বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় হবে আশ্রয়কেন্দ্র

বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় হবে আশ্রয়কেন্দ্র

তাজা খবর:

বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জনিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০২১ উপলক্ষে এ ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়।

মো. এনামুর রহমান বলেন, বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এক ডেসিমাল জায়গায় একটি পাকা ঘর থাকবে। প্রত্যেকটা ঘরে একটি করে লাইটিনিং অ্যারেস্টার দেওয়া হবে, যাতে সতর্কবাতা শোনার ২০ থেকে ২৫ মিনিটের মধ্যে মানুষ সেই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারে।

বজ্রপাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করবেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বজ্রপাত আশ্রয়কেন্দ্রে কৃষক, মৎস্যজীবীরা সকালের নাস্তা করতে পারবে, দুপুরে খেতে পারবে। ঝড়-বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টির মধ্যেও আশ্রয় নিতে পারবে।

কেউ চাইলে সেখানে বিশ্রামও নেওয়া যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ৪৭৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পটির সম্ভব্যতা যাচাই করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বজ্রপাতে খোলা মাঠ ও হাওরে বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বজ্রপাতে দুই হাজার ৮০০ জন মারা গেছেন।

এর মধ্যে ২০১১ সালে ১৭৯ জন, ২০১২ সালে ২০১ জন, ২০১৩ সালে ১৮৫ জন, ২০১৪ সালে ১৭০ জন, ২০১৫ সালে ২২৬ জন, ২০১৬ সালে ৩৯১ জন, ২০১৭ সালে ৩০৭ জন, ২০১৮ সালে ৩৫৯ জন, ২০১৯ সালে ১৯৮ জন, ২০২০ সালে ২৫৫ জন এবং ২০২১ সালে এখন পর্যন্ত ৩২৯ জন মারা গেছেন বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৫ সালে বজ্রপাতকে দুর্যোগের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। বজ্রপাত যখন হবে মেঘের মধ্যে গুরুগুরু ডাক হবে। এই সময় পজেটিভ-নেগেটিভ চার্জ তৈরি হয়। এই চার্জ তৈরি হওয়ার ৪০ মিনিট পরে বজ্রপাত হয়। এই গুরুগুরু ডাক শুনলে মানুষ যাতে ঘরে থাকে বা মেঘ দেখে যাতে ঘরে থাকে বা সংবাদ মাধ্যমে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে খবর প্রচারিত হলে মানুষ যাতে ঘর থেকে বের না হয় সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করা হবে।

৪০ মিনিট আগে মেশিন বজ্রপাত শনাক্ত করতে পারে এবং কোথায় হবে তা বলতে পারে জানিয়ে সরকারের এ প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এই সতকর্তা দেওয়ার মেশিন বসাব। প্রাথমিকভাবে বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা বিশেষ করে হাওর এলাকায় বসানো হবে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে যাতে মানুষের মোবাইলে সতর্কবার্তা যেতে পারে সেজন্য অ্যাপ তৈরি করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *