্ট্রনায়ক নন, বর্তমানে তিনি বিশ্বনেতা। শুধু বাংলাদেশে নয়, সারাবিশ্বে নারী নেতৃত্বের আদর্শ তিনি। তার ব্যক্তিত্ব, প্রাজ্ঞতা এবং প্রত্যুৎপন্নমতিত্বর কারণে তিনি আজ সারাবিশ্বের অনুকরণীয় নেতৃত্ব। শেখ হাসিনার কারণেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উদ্ভব হয়েছে। যাদের কথা আলোচিত হয় না, নীরবে নিভৃতে কাজ করছেন। এরকম অনেক নারীর আদর্শের উৎস শেখ হাসিনা।

প্রয়াত সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন

আওয়ামী লীগের কঠিন সময়ে জোহরা তাজউদ্দীন ছিলেন নারী নেতৃত্বের এক অনুকরণীয় উদাহরণ। তার হাত দিয়ে আওয়ামী লীগ পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতে পুনর্জন্ম লাভ করেছিল। তিনিও একজন প্রাজ্ঞ, দক্ষ এবং দু:সময়ের হাল ধরার মতো শক্তিমান নারী নেত্রী। তিনি নারী সমাজের আদর্শ। তার মেয়েও এখন আওয়ামী লীগের এমপি। তারা টেন্ডারবাজি বা কোন অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত নন। কিন্তু নীরবে তারা জনগনের মধ্যে নারী জাগরণে কাজ করছেন।

বেগম সাজেদা চৌধুরী

দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের নারী নেতৃত্বের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন, এখন সংসদ উপনেতা। ব্যক্তিত্ববান, নির্লোভ, সারাজীবন মানুষের জন্য কাজ করার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন বেগম সাজেদা চৌধুরি।

প্রয়াত আইভী রহমান

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত আইভী রহমান নারী নেতৃত্বের এক আকর্ষণীয় উদাহরণ। একদিকে তিনি যেমন দলের আদর্শ এবং নীতির প্রশ্নে ছিলেন অবিচল, অন্যদিকে তার ব্যক্তিত্ব, রুচিবোধ ছিল সকলের কাছে অনুকরণীয়। ষাটের দশকে আইভী রহমানের রাজনৈতিক জীবনের শুরু। নিজ মেধা, প্রজ্ঞা এবং বিচক্ষণতায় দ্রুতই আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ে উঠে আসেন। ছিলেন সংগঠন অন্তঃপ্রাণ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে গিয়েছেন।

মতিয়া চৌধুরী

উনসত্তরের অগ্নিকন্যা বেগম মতিয়া চৌধুরী নির্লোভ, সাদামাটা জীবন কিন্তু দৃঢ় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। নারীর সৌন্দর্য যে তার ব্যক্তিত্বে, এটাই হলো মতিয়া চৌধুরীর প্রভাব। মতিয়া চৌধুরী শুধুই একজন নেতা নন। তিনি জাতির আদর্শও বটে। এমন আদর্শের নেতা সারাদেশ ব্যাপী তৈরী হলে, দেশ তড়তড় করে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, এতে কারো কোন প্রকার সন্দেহ থাকার কথা নয়। এমন আদর্শবান দেশপ্রেমিক নেত্রীর দেশে বড়ই প্রয়োজন।

ডা. দীপু মনি

আওয়ামী লীগ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি। আদর্শ নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তিনিও একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। একজন বাংলাদেশী নারী রাজনীতিবিদ যিনি ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীহিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের জয়লাভের পর বাংলাদেশে প্রথম মহিলা পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিয়োগ পান। ডা: দীপু মনি, এমপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী। দশম জাতীয় সংসদে ডা: দীপু মনি চাঁদপুর-৩ (চাঁদপুর- হাইমচর) এর প্রতিনিধিত্ব করছেন।সামাজিক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য অবদানের জন্য তিনি মাদার তেরেসা আন্তর্জাতিক পুরষ্কারে ভূষিত হন। ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের ২০তম কাউন্সিলে তিনি পুনরায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। ৬ জানুয়ারী ২০১৯ এ তিনি একাদশ জাতীয় সংসদের অধীনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এর দায়িত্ব পান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এরাই বাংলাদেশের নারী নেতৃত্বের অনুকরণীয় এবং পূজনীয় দৃষ্টান্ত। এসব কিছু সম্ভব হয়েছে জননেত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পিত দৃঢ় নেতৃত্বের কারণে। জাতির পিতার অসমাপ্ত স্বপ্নকে বাস্তব সোনার বাংলা তথা দারিদ্র্যমুক্ত ক্ষুধামুক্ত উন্নত দেশের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শুধু নারী নয় সকল মানুষের জন্য অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *