বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে বহুমাত্রিক রূপ দিতে চায় সৌদি আরব

বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে বহুমাত্রিক রূপ দিতে চায় সৌদি আরব

তাজা খবর:

ঐতিহাসিক ভাতৃপ্রতিম সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে বহুমাত্রিকতার রূপ দিতে বাংলাদেশের সাথে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সৌদি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আদেল আল জুবায়ের। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ইস্যুতে অব্যাহত সমর্থনের জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। গত রোববার রিয়াদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আদেল আল জুবায়ের এ অভিমত ব্যক্ত করেন। শাহরিয়ার আলম তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সৌদি আরবে রয়েছেন।

সৌদি প্রতিমন্ত্রী স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বাংলাদেশের জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে গত এক দশকে বাংলাদেশের অভাবনীয় উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অর্জনের প্রশংসা করেন তিনি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে বাংলাদেশের উন্নীত হওয়াকে সৌদি প্রতিমন্ত্রী বর্তমান সরকারের সফলতা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।

শাহরিয়ার আলম বলেন, দু’দেশের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশ-সৌদি আরবের সম্পর্ক আজ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সমর্থন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তা আরো ঘনিষ্ঠ হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুতি কর্তৃক সৌদি আরবে হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি সৌদি আরবের প্রতি বাংলাদেশের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশের সাথে সৌদি আরবের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধিতে বি-টু-বি (বিজনেস টু বিজনেস) সংলাপের ওপর জোর দেন শাহরিয়ার আলম। তিনি বাংলাদেশের পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি ও সৌদি কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের আহ্বান জানান, যা সৌদি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অবারিত সুযোগ তৈরি করবে। খুব শিগগির এটি সই হবে বলে সৌদি প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

শাহরিয়ার আলম আফ্রিকার দেশগুলোতে বাংলাদেশের ‘চুক্তিভিত্তিক খামার’ উদ্যোগে সৌদি যৌথ বিনিয়োগের প্রস্তাব দিলে আদেল আল জুবায়ের স্বাগত জানান।
সৌদি আরবে বসবাসরত বাংলাদেশীদের করোনা মহামারীর সময়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও করোনা টিকা সুবিধা দেয়ায় সৌদি বাদশাহ ও যুবরাজের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শাহরিয়ার আলম ঢাকায় সৌদি দূতাবাসে একজন কালচারাল অফিসার নিয়োগের গুরুত্বারোপ করে বলেন, এতে সেবাগ্রহীতারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিল্লির পরিবর্তে বাংলাদেশ থেকে সত্যায়িত করতে পারবেন।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে অপেক্ষমাণ চুক্তি ও এমওইউগুলো দ্রুত সম্পাদনের জন্য দুই প্রতিমন্ত্রী একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এফ এম বোরহান উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শাহরিয়ার আলম ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তিনি এ উপলক্ষে আয়োজিত ভার্চুয়াল আলোচনায় যোগ দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *