প্রকল্পে ঢালাওভাবে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকল্পে ঢালাওভাবে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ নয়: প্রধানমন্ত্রী

তাজা খবর:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন প্রকল্পে ঢালাওভাবে বিদেশি পরামর্শক নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রকল্পের প্রয়োজনে যতটুকু দরকার ততটুকু বিদেশি পরামর্শক নিতে হবে। ঢালাওভাবে নিয়োগ দেয়া যাবে না। মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এনইসির বৈঠকে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানেই তিনি এ নির্দেশ দেন।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) এ সভায় ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১ লাখ ৩৭ হাজার ২৯৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৮৮ হাজার ২৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এডিপির এ আকার চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় ২০ হাজার ১৭৯ কোটি ৩৫ লাখ এবং সংশোধিত এডিপির তুলনায় ২৭ হাজার ৬৮১ কোটি ১৪ লাখ টাকা বেশি। তবে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১১ হাজার ৪৬৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জয়নুল বারী, আইএমইডি সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী এবং পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মোহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্পে পরামর্শক নিয়োগের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, চোখ বন্ধ করে উন্নয়ন প্রকল্পে বিদেশি পরামর্শক নেয়া যাবে না।

এছাড়া করোনা মহামারির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যেসব প্রকল্প জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেসব প্রকল্পে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বাসস জানায়, অতীতে বিএনপি সরকারের সময় বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে বাংলাদেশের রেল বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার সরকার দেশের কোনো ক্ষতি হয় এমন কারও পরামর্শ গ্রহণ করবে না। তিনি বলেছেন, ‘এক সময় অন্যের পরামর্শেই দেশ চলেছে, কিন্তু আমি এটা করব না। কারণ, দেশটা আমাদের এবং আমরাই ভালো জানি কিসে দেশের এবং জনগণের উন্নতি হবে।’ ‘নিজের দেশ নিয়ে ভাবতে হবে। সবসময় পরমুখাপেক্ষী থাকলে হবে না। সেই উৎসাহটা দেবেন আপনারা, সেটাই চাই।’

প্রধানমন্ত্রী ৩ জুন সংসদে বাজেট উত্থাপনের প্রায় সব কাজ শেষ পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারায় সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারি কর্মচারীদের কাজের গতি ও মনযোগ বৃদ্ধির প্রশংসা করেন।

এদিকে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, বাজেটে গবেষণার জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, শুধু বরাদ্দ রাখলেই হবে না, সেই অর্থ যাতে ব্যয়ও হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়সহ তার মতো এবং অন্যান্য মন্ত্রণালয় নিজেদের মতো গবেষণা করবে। এছাড়া পরিকল্পামন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রাথমিক হিসাবে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২২৭ ডলারে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। প্রধানমন্ত্রীর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের সময় এমন একটি সংবাদ আমাদের জন্য খুবই আনন্দের।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ১০টি খাত। এর মধ্যে পরিবহণ ও যোগাযোগ খাতে বরাদ্দ ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি ৪১ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪৫ হাজার ৮৬৭ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ধরা হয়েছে গৃহায়ন ও কমিউনিটি সুবিধাবলি খাতে ২৩ হাজার ৭৪৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এছাড়া অন্যান্য খাতের মধ্যে শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ১৭৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, স্বাস্থ্য খাতে ১৭ হাজার ৩০৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, স্থানীয় সরকার ও পল্লি উন্নয়ন খাতে ১৪ হাজার ২৭৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ খাতে ৮ হাজার ৫২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা, কৃষি খাতে ৭ হাজার ৬৬৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা খাতে ৪ হাজার ৬৩৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

আগামী অর্থবছর সর্বোচ্চ বরাদ্দ পাওয়া ১০ প্রকল্প হচ্ছে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এছাড়া মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৬ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে ৫ হাজার ৫৩ কোটি টাকা। মেট্রোরেলে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাক। পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগে ৩ হাজার ৮২৩ কোটি ৫১ লাখ টাকা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু নির্মাণে ৩ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাক। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে ৩ হাজার ২২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। ডিপিডিসি এলাকায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে ৩ হাজার ৫১ কোটি ১১ লাখ টাকা এবং হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণে ২ হাজার ৮২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।

এডিপিতে যত প্রকল্প : এডিপিতে বরাদ্দসহ প্রকল্প সংখ্যা হচ্ছে ১৫১৫টি। এর মধ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের এডিপি থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে ১ হাজার ৩৯৬টি প্রকল্প, নতুন অনুমোদিত প্রকল্প ৩০টি এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা করপোরেশনের ৮৯টি প্রকল্প বরাদ্দ রয়েছে। বরাদ্দহীন অননুমোদিত নতুন প্রকল্প রয়েছে ৫৯৬টি, বৈদেশিক সাহায্য প্রাপ্তির জন্য অন্তর্ভুক্ত ১৪১টি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রকল্প ৮৮টি এবং সমাপ্তর জন্য নির্ধারিত প্রকল্প হচ্ছে ৩৫৬টি প্রকল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *