বান্দরবানের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়নের ছোঁয়া

বান্দরবানের প্রতিটি সেক্টরে উন্নয়নের ছোঁয়া

তাজা খবর:

এক সময় পার্বত্য জেলা বান্দরবান পিছিয়ে থাকলেও ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকারের পার্বত্য শান্তি চুক্তি সম্পাদনের পর বদলে যেতে থাকে। একের পর এক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে উন্নয়নের মহাসড়কে এখন বান্দরবান। বর্তমান সরকারের সময়ে জেলার শিক্ষা,স্বাস্থ্য, পর্যটন, বিদ্যুত, কৃষি, সড়ক যোগাযোগ, তথ্য-প্রযুক্তি ও ক্রীড়াসহ প্রায় প্রতিটি সেক্টরে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া।

বান্দরবান জেলা ১৯৫১ সালে মহকুমা হিসেবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করে। এটি রাঙ্গামাটি জেলার প্রশাসনিক ইউনিট ছিল। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালের ১৮ এপ্রিল, তৎকালীন লামা মহকুমার ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক সীমানাসহ সাতটি উপজেলার সমন্বয়ে বান্দরবান পার্বত্য জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। জেলার আয়তন ৪৪৭৯.০৩ বর্গ কিমি। ৩৪টি ইউনিয়ন, দুটি পৌরসভা ও সাতটি উপজেলা নিয়ে ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও বাঙালীসহ ৪,০৪,০৯৩ লোকসংখ্যার বসবাস। মূলত পর্যটন শিল্প ও কৃষিকে ঘিরে এই জেলার অর্থনীতি সচল থাকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা আর বান্দরবান ৩০০ নং আসন থেকে টানা ৬ বার নির্বাচিত এমপি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৮ সালের মধ্যেই বান্দরবানে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি কাজ বর্তমানে চলমান আছে। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে অপার সম্ভাবনা ও সৌন্দর্যের জেলা বান্দরবান দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে নিজের অবস্থান সুসংহত করবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা।

সূত্রে জানা যায়, নতুন নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে ওঠার কারণে পর্যটন নগরী হিসাবে খ্যাত বান্দরবানে গত ১০ বছরে পর্যটকের আগমন বেড়েছে বহুগুণ। সেই হিসাবে বেড়েছে যানবাহন। কিন্তু যানবাহনের তুলনায় জেলার প্রধান সড়ক চওড়া না হওয়ার কারণে গাড়িগুলো অনেক সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আর সেই সমস্যা নিরসনে ১শ’ ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে সরকার। বান্দরবান থেকে কেরানিহাট সড়কটি বর্তমানে প্রস্থ আছে ৫.৫ মিটার (১৮ ফুট) এটিকে ৭.৩ মিটার প্রস্থ (২৪ফুট) বাড়ানো হচ্ছে। সড়কের সৌন্দর্য বর্ধনে সড়কের উভয়পাশে বন বিভাগ কর্তৃক লাগানো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ফুল গাছ।

গত ৯ সেপ্টেম্বর জেলার আলীকদমে প্রায় ৪৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর। উন্নয়ন বোর্ডের ১৩ টি, পার্বত্য জেলা পরিষদের ৬ টি, এলজিইডি ১টিসহ মোট ২০টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ও উন্নয়ন বোর্ডের ৫ টি, এলজিইডি ১টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

বান্দরবানে ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে চতুর্থ বৃহৎ নার্সিং কলেজ ভবন উদ্বোধন করা হয়। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা সদরে হোমিওপ্যাথিক কলেজের ভবন, ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে বান্দরবান সরকারী কলেজের অডিটরিয়াম ও লাইব্রেরি ভবন নির্মাণের কাজ চলমান এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের বাস্তবায়নে জেলা সদরে শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট কলেজসমূহের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একই কলেজে ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে স্যানিটারি, পানি সরবরাহ এবং অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক কাজসহ দ্বিতল প্রশাসনিক ভবনের উদ্বোধন করা হয়। ইতোমধ্যে জেলায় মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করছে সরকার।

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে কচ্ছপতলি এলাকার বাসিন্দা উনিহ্লা মার্মা বলেন, উপজেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার যথেষ্ট উন্নয়ন হয়েছে, যার ফলে কৃষিপণ্য এখন জেলার বাইরে পাঠানো যায় অনায়াসে।

আরও জানা গেছে, জেলায় উল্লেখযোগ্য কাজগুলোর মধ্যে সদর উপজেলার রেইচা এলাকায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পিটিআই কমপ্লেক্স নির্মাণ, ২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নার্সিং কলেজ, প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে অরুণ সারকী টাউন হল, গণপূর্ত বিভাগ কর্তৃক ৮৭ লাখ ৬০ হাজার টাকায় ডরমেটরি ভবন এবং ৫২ লাখ টাকায় ১ম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণ করে, জেলা সদরের সুয়ালকে উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ১শ’ একর জমিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভূমির ওপর ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে একাডেমিক ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান, সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস তৈরি করা হবে। বান্দরবান সরকারী কলেজের একাডেমিক ভবন, থানচি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ভবন, রুমা কলেজ, রোয়াংছড়ি কলেজের ভবন নির্মাণ, জেলা পরিষদের বিভাগের জন্য অফিস ভবন, কনফারেন্স হল নির্মাণ, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জন্য ভবন, দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য উপজেলাগুলোতে ছাত্রাবাস নির্মাণ, স্টেডিয়ামের গ্যালারি নির্মাণ, প্রায় ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রুমা সাঙ্গু সেতু, ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে থানচি সাঙ্গু সেতু, অসংখ্য গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ, প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট থানচি উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণ, জেলার ৬টি উপজেলায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, তিন উপজেলায় প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে থানা ভবন নির্মাণ, পুলিশ অফিসার্স মেস ৪ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়।

আলীকদমের ৩ নং নয়াপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার অন্য সরকারের চেয়ে ভাল কাজ করেছে। আমার এলাকায় বিদ্যুত আসবে এটা কখনও ভাবিনি, সরকারের কল্যাণে আমরা ব্রিজ এবং বিদ্যুত পেয়েছি।

একসময় অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুতবিহীন উপজেলা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এক উপজেলার নাম ছিল জেলার থানচি উপজেলা। কিন্তু বর্তমান সরকারের সময়ে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে বিদ্যুতায়ন করে অন্ধকারাচ্ছন্ন থানচিকে আলোকিত করেছে। উপজেলাটির বড় মদক ও নাফাকুমে পার্বত্য জেলা পরিষদ কর্তৃক ২টি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করার কারণে সেখানে বাড়ছে পর্যটকের আগমন। উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে রোয়াংছড়ি-রুমা সড়ক। সড়কপথে জেলা সদর থেকে রুমায় যেতে যেখানে বর্তমানে ৪ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়, সেখানে নতুন এ সড়ক নির্মাণের ফলে রোয়াংছড়ি হয়ে ১ ঘণ্টায় রুমা যাওয়া যাচ্ছে। ফলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে রুমার তিনাপ সাইতার, কেওক্রাডং ও বগালেকসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। সাঙ্গু নদীর ওপর ৫০ কোটি টাকায় আরও ৩টি ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। উন্নয়ন বোর্ড থেকে আরও সাড়ে ১৮ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের প্রস্তাব অনুমোদনের অপেক্ষা আছে।

জেলার থানচির সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খামলাই ¤্রাে বলেন, থানচিতে যেকোন সময়ের চেয়ে ভাল উন্নয়ন হয়েছে, তবে এখন আমরা পরিকল্পিত উন্নয়ন চাই।

আরও জানা গেছে, সেনাবাহিনী কর্তৃক ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে থানচি-আলীকদম সড়ক নির্মাণ, ২কোটি টাকা ব্যয়ে থানচি-বলিপাড়া রাস্তা নির্মাণ, ১ কোটি টাকা ব্যয়ে থানচি-রুমা-বগালেক সংযোগ সড়ক নির্মাণ, থানছি ও রুমায় প্রায় ১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ। আলীকদম সদর ইউনিয়নের আলীকদম-থানচি সড়কের ১৩ কিমি অংশ হতে দোছড়ি যাওয়ার ৮ কিমি রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে ৯ কোটি ৬২ হাজার অর্থ ব্যয়ে। জেলার ৩৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮২৮.৬৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি ইউপি পরিষদের কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। কৃষি উন্নয়নে শীলক খালের উপরে ৫.৭৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮মি: দীর্ঘ রাবার ড্যাম নির্মাণ করা হয়, যার ফলে অনাবাদি জমি হয়ে চাষাবাদযোগ্য। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড বান্দরবান ইউনিটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ইয়াছির আরাফাত ও প্রকল্প পরিচালক আব্দুল আজিজ বলেন, বান্দরবানে উন্নয়ন হয়নি এমন কোন এলাকা নেই, জেলার আনাচে-কানাচে উন্নয়ন কাজ এখন দৃশ্যমান, আরও নিত্যনতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে।

আরও জানা গেছে, জেলায় অসংখ্য কমিউনিটি ক্লিনিক, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, ক্যায়াং, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়, প্রাণিসম্পদ বিভাগে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে কয়েকটি ভবন এবং নির্মাণ করা হয়েছে অত্যাধুনিক ২টি পৌরসভার ভবন। সরকারীকরণ করা হয় জেলার বেশ কয়েকটি কলেজ ও হাই স্কুলকে।

অন্যদিকে আলীকদমের রোয়াম্ভু ও নয়াপাড়া বিদ্যুত লাইন সংযোজন, আলীকদমে সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে পানি শোধনাগার নির্মাণসহ অসংখ্য উন্নয়ন কাজ শেষ করা হয়। স্বাধীনতার পর ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে থানচি উপজেলায় বিদ্যুত সরবরাহ শুধু থানচি নয় জেলাবাসীর জন্য ঐতিহাসিক ঘটনা। দুর্গম বিদুতবিহীন এলাকায় সোলার প্যানেল বিতরণ করা হয়, যা এখনও অব্যাহত আছে। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে জেলার ৭টি উপজেলার অসহায় মানুষ পাচ্ছে নতুন ঘর। শিক্ষার উন্নয়নে ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বান্দরবানসহ অপর দুই পার্বত্য জেলার ২১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়।

বান্দরবান এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুস শাহাদাৎ হোসেন মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, গত ১২ বছরে বান্দরবানে দ্বিগুণ উন্নয়ন কাজ হয়েছে, আগের কোন সরকারের সময়ে সেই কাজ হয়নি।

আরও জানা গেছে, বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের পুলপাড়া এলাকায় ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে গার্ডার সেতু ও প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের নীলাচল সড়কে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়। উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে জেলা শহরের সেগুনবাগিচা এলাকায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে দেড় একর জমি নিয়ে শিশুদের বিনোদনের জন্য অত্যাধুনিক শিশু পার্ক নির্মাণ করা হয়। জেলা শহরের প্রবেশ মুখে বাস স্টেশন এলাকায় যাতায়াতের সুবিধার্থে পার্বত্য উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩০০ ফুট লম্বা টানেল নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। রোয়াংছড়ি থেকে রুমা উপজেলা পর্যন্ত ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে (জিওবি অর্থে) পল্লী উন্নয়ন সড়ক নির্মাণ করা হয়। ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সদর হাসপাতাল ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের কাজ। আলীকদম- জানালী পাড়া-কুরুকপাতা ঝিড়ি পোয়ামুহুরী সড়ক ৩৭৬ কোটি ও থানচি-রেমাক্রি-মদক-লিক্রি সড়ক প্রায় ৪৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ কাজ চলমান আছে। জেলা শহরের জজকোর্ট থেকে সাঙ্গু সেতু পর্যন্ত বড় ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।

জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নে ৭৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তরের উদ্বোধন। গত ৩০ জানুয়ারি এলজিইডির ৫৪ কোটি ২০লাখ টাকার ২১টি প্রকল্প এবং উন্নয়ন বোর্ডের ১৬ কোটি ৮০ লাখ টাকার ৫টিসহ মোট ২৬টি প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর। গত ৩০ ডিসেম্বর পার্বত্যমন্ত্রী ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে এলজিইডি’র ১০টি প্রকল্প, ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন বোর্ডের ৭টি প্রকল্প, ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বত্য জেলা পরিষদের ৬টি প্রকল্প উদ্বোধন করেন। ৯ কোটি ৩০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে রোয়াংছড়ি-বেঙছড়ি সংযোগ সড়কের তারাছা খাল ও রাখইংক্ষ্যং খালসহ ৩টি গার্ডার সেতু নির্মাণ, ১৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে বেঙছড়ি সড়ক উন্নয়ন ও ৬ কোটি ৮০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ে ঘেরাউ সড়ক নির্মাণে লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ করছে এলজিইডির প্রকৌশল বিভাগ।

অন্যদিকে বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম এলাকায় ২ হাজার ৫০০টি সোলার সিস্টেম দেয়া হবে। বিনামূল্যে এই সোলার সিস্টেম প্রদানের ফলে বিদ্যুতবিহীন বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকার স্থানীয়রা উপকৃত হবে। গত ১৯ আগস্ট সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় তিন পার্বত্য জেলার জন্য ১০০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ৪০ হাজার সোলার হোম সিস্টেম ও ৩২০ ওয়াট পিক ক্ষমতাসম্পন্ন ২ হাজার ৫০০ সোলার কমিউনিটি সিস্টেম স্থাপন করা হবে। সরকারের পাশাপাশি জেলা শহরে ৪টি বেসরকারী ইন্টারনেট ক্যাবল অপরেটর তাদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।

তিন পার্বত্য জেলার কোন এলাকা আর বিদ্যুতবিহীন থাকবে না। তিন পার্বত্য জেলায় বিদ্যুত ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে ৫৭৫ কোটি টাকার বিদ্যুত উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে বলে জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

এদিকে তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়া থেকে পিছিয়ে নেই বান্দরবান। জেলায় অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপনের কাজে হাত দিয়েছে সরকার। গত ৯ জুন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৬তম বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রকল্পটির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শামসুল আরেফিন।

বৈঠক শেষে শামসুল আরেফিন জানান, দুর্গম এলাকায় স্থায়ী নেটওয়ার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে টেলিযোগাযোগ সুবিধা বঞ্চিত এলাকাসমূহের ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভিটি স্থাপন (কানেক্টেড বাংলাদেশ) প্রকল্পের অধীন পার্বত্য অঞ্চলের তিনটি জেলায় (বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি) মোট ৫৯টি ইউনিয়নে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছে, আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে, বান্দরবান হবে দেশের সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ জেলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *