বরিশালে অত্যাধুনিক আইটি সেন্টার, তৈরি হবে ২ হাজার দক্ষ উদ্যোক্তা

তাজা খবর:

আগামী বছর থেকে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আইটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করবে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার। এতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরিতে এই প্রতিষ্ঠান যেমন ভূমিকা রাখবে, তেমনি এর মাধ্যমে একাডেমিক ও আইটি শিল্পের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি হবে। এমনটি মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই লক্ষ্যে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় প্রায় আড়াই একর জমির ওপর ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের অত্যাধুনিক ছয়তলা ভবন। ভবনের সঙ্গে গড়ে তোলা ক্যানটিনের আকৃতি দেওয়া হয়েছে নৌকার আদলে। গোলাকৃতির ভবনের বাইরের অংশটি সম্পূর্ণ গ্লাস দিয়ে মোড়ানো। ভবনটির শৈল্পিক সৌন্দর্য যে কাউকে আকৃষ্ট করবে। ভবনের মাঝ বরাবর ফাঁকা রাখা হয়েছে। এজন্য ভবনের ওপরে লাগানো হয়েছে দুই কোটি টাকা মূল্যের গম্বুজ। যা বাইর থেকে আমদানি করতে হয়েছে। এছাড়া নিজস্ব বৈদ্যুতিক সুবিধাসহ ইন্টারনেটের যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম পর্যায়ে দুই হাজার দক্ষ আইটি উদ্যোক্তা তৈরি হবে। দক্ষিণের যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে কেন্দ্রে থাকবে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, ২-ডি ও ৩-ডি অ্যানিমেশন, জাভা প্রোগ্রামিং, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন, ডিজিটাল মার্কেটিং, ই-কমার্স কন্ডাক্টিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর উন্নতর প্রশিক্ষণ। বিভিন্ন সেক্টরে প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণরতদের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্র তৈরির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ফ্রিল্যান্সিংসহ পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। এখান থেকে ট্রেনিং শেষ করে মেধার ভিত্তিতে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগ থাকছে তাদের।

এদিকে, প্রতি বছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন দুই লাখ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং মাদ্রাসা থেকে আরও ৫০ হাজার শিক্ষার্থী পাস করেন। তাদের বড় একটি অংশই প্রযুক্তির বাইরে থেকে যান। শেখ কামাল আইটি কেন্দ্র চালু হলে এক্ষেত্রে ঘটবে বিশাল পরিবর্তন।

বরিশাল বিজ্ঞান আন্দোলন মঞ্চের সংগঠক বিজন সিকদার বলেন, ‌‘কোটি কোটি টাকা খরচ করে প্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে চলবে না। এখন থেকে শিক্ষা নিয়ে যারা বের হবেন তারা যেন এই শিক্ষা কাজে লাগিয়ে অর্থবহ করতে পারেন সে বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। তা না হলে কোটি কোটি টাকা খরচ দেশের কোনও কাজে আসবে না।’

বিডি নেটওয়ার্ক’র সিইও প্রকৌশলী জিহাদ রানা বলেন, ‘শেখ কামাল আইটি সেন্টারে জনবল নিয়োগে বরিশালসহ বিভাগের ছয় জেলার মেধাবীদের প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানাই। এছাড়া এই আইটি সেন্টার থেকে যেসব উদ্যোক্তা বের হবেন তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানাই।’

আমাদের ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আউটসোর্সিংয়ের কাজ করছে জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান বলেন, ‘শেখ কামাল আইটি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হলে এখান থেকে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রযুক্তি সহায়তা পাওয়া যাবে। বরিশালের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে শেখ কামাল আইটি সেন্টারকে হাব হিসেবে ব্যবহার করে কর্মসংস্থান খুঁজে নিতে পারবেন। এতে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে আইসিটি সেক্টর।’

গত ১২ ডিসেম্বর ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত অত্যাধুনিক শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় বরিশাল প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার আমিন উল আহসান, ডিআইজি আক্তারুজ্জামান, পুলিশ কমিশনার সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর হোসেন ও পুলিশ সুপার ওয়াহিদুল ইসলাম।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্য শেষ হওয়ার পর র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আইটি সেন্টারে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর নাম সংবলিত উদ্বোধনী ফলকের সামনে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া মোনাজাত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *