প্রতিটি জেলায় হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হবে: পলক

প্রতিটি জেলায় হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হবে: পলক

ডেস্ক নিউজ:

আইসিটি খাতে এই অভাবনীয় সাফল্যকে মুজিব শতবর্ষেরই উপহার হিসেবে মন্তব্য করে তথ্য প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, দেশের প্রতিটি জেলায় হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা শুরু হবে আগামী বছর থেকে। দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে তরুণরা শুধু চাকরি করবে না, তরুণরা এখন চাকরি দিবে।

শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) লালমনিরহাট শহরের সাপ্টানা এলাকায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার/ হাইটেক পার্ক নির্মাণের স্থান পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পরে তিনি জেলার হাতীবান্ধায় বাংলাদেশ-তুর্কী টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট’র উদ্বোধন করেন। এছাড়া জেলা শহরের সাপ্টানা মৌজায় ৩.৬৪ একর জমির ওপর আইটি পার্ক/ট্রেনিং তথা ইনকুবেশন সেন্টার নির্মাণের স্থান পরিদর্শন করেন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বাংলাদেশ এখন কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছে মন্তব্য করে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ তথ্যসেবা কেন্দ্র থেকে দুইশত প্রকার সেবা দিচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। পিছিয়ে পড়া বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীরা এখন থেকে প্রযুক্তির মাধ্যমে ই-মার্কেটিং এর সুবিধা নিয়ে নিজেদের পণ্য বাইরে বিক্রির সুযোগ পাবেন। দীর্ঘদিন নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত ছিটমহলবাসী এখন ভিডিওর মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছ থেকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবেন।

বাংলাদেশ এখন আর কারো সাহায্যের জন্য অপেক্ষায় থাকে না জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অর্থবছরে একশ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮টি শেখ কামাল প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নির্মাণকাজ চলমান, ১১টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। যেখানে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণী নিজে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অন্যকে চাকরি দেওয়ার সুযোগ পাবে। পর্যায়ক্রমে জেলা, উপজেলা, পৌরসভা তথা প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রযুক্তিসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, তুর্কী রাষ্ট্রদূত মুস্তাফা ওসমান তুরান, অতিরিক্ত সচিব বিপ্লব কুমার ঘোষ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমপি মোতাহার হোসেন, জেলা প্রশাসক আবু জাফর, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা ও আলোকিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী ইফতেখার হোসেন মাসুদ।

এছাড়া বিকালে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতায় ‘বাংলাদেশ-তুরস্ক কারিগরি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট’ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ অর্থ বছরের ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ৫০ কোটি ব্যয়ে ৮টি শেখ কামাল প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ কাজ চলমান। ১১টি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে। ২০২১ সালের মধ্যে ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। যেখানে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার নিজে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে অন্যকে চাকরি দিতে পারবে। পর্যাক্রমে জেলা উপজেলা পৌরসভা তথা প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রযুক্তি সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।

বিকেলে কুড়িগ্রামের বিলুপ্ত ছিটমহল দাসিয়ারছড়ায় দাসিয়ারছড়া বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডিজিটাল সার্ভিস ইমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার এ প্রকল্প শুরু করেন। তার সুযোগ্য সন্তান আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শে এ প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছি। আইসিটি সেক্টরে ১০ লাখ তরুণ-তরুণী কর্মসংস্থান হয়েছে। এরমধ্যে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার, প্রায় দুই লাখ সফটওয়্যার টেকনোলজিতে কাজ করছেন। এছাড়া এক লাখেরও বেশি ছেলে-মেয়ে কল সার্ভিস সেন্টারে কাজ করছেন। পাশাপাশি ৫০ হাজারও বেশি ছেলে-মেয়ে ই-কমার্সে কাজ করছেন।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, মুজিববর্ষে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে প্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ৪০ হাজার তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে কুড়িগ্রামে ৫০০ জন এলইডিপির প্রজেক্টের আওতায় প্রশিক্ষণ পাবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নতুন উপহার ‘স্ট্যান্ট অব বাংলাদেশ’, যেখানে তরুণরা চাকরি না খুঁজে, চাকরি দেবে। উদ্যোক্তা সৃষ্টি করবে।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক আরো বলেন, দীর্ঘ ৬৮ বছর পিছিয়ে থাকা বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীদের আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের জন্য ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে দ্বিতল ডিজিটাল সার্ভিস ইমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার মুজিববর্ষে উপহার।

তিনি বলেন, কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলায় সদ্য বিলুপ্ত ছিটমহলের প্রতিটি গ্রামে আজ আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সেবা গিয়েছে। সেখানে ৮টি স্কুল-মাদারাসায় ২০টি করে কম্পিউটার ও একটি করে ল্যাপটপ বিতরণ ও এক হাজার তরুণ-তরুণীকে আইসিটি প্রশিক্ষণ দিয়ে মডেল স্কুলে পরিণত করেছে সরকার।

এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেযারম্যান মো. জাফর আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জিলুফা সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদমর্যাদায়) মেনহাজুল আলম, ফুলবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সরকার, ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মাছুমা আরেফীন, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাজীব কুমার রায় ও উপজেলা সদর ইউপি চেয়ারম্যান হারুণ-অর-রশিদ প্রমুখ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *