প্রযুক্তি ক্ষেত্রে রাজশাহীতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন

প্রযুক্তি ক্ষেত্রে রাজশাহীতে নতুন দিগন্তের উন্মোচন

ডেস্ক নিউজ:

রাজশাহীতে বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কের শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন করেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি ট্রেনিং সেন্টারটির উদ্বোধন করেন।

এর মাধ্যমেই বহুল প্রতীক্ষিত হাইটেক পার্কের ভেতর প্রথম কোনো কার্যক্রম শুরু হলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজশাহীতে ৭২ হাজার বর্গফুট বিশিষ্ট ‘শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর এন্ড ট্রেনিং সেন্টার’-এ ইতোমধ্যে ৫টি কোম্পানিকে স্পেস বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যারা সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চিপ ডিজাইন করছে।

এই ভবনে স্টার্ট-আপদের জন্যও স্পেস রাখা হয়েছে। এই ইনকিউবেটর এন্ড ট্রেনিং সেন্টার’-এ ইতোমধ্যে ১০০ জন কাজ করছে। এখানে আরো প্রায় ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হবে। আর পুরো ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাই-টেক পার্ক’ বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১৪,০০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বদলে যাবে রাজশাহী।

এদিকে উদ্বোধন উপলক্ষে রাজশাহীতে ট্রেনিং সেন্টারের নিচতলায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে এ অনুষ্ঠানে সংযুক্ত হন। ট্রেনিং সেন্টারের উদ্বোধনের পর রাজশাহীবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ট্রেনিং সেন্টার থেকে ছেলে-মেয়েরা যে ট্রেনিং নেবে তার মাধ্যমে তারা নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারবে। তারা চাকরি নেবে না, চাকরি দেবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ছেলে-মেয়েদের আইটিতে দক্ষ করে তুলতে আমরা বাজেটে আলাদা ফান্ড রেখে দিয়েছি। তাছাড়া কর্মসংস্থান ব্যাংক ও এসএমই’র মাধ্যমে টাকা দিয়েও আমরা সুযোগ করে দিচ্ছি।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবীর খোন্দকার, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জিনাতুন নেসা তালুকদার, নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহীন আকতার রেনী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মোকবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক স্থাপনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা সংসদে একাধিকবার দাবি জানান। এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে এই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই রাজশাহী মহানগরীর জিয়ানগর এলাকায় ৩১ দশমিক ৬৩ একর জমির উপর ২৮১ কোটি ১৯ লাখ টাকা ব্যয়ে হাইটেক পার্কটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়।

অনুমোদিত প্রকল্প অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালির আদলে নির্মাণাধীন পার্কটির দু’টি অংশ থাকবে। মূল পার্কটি হবে ১০ তলা বিশিষ্ট এবং পাশে ৬২ হাজার বর্গফুট আয়তনের পাঁচতলা বিশিষ্ট ইনকিউবেটর কাম ট্রেনিং সেন্টার। প্রধানমন্ত্রী এই ট্রেনিং সেন্টারেরই উদ্বোধন করলেন। সামগ্রিকভাবে হাইটেকপার্কের পুরো প্রকল্পের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। পুরো কাজ শেষে এখানে ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যেই সব কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *