প্রধানমন্ত্রীর ঘর পাচ্ছেন ঝুপড়ি ঘরের সেই বৃদ্ধ দম্পতি

প্রধানমন্ত্রীর ঘর পাচ্ছেন ঝুপড়ি ঘরের সেই বৃদ্ধ দম্পতি

তাজা খবর:

জীবনের শেষ বয়সে এসে পাহাড়ের নিচের ছোট্ট ঝুপড়ি ঘর একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধ দম্পতি সিরাজ মিয়া ও ফাতেমা বেগমের। প্লাস্টিক কাগজে মোড়ানো এই ঘরে যেন কষ্টের শেষ নেই। কষ্টের অবসান ঘটিয়ে এবার প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে এই দম্পতি। এমনই তথ্য জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

গত ৪ আগস্ট “পাহাড়ের নীচে রেখে ঝগড়া করে বৃদ্ধ দম্পতির একমাত্র ভরসা” শিরোনামে ডেইলি বাংলাদেশে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে ফুটে উঠে বৃদ্ধ দম্পতির ধন্য দশার চিত্র। এরপরই বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে।

পাশাপাশি ফেসবুকে বেশ আলোচনা সৃষ্টি করে প্রবীণদের এই কষ্টের গল্প। অনেকেই নিজ আইডি থেকে কমেন্ট ও শেয়ার করে অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান।

বৃদ্ধ দম্পতির খোঁজখবর নিতে শুক্রবার বিকেলে ছুটে যান ইউএনও রাজিব উল আহসান। উপজেলা কুল্লাগড়া ইউনিয়ন আড়াপাড়া গ্রামের বড় বড় পাহাড়ের মাঝে সমতল ভূমিতে প্লাস্টিকের মোড়ানো ছোট্ট কুঁড়ে ঘরে বৃদ্ধদের বসবাস দেখে প্রাথমিকভাবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিন ও আর্থিক সহায়তা করা হয়। একই সহায়তা পান পাশাপাশি থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন ফিরোজা খাতুনও।

পাশাপাশি দুই পরিবারের ঘরগুলো ঘুরে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে অসহায় পরিবারগুলোর খোঁজ খবর নেন তিনি। পরে দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমিতে বাস করা প্রবীণ দুই পরিবারকে প্রধানমন্ত্রী আশ্রয়ণ প্রকল্পের নতুন ঘর দেওয়া সহ সকল সুযোগ সুবিধা প্রদানের আশ্বাস দেন ইউএনও।

এদিকে নতুন ঘর পাওয়ার সংবাদ শুনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন অসহায় ঐই তিন প্রবীণ। আনন্দের চোখের জল ভিজে তাদের চোখ মুখ। মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে তারা প্রধানমন্ত্রীসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান তারা।

এই সময় অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত সাহা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, একাডেমিক সুপারভাইজার নাসির উদ্দিন, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ের নীচে প্লাস্টিক কাগজে মোড়ানো ঘরের বৃদ্ধ এই দম্পতি বসবাস করে আসছে। তাদের কোনো সন্তান নেই। আশপাশের মানুষের দেয়া সহায়তায় কোনরকম খেয়ে-পড়ে বেঁচে আছে মানুষগুলো। একদিন খেলে দুদিন না খেয়ে থাকে এরা। এত ছোট এই ঘর দু-একজন মানুষ স্বাভাবিক ভাবে এই ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকেন কষ্টসাধ্য। এই ঘরেই রান্না করা, খাওয়া-দাওয়া এবং বাঁশের তৈরি বিছানায় কোনরকমে থাকেন। অন্ধকারে সামান্য কুপি বাতির আলোয় রাত কাটান। একই পাহাড়ি এলাকা তার উপর বন্য প্রাণী ও জীবজন্তু প্রায়ই বাড়ির উপর দিয়ে চলাফেরা করে। এই নিয়ে তাদের পাশাপাশি আমরা আতংক থাকি কখন কি হয়।

তারা আরো জানান, তাদের মতই একই অবস্থা পাশের মানসিক ভারসাম্যহীন ফিরোজা খাতুনের। স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে অন্যের জমির উপর থাকেনা। মাটির তৈরি ঘর ভেঙে গেছে বেশিরভাগ অংশই। ভাঙ্গা টিন ভেদ করে বৃষ্টির পানিতে ভিজিয়ে ঘরের মেঝে। এই ঘরেই রাত কাটান ফিরোজা। স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারেন না তাই তার কষ্টের কথা কেউ তেমন একটা বুঝাও না। এই দুটি পরিবার নিয়ে সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় এখন বিষয়টি সবার নজরে এসেছে এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা খোঁজ খবর নিচ্ছেন। আমরাও অনেক খুশি আমরা চাই এই পরিবারগুলো যেন জীবনের শেষ সময়ে একটু সুখে শান্তিতে থাকতে পারে।

ইউএনও রাজিব উল আহসান ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, সংবাদমাধ্যমের বিষয়টি জানার পর পরই আমরা এই পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য সহায়তা প্রেরণ করেছি। তাছাড়া আমি নিজেও সরজমিনে গিয়ে প্রবীণদের খোঁজখবর নিয়েছি। আসলে পাহাড়ের নিচে ছোট্ট ঘরে যেভাবে দুই প্রবীণ মানুষ বসবাস করছে তা অনেকটাই মানবিক। তারা সামান্য প্লাস্টিক কাগজ কোনোরকমে বসবাস করছেন।

এ জন্য প্রাথমিকভাবে তাদের থাকার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে টিন ও নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশের মানসিক ভারসাম্যহীন ফিরোজা খাতুনের মাটির ঘরটিও ভেঙে গেছে। তাকেও আমরা সহায়তা প্রদান করেছি। আমরা এই অঞ্চলের একটি গুচ্ছগ্রাম তৈরির পরিকল্পনা এরইমধ্যে গ্রহণ করেছি। তখন তাদেরকে ওই স্থানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের নতুন দুইটি প্রদান করা হবে। এছাড়াও সরকারি সব সুবিধা তাদেরকে প্রদান করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *