বাংলাদেশীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো

বাংলাদেশীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো

তাজা খবর:

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। শুক্রবার এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ তথ্য জানান। সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশে দেয়া এক ভিডিওবার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশীদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা আমাদের জানিয়েছেন, যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের মেয়াদ বাড়াবেন। এমনকি প্লেনের টিকেট কেটে থাকলেও সেটা অনার করবেন। খবর বাংলানিউজের।

ড. মোমেন বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার পাসপোর্ট প্রিন্ট করে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। এসব পাসপোর্ট মিশনে গেলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপ হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, আমিরাত থেকে ভারতের দুই লাখ প্রবাসীকে ফেরত পাঠাচ্ছেন। পাকিস্তানের হাজার হাজার প্রবাসীকে তারা ফেরত পাঠাচ্ছে। তবে আমি অনুরোধ করেছি, প্রবাসী বাংলাদেশীদের ফেরত না পাঠিয়ে তাদের কৃষিকাজে লাগাতে পারেন। প্রবাসী বাংলাদেশীরা সবুজায়নে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারেন বলেও মন্তব্য করেন ড. মোমেন।

অস্ট্রেলিয়াকে বিনিয়োগের আহ্বান ॥ বিনিয়োগের আকর্ষণীয় ও অনুকূল পরিবেশের উল্লেখ করে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন কোম্পানিকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিসে আন পেইনির সঙ্গে এক ফোনালাপে এ আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

টেলিফোনে ড. মোমেন বলেন, এ অঞ্চলের যে কোন দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ লাভজনক। এখানে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বিদ্যমান। অন্য দেশ থেকে কোন কোম্পানি এ দেশে বিনিয়োগ স্থানান্তর করতে চাইলেও বাংলাদেশ স্বাগত জানাবে। মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক সমস্যা করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করতে চায়। বাংলাদেশ ১০০টি অথনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করছে, অস্ট্রেলিয়ার বিনিয়োগকারীরা এসব ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করলে তারা যেমন লাভবান হবে, বাংলাদেশীদেরও কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া বাংলাদেশে ২৮টি হাইটেক পার্ক ও তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠী রয়েছে। ফোনালাপে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা কামনা করে বলেন, রোহিঙ্গারা নিজ ভূমি মিয়ানমারে ফিরে গেলেই কেবল তাদের ভবিষ্যত নিশ্চিত হতে পারে। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। সম্পূর্ণ মানবিক কারণে বাংলাদেশ সাময়িকভাবে তাদের আশ্রয় দিয়েছে। মিয়ানমারে নির্যাতিত হয়ে রোহিঙ্গারা গভীর সমুদ্রে আশ্রয় নিলেও কোন দেশ তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসে না। কিন্তু অন্যান্য দেশেরও উচিত তাদের দায়িত্ব নেয়া।

‘মানবিক কারণে সমুদ্র থেকে উদ্ধার করা কিছু সংখ্যক রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে রাখা হয়েছে। সাইক্লোন আম্পানে সারাদেশে ব্যাপক ক্ষতি হলেও ভাসানচরে এর কোন প্রভাব পড়েনি। সেখানকার রোহিঙ্গারা কিছু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারবে।’ সম্প্রতি ৪৮টি দেশের সংগঠন ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা যাতে ১.৫ ডিগ্রীর বেশি বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে এ ফোরামের উদ্যোগের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার সহায়তা কামনা করেন। ড. মোমেন উল্লেখ করেন, জাতিসংঘে কমনওয়েলথের কোন অফিস বা প্রতিনিধি না থাকায় জাতিসংঘের আলোচনায় এ সংস্থা সদস্য রাষ্ট্রগুলোর স্বার্থ রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে। জাতিসংঘের আলোচনায় প্রতিনিধিত্ব থাকলে সংস্থা হিসেবে কমনওয়েলথের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে। এ সময় ড. মোমেন করোনা মহামারী অবস্থায় অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত ছাত্রসহ সে দেশে বসবাসরত বাংলাদেশীদের সহযোগিতার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *