প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এলো বিদেশী কোম্পানি

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এলো বিদেশী কোম্পানি

তাজা খবর:

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এলো সব বিদেশী কোম্পানি। দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো বিদেশী শিল্পপ্রতিষ্ঠানও স্বল্প সুদে ঋণ পাবে। এ বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা শিথিল করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে। গতকাল এ বিষয়ে ব্যাংকগুলো নতুন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদেশী কোম্পানিগুলোকে স্বল্প সুদে ঋণের আওতায় আনায় তাদের উৎপাদন ব্যয় আরো কমে যাবে। এতে অসম প্রতিযোগিতায় পড়বে দেশীয় শিল্পগুলো। পাশাপাশি বর্ধিত হারে মুনাফা করে বেশির ভাগ মুনাফাই বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশীরা নিয়ে যাবে তারা। তাই এ বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশীয় সবধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে রফতানি বাণিজ্যে জড়িত বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও অতিক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের জন্য ২০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প ঋণে উদ্যোক্তাদের সুদ পরিশোধ করতে হবে ৪ শতাংশ, বাকি ৫ শতাংশ ব্যাংককে সরকার ভর্তুকি দেবে। আর বৃহৎ ও সেবা খাতে সাড়ে চার শতাংশ সুদে উদ্যোক্তা ঋণ পাবে আর বাকি সাড়ে ৪ শতাংশ সরকার ব্যাংককে ভর্তুকি দেবে। বৃহৎ ঋণের পরিধি ৪০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর জন্য স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার জন্য গত বছরের এপ্রিল মাসে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছিল। এ নীতিমালার আওতায় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা বেশির ভাগ ব্যাংকই গত বছর বাস্তবায়ন করতে পারেনি। নতুন অর্থবছরের জন্য আবারো ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে।

আগে প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার অনুমোদন ছিল। কিন্তু গতকাল ঋণ বিতরণের আওতা বাড়িয়ে এখন বিদেশী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের প্রভাবে দেশীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে বিদেশী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কমে গেছে আর্থিক সক্ষমতা। বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় বিদেশী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারিকৃত সার্কুলারে বলা হয়েছে, বিদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে আলোচ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিচালিত প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়েছে, রফতানি বাণিজ্যে জড়িত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ সামগ্রিকভাবে করোনাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে দেশীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি বিদেশী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্যই নীতিমালা শিথিল করা হয়েছে। বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজসমূহের আওতায় বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়নাধীন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধাসমূহ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল (বেজা) বেপজা ও বাংলাদেশ হাইটেক পাকর্কে অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি এসব অঞ্চলের বাইরে অবস্থিত শতভাগ বিদেশী মালিকানাধীন বা যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের স্বল্প সুদে ঋণ দিতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *